ইমরান হোসেন:  আবু আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য প্রাক্তন প্রফেসর, অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশের অন্যতম পুঁজিবাজার বিশ্লেষক। দেশের অর্থনীতি এবং শেয়ার বাজার নিয়ে নিরন্তন চলছে তাঁর গবেষণা। সম্প্রতি স্টক বাংলাদেশকে পুঁজিবাজার নিয়ে জানালেন তার কিছু বিশ্লেষন—

স্টক বাংলাদেশ:  আমরা দেখেছি গত বছরে প্রায় ২৪% সূচক বেড়েছে কিন্তু অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে প্রফিট নাই! বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন অনুগ্রহ করে?

আবু আহমেদ: খুব ভাল একটি পয়েন্ট। এটার কারণ কয়েকটি। এক. বিনিয়োগকারীরা হাই প্রাইজে ব্যাংকের শেয়ার কিনেছে (সূচক মূলত ব্যাংকের শেয়ারের দাম বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে) দুই. তারা মার্জিন লোন নিয়ে শেয়ার বাই করেছে। ফলে তাদের সূদের হার ক্যাপিটাল গেইন থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। অতএব তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া সূচকের বৃদ্ধিতে হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানির ভূমিকা।

 স্টক বাংলাদেশ: মার্কেটের বর্তমান অবস্থায় মার্জিন লোন নেয়া বিনিয়োগকারীরা কিভাবে মুক্তি পাবেন বা ভাল অবস্থায় থাকবেন?

আবু আহমেদ: দেখুন মার্জিন লোন নিয়ে প্রফিট করা অতো সহজ নয়, অনেক কিছু জানতে হয়, দক্ষ হতে হয়। আর মার্কেট কনডিশন ফেভারে (আপট্রেন্ডে) না থাকলে এটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। বাজার থেমে গেলে মার্জিন লোন হয় কিলার।

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বা লোন ব্যবসায়ীরা লোন দেওয়ার জন্য বসে আছে এবং তাতে তাদের দুই দিক দিয়ে লাভ। এক. লোন ব্যবসা জমজমাট। দুই. কমিশন ব্যবসা। বিনিয়োগকারীরা কেন (প্রযাপ্ত দক্ষ না হয়ে) লোন নিবে?মার্কেট কনডিশন বিবেচনা করতে হবে।

স্টক বাংলাদেশ:  মার্কেটের ডিভিডেন্ট ঈল্ড ও সূদের হারের ঈল্ড বিবেচনায় মার্কেট কেমন থাকা উচিৎ?

আবু আহমেদ: বিশ্বব্যাপি ক্যাপিটাল মার্কেটের ডিভিডেন্ট ঈল্ড সূদের হারের নিচেই থাকে। কারণ ক্যাপিটাল মার্কেটে ডিভিডেন্ট ঈল্ডের সাথে মূলধনী লাভ (ক্যাপিটাল গেইন) হয় সেখানে সূদের ক্ষেত্রে সে সুয়োগ নাই।

আমি মনে করি সূদের হরের তুলনায় মার্কেটে ডিভিডেন্ট ঈল্ড দুই- তৃতীয়াংশ হওয়া উচিৎ বাকী একাংশ মূলধনী লাভের সাথে সমন্বয় হবে।

স্টক বাংলাদেশ: সাম্প্রতিক সূদের হার বাড়ছে। অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারে এর কী প্রভাব হবে?

আবু আহমেদ: সূদের হার বাড়লে প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ কমবে আবার পুঁজিবাজার থেকে টাকা উঠিয়ে, মানুষ তাদের টাকা নিয়ে ব্যাংকে ডিপোজিটে, সঞ্চয়পত্রে নিয়ে যাবে।

স্টক বাংলাদেশ: বর্তমান মার্কেট আরও দক্ষ করার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ?

আবু আহমেদ: সূদের হার কম রাখা, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল পূর্ণভাবে অপারেশনে যাওয়া, ভাল ভাল কোম্পানি লিস্টেড করা এবং ঘোষিত  কার্পোরেট গাইড লাইনটি বাস্তবায়ন হলে ক্যাপিটাল মার্কেট ভাল থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here