‘বাজারে ডুয়েল ট্যাক্স রোধ করতে হবে’

0
1509
বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত জাতীয় ঐক্য -এর সভাপতি রুহুল আমিন

পুঁজিবাজার থেকে ডুয়েল ট্যাক্স প্রত্যাহার করতে হবে। তাহলে অনেক বিনিয়োগকারী লাভবান হবেন। পুঁজিবাজার রক্ষায় এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই এসব করতে হবে। এমন কথা বলেন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত জাতীয় ঐক্য -এর সভাপতি রুহুল আমিন।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে ট্যাক্স নিয়ে তিনি বলেন, একদিকে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির শেয়ারহোলাডার হিসেবে কর্পোরেট ট্যাক্স দেয়। আবার, ক্যাশ ডিভিডেন্ড থেকেও ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ইনকাম ট্যাক্স (ডিআইটি) নেয় এনবিআর। এখন ৫ পয়সা বাড়িয়ে তা ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, একই ব্যক্তিকে দুবার ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ডুয়েল ট্যাক্স প্রত্যাহার করে কর্পোরেট অথবা ডিআইটি-এর যে কোন একটি গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি মতামত দেন।

রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে আলাপ চারিতায় উঠে আসে নানা প্রসঙ্গ। স্টক বাংলাদেশ -এর প্রচেষ্টায় পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো চুম্বক কিছু অংশ। সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছেন- হোসাইন আকমল।

তিনি আরো বলেন, ক্যাপিট্যাল মার্কেট বলতে আমরা বুঝি, বিএসইসির বিধান মোতাবেক যেখানে সুষ্ঠুভাবে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয়। এবং যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও কোম্পানির স্বার্থ সংরক্ষিত থাকে। পুঁজিবাজার আমাদের দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর সাথে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ জড়িত। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুই থেকে তিন কোটি মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে।

সুতরাং এ মার্কেটের প্রতি সবার সু-দৃষ্টি রাখা দরকার। আমাদের দেশে চাকুরি খুব অপ্রতুলতা।  যদিও শেয়ারমার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ, তার পরও এখানে কর্মসংস্থানের পথ আছে। বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এনবিআর- এই তিনটি প্রতিষ্ঠান অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

বিশেষ সাক্ষাতকারে রুহুল বলেন, পুঁজিবাজারকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সরকারের প্রতিষ্ঠান তিনটির মধ্যে সমন্বয় মিটিং করতে হবে। আর এ সমন্বয় থাকলে মার্কেট ভালো হবে এবং বিনিয়োগকারী লাভবান হবে। তবে অর্থনীতিতে অনেক কিছু যোগ হবে। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছেনা। পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা করতে বেশ কিছু পদক্ষেপের দরকার। এর মধ্যে তিনটি মৌলিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

আলোচানায় তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন- প্রথমত : এনবিআর কর্তৃক ডুয়েল ট্যাক্স প্রত্যাহার। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ওপর এ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) চাপিয়ে না দিয়ে ৫ বছরের জন্য স্থগিত করতে হবে এবং সিডিবিএল চার্জ কমাতে হবে।

দ্বিতীয়ত : বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, আইসিবি, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিএমবিএ, এবিবি, বিবিএবিসহ পুঁজিবাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে মাসে অন্তত দুবার সমন্বয় মিটিং করতে হবে। এতে কোম্পানি কিছু গোপন করতে পারবেনা। ফলে, পুঁজিবাজারের সীমাবদ্ধতা, দোষ-ত্রুটিসহ যে সমস্যাগুলো রয়েছে- তা দূর হবে। আর এতে ইতিবাচক ধারায় ফিরবে পুঁজিবাজার।

তৃতীয়ত : ১) পঁজিবাজার বিষয়ক যে কোন সেন্সিটিভ সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবশ্যই জরুরি ভিত্তিতে বিএসইসি’র সাথে মিটিং করতে হবে। কারণ, বিএসইসি পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক।

রুহুল আমিন অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে। তিনি বলেন, বালাদেশ ব্যাংক তাদের ব্যাংককে বাঁচানোর জন্য বিএসইসি’র সাথে মিটিং না করেই পুঁজিবাজার বিষয়ে সেন্সিটিভ সিদ্ধান্তগুলো নেয়।

২) ব্যাংক এবং বীমা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এক্সক্লোজার লিমিট দিয়েছে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই সুবিধা বর্ধিত করা হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য এক্সক্লোজার লিমিটের সুবিধা বিশেষভাবে শীথিল করতে হবে। এবং আরো ৫ বছরের জন্য বাড়িয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত করতে হবে। এর সাথে এসএলআর এবং সিএলআর’র হার কমাতে হবে।

৩) ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংক মাসিক ভিত্তিতে স্টেটমেন্ট চেয়েছে- তা মাসিক ভিত্তিতে না করে বাৎসরিক ভিত্তিতে করতে হবে। কারণ, এই স্টেটমেন্ট’র জন্য এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসেই ওই কাজের জন্য ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়।

৪) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সাবসিডাইজ রেটে ৫ শতাংশ হারে  ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ৫ বছরের জন্য ঋণ দিতে হবে। এতে মাইনাস এ্যাকাউন্টগুলো প্লাস হবে। কিন্তু বালাদেশ ব্যাংক তা না করে মার্চেন্ট ব্যাংক, আইসিবিকে এই অর্থ দেয়।

বাজার কারসাজি বিষয়ে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে গেমলিং থাকবে। বিশ্বের সব দেশেই মেনুপুলেশন হয়। কিন্তু, তা যেন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে আঘাত না করে- সেদিকে বিএসইসির নজর রাখতে হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি করার জন্য যে কারসাজি করা হয়, এর সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে বিএসইসিকে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here