‘বাজার নিয়ে আতঙ্ক নয়, প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে’

0
1316
বিএসইসি ভবনে চেয়ারম্যান

সিনিয়র রিপোর্টার : পুঁজিবাজার নিয়ে আতঙ্ক নয় বরং প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে বলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) ড. এম খায়রুল হোসেন। তিনি বলেন, বাজার উন্নয়নে কয়েক বছরে রেগুলেটরি সক্ষমতা অনেক বাড়ানো হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির গভর্নেন্স, স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ (ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন) করা হয়েছে। মার্কেট মনিটরিংয়ের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে সুশাসন বেড়েছে, যা পুঁজিবাজারের সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যালয়ে সম্প্রতি কথা হলে পুঁজিবাজার উন্নয়নের সামগ্রীক চিত্র তুলে ধরেন বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। তিনি বলেন, সব কিছুতে এখন ট্রান্সপারেন্সি বাড়ায় বিনিয়োগকারীসহ স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরী হয়েছে। এছাড়া ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) করায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদেরও আস্থার স্থল গড়তে আমরা সক্ষম।

বিশ্বের অন্যকোন দেশে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের মতো আকর্ষণীয় রিটার্ন পাওয়া যায়না বলেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের শেয়ারবাজার বিনিয়োগে আকৃষ্ট করছে। সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার চীন বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে এসেছে। এছাড়া বিদেশী আরো বিনিয়োগকারী এখানে বিনিয়োগের জন্য যোগাযোগ করছেন।

কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ৭ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন ড. এম খায়রুল হোসেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, শেয়ারবাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ৭ বছরে পাবলিক ইস্যু রুলসের আধুনিকায়ন, উদ্যোক্তা-পরিচালকদের অসৎ উদ্দেশ্য প্রতিরোধে বোনাস শেয়ার বিক্রিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এরমধ্যে বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে বিনিয়োগ শিক্ষা, নিরীক্ষার মানোন্নয়নে প্যানেল অডিটরস গঠন করা হয়। প্রত্যেক কোম্পানিতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে যুগোপযোগী প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের দিকনির্দেশনা (সিজিজি) জারি করা হয়েছে।

বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, শেয়ারবাজারের উজ্জল ভবিষ্যত এবং প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে আছি। এক্ষেত্রে সম্প্রসারণের অনেক সুযোগ রয়েছে। এখানে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শেয়ারবাজারের কোন বিকল্প নেই। আর বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে সবাই শেয়ারবাজারের প্রতি ঝুঁকবে।

অসৎ উদ্দেশ্যে শেয়ার লেনদেন সম্পর্কে তিনি বলেন, অত্যাধুনিক সার্ভিলেন্স সফটওয়্যার স্থাপন করায় সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। শেয়ারবাজারে ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের মতো ধস সৃষ্টির আর সুযোগ নাই। বিগত কয়েক বছরে তা নানা সংস্কারের মাধ্যমে ভিত্তি মজবুত করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষককে বাজার উন্নয়নে দুই দফায় বিএসইসি চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান কমিশনের কাজের সফলতায় বিএসইসি ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনসে (আইওএসসিও) বিএসইসি ‘এ’ ক্যাটাগরি অর্জন করেছে।

প্লেসমেন্ট শেয়ারের আইন সংস্কার ও উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের নির্দেশনা জারি এবং শেয়ার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইবুন্যাল গঠন করা হয়।

বাজার উন্নয়নে কমিমনের বিশেষ ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ইনভেষ্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) ২ হাজার কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।

তবে জিডিপিতে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের অবদান অনেক (২০ শতাংশ) কম বলে জানান খায়রুল হোসেন। বাংলাদেশের ২০ শতাংশ এবং হংকংয়ে ৪০০ শতাংশ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এখনো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী নির্ভর। যেখানে বিদেশীদের লেনদেন ৫ শতাংশ।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ থাকে ৭০-৮০ শতাংশ এবং বিদেশীদের লেনদেনের অংশ থাকে ৪০ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে আমাদের দেশেও হবে বলে বলেন তিনি।

বন্ড মার্কেটকে সেকেন্ডারি মার্কেটে আনতে কাজ চলছে। এগুলোকে সেকেন্ডারি মার্কেটে আনা হবে বলে জানান পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here