‘সময়োপযোগী বইটির গুরুত্ব অনেক’

0
1105

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের পুঁজিবাজারের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু নানা সমস্যায় এ সম্ভাবনা ব্যাহত হচ্ছে। বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডার বাজার সম্পর্কে যত বেশী জানবেন, ততই বাজার সমৃদ্ধ হবে।ঝুঁকি কমবে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ মাহবুব হোসেন মজুমদারের লেখা ‘বেসিকস অব ক্যাপিটাল মার্কেট’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। তারা বলেন, বইটি বিনিয়োগকারী, আগ্রহী পাঠক, শিক্ষার্থীদের পুঁজিবাজার সম্পর্কিত অনেক কৌতুহল মেটাবে। বাজারের বিভিন্ন মৌলিক দিক সম্পর্কে তারা জানতে পারবেন।

রাজধানীর একটি হোটেলে শনিবার দুপুরে বইটির মোড়ক উম্মোচন হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মার্চেন্ট ব্যাংক এএফসি ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী এবিএম গোলাম মোস্তফা। বইটির উপর আলোচনা করেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমিবএ) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. আবু ইউসুফ, অর্থসূচক সম্পাদক জিয়াউর রহমান, ইটিভির বিজনেস এডিটর আতিয়ার রহমান সবুজ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বইটির প্রকাশক সময় প্রকাশনীর কর্ণধার ফরিদ আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ইবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ছায়েদুর রহমান।

 

এবিএম গোলাম মোস্তফা বলেন, গত এক দশকে পুঁজিবাজারের ব্যাপ্তি অনেক বেড়েছে। তবে তা এই বাজারের সম্ভাবনা থেকে অনেক দূরে। দেশে কয়েক হাজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি আছে। কিন্তু তাদের এক দশমাংশও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়। বিভিন্ন খাতের অনেক বড় বড় ও লাভজনক কোম্পানি বাজারের বাইরে রয়ে গেছে। এদেরকে বাজারে নিয়ে আসার জন্য উপযুক্ত কৌশল নিতে হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে।

অর্থসূচক সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বেসিকস অব ক্যাপিটাল মার্কেট একটি সময় উপযোগী বই। বাজারের এই ক্রান্তিলগ্নে বইটির গুরুত্ব অনেক। বাজারের বিভিন্ন মৌলিক দিক, এর বহুমাত্রিকতার সাথে পরিচিত নন বলে অনেক বিনিয়োগকারী বাজারের বড় ধরনের উত্থান-পতনে দিশেহারা হয়ে যান। বাজার সম্পর্কে তাদের জ্ঞান যত বাড়বে ততই তারা বেশী কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। ভুলের মাত্রা কমে আসবে।

 

তিনি বলেন, এই বইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো পুঁজিবাজারে ব্যবহৃত বিভিন্ন ‘টার্ম’ এর ব্যাখ্যা সহজ ও সুন্দরভাবে দেওয়া আছে। যা খুব সহজে একজন পাঠক বুঝতে পারবে।একই সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যিক অনুষদে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনেক উপকারে আসবে।

তিনি আরও বলেন, কি কি বিষয় সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ারের দামকে প্রভাবিত করে তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে বইটিতে। এখানে গাণিতিক বিষয় তথা কোম্পানির মুনাফা, শেয়ার প্রতি আয়, মূল্য-আয় অনুপাতের মতো পরিসংখ্যানের চেয়ে মনস্তত্বের ভূমিকা যে কম নয় তাও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বিএমবিএ’র সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ বলেন, বইটির লেখা এতোটা গভীর যে সূচীপত্র দেখেই আমি মুগ্ধ হয়েছি। লেখক মাহবুব হোসেন মজুমদারের এই প্রয়াসকে আমি স্বাগত জানাই। এই বইতে সমস্যা তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে, এর সমাধানের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

 

তিনি বলেন, এটা তার সময়ের সাহসী পদক্ষেপ। পুঁজিবাজারের এই দুরাবস্থায় এমন বইয়ের প্রকাশ সত্যই প্রশংসার দাবি রাখে। তার এই বই পুঁজিবাজারে অনেক উপকারে আসবে।

একুশে টেলিভিশনের বিজনেস এডিটর আতিয়ার রহমান সবুজ বলেন, নিঃসন্দেহে বেসিকস অব ক্যাপিটাল মার্কেট বইটি একটি বড় ধরনের কাজ। এই বইটি থেকে যে কোনো পাঠক আমাদের পুঁজিবাজার সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাবেন।

তিনি বলেন, বইটিতে লেখক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেছেন। ফলে ওই সব বাজারের সাথে আমাদের বাজারের একটি তুলনা যে কোনো পাঠকের পক্ষেই সম্ভব।

 

আতিয়ার রহমান সবুজ আরও বলেন, বইটিতে ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে সংঘটিত ধসের কারণ অনেকটা সাহসিকতার সাথে নির্মোহভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ও তাদের অবহেলা যে বাজারের ধসকে অনিবার্য করে তুলেছিল, সেটি উঠে এসেছে এই বইয়ে। ঘটনার পরপর অর্থসূচক সম্পদক জিয়াউর রহমানসহ মাত্র দু’তিনজন বিশ্লেষক সাহস করে এ সত্য তুলে ধরলেও বইয়ের মত স্থায়ী দলিলে কেউ আর তুলে আনেননি। মাহবুব হোসেন মজুমদার এ সাহস দেখাতে পেরেছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. আবু ইউসুফ বলেন, ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালের কেলেঙ্কারির পর এমন একটি বই লেখা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এসব ঘটনা বিশ্লেষণে ব্যবহৃত যে কোনো একটি শব্দই বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ক্ষুব্ধ করতে পারে।

 

তিনি বলেন, মাত্র পৌনে তিনশ পৃষ্ঠার একটি বইয়ে লেখক বাংলাদেশের পুরো পুঁজিবাজারকে তুলে আনতে পেরেছেন। এটি একটি বড় কৃতিত্ব।

লেখক মাহবুব হোসেন মজুমদার তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তিনি খুবই আনন্দিত, উজ্জীবিত। এই বইটি লেখা ও প্রকাশের জন্য যারা তাকে বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিয়েছেন, সহায়তা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রকাশক ফরিদ আহমেদ বলেন, অর্থনীতি নিয়ে লেখা বইয়ের সংখ্যা খুবই কম। বাজারে চাহিদাও কম। সদ্য সমাপ্ত বই মেলায় বিভিন্ন বিষয়ে ৩ হাজার ৭৩৪টি বই প্রকাশিত হয়েছে। যদি এর এক শতাংশ এই ধরনের বই হতো, তাহলে এর সংখ্যা হতো ৩৭টি। কিন্তু তেমনটি হয়নি। এমন একটি ভিন্ন ধরনের বই প্রকাশ করতে পেরে আমি ধন্য।

 

উল্লেখ, মাহবুব হোসেন মজুমদার মার্চেন্ট ব্যাংক এএফসি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এর আগে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন। তার লেখা বেসিকস অব ক্যাপিটাল মার্কেট বইটিতে নানা বিষয়ে ১৭টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৭২। এর দাম রাখা হয়েছে ৭৫০ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here