বাংলাদেশী ডেনিম পোশাকের বিশ্ববাজারে বিশাল সম্ভাবনা

0
678

সিনিয়র রিপোর্টার : বাংলাদেশি ডেনিম পোশাকের বিরাট সম্ভাবনা দেখছেন বিদেশি ক্রেতারা। তাদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে সেরা মানের ডেনিম তৈরি হচ্ছে। এ বিবেচনায় প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে প্রস্তুত ডেনিম পোশাকের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন পোশাকশিল্পের বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশি ডেনিম পণ্যের রি-ব্র্যান্ডিংয়ের লক্ষ্যে বুধবার রাজধানীতে শুরু হওয়া ডেনিম কাপড় ও পোশাকের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো’ ঘুরে বিদেশি ক্রেতারা এসব কথা বলেন। অন্যদিকে নানা প্রতিকূলতায় ডেনিম রপ্তানিতে ‘প্রাপ্য মূল্য পাচ্ছেন না’ বলে জানিয়েছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা।

তারা বলছেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ ডেনিম প্রস্তুতকারক দেশের একটি। বাংলাদেশে প্রস্তুত ডেনিম কাপড় ও পোশাকে রপ্তানিকারকদের আস্থা অর্জন করতে চান সম্ভাবনাময় ডেনিমের দেশি প্রস্তুতকারকরা।

রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের (বিআইসিসি) নবরাত্রি হলে ডেনিম পণ্যের দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী শুরু হয়, যার আয়োজন করে বাংলাদেশের ডেনিম তুলে ধরার প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো’। ষষ্ঠবারের মতো আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ১২টি ডেনিম কাপড় ও পোশাক প্রস্তুকারক প্রতিষ্ঠানসহ ১৩ দেশের ৪৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

চীন, ব্রাজিল, জার্মানি, হংকং, ভারত, জাপান, পাকিস্তান, ইতালি, স্পেন ও তুরস্কের অংশগ্রহণে ষষ্ঠবারের মতো বসা ডেনিম এক্সপোর এবারের আসর চলবে আজ বৃহস্পতিবার পর্র্যন্ত, যা বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বাংলাদেশের ডেনিম এক্সপোর সুনাম শুনে চীন থেকে এসেছেন চেনজো হেফিন ওয়েভিং কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তা মিশেল চেন। চেনজো হেফিনের মতো আরো নানা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে ষষ্ঠ বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোতে।

মিশেল চেন বলেন, এটি বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর ষষ্ঠ প্রদর্শনী। আমরা এর আগের ৫টি প্রদর্শনী দেখেছি; যেখানে আন্তর্জাতিক প্রায় সব ক্রেতাই অংশ নিয়েছেন। তাই এবার আমরা অংশ নিয়েছি নিজেদের পণ্য নিয়ে। আমরা মূলত আমেরিকার বাজারে ডেনিম পণ্য রপ্তানি করতাম। এখন ইউরোপের বাজারে রপ্তানির কথা ভাবছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোতে ইউরোপীয় অনেক ক্রেতাই অংশ নিয়ে থাকেন। তাই এই সুযোগ হাতছাড়া না করে অংশ নিয়েছি। প্রদর্শনী ঘুরে দেখার সময় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফি ওবের ডেনিম পোশাকের প্রশংসা করেন।

হা-মীম ডেনিম লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মঞ্জুর হোসেন বলেন, আগে বিদেশি ক্রেতারা কম দামে ডেনিম কিনতে বাংলাদেশে আসতেন, একই মানের ডেনিমে আমরা পাকিস্তান, ভারত ও তুরস্ক থেকে দুই-তিন গুণ কম দাম পেতাম। আমরা এ প্রদর্শনীতে উন্নত ফেব্রিক্স দিয়ে প্রস্তুতকৃত বেশ কিছু ভালোমানের ডেনিমের প্যান্ট নিয়ে এসেছি। বায়ারদের কাছে মেসেজ দিতে চাই এখানে শুধু ‘চিপ’ (সস্তা) ডেনিম পোশাক তৈরি হয় না, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের টপ ডেনিম প্রস্তুতকারক দেশের একটি।

বছর কয়েক আগে বাংলাদেশি ডেনিমের মান তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে দেশে সেরা মানের ডেনিম তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন এম্বার গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রাফাত হাসান চৌধুরী। দুই-তিন বছর আগেও বিদেশি পোশাক কোম্পানিগুলো কম দামের ডেনিম খুঁজতে এ দেশে আসত, বলতে দ্বিধা নেই আমাদের পণ্যের মানও তুলনামূলক খারাপ ছিল, এখন অনেক পরিস্থিতি পাল্টেছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে ২৬টি ডেনিম ফ্যাক্টরি আছে, যা আমাদের দেশের তুলনায় যথেষ্ট। কিন্তু কাঁচামালের জন্য আমাদের সেই চীন, থাইল্যান্ড ও ভারতের উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। ক্রেতাদের সাড়া পাওয়ার বিষয়ে আর্টিস্টি মিলিনিয়ারসের বাংলাদেশ কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. মাহবুল্লাহ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো এখন পোশাক শিল্পের ব্র্যান্ডিংয়ে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে বাংলাদেশের ও অন্যান্য দেশের উদ্যোক্তারা তাদের ডেনিম পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন।

এর আগে সকালে ডেনিম এক্সপো উপলক্ষে বিআইসিসিতে সাসটেইনেবল অ্যাপারেল ফোরাম আয়োজিত ‘মেকিং সাসটেইনেবল ইজিয়ার’ শীর্ষক সম্মেলনে উপস্থিত ফান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে ইউরোপের বাজারে দেশের পণ্যের ‘ন্যায্য দাম’ নিশ্চিতের আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

তিনি বলেন, চলতি বছরে ইউরোর দরপতন, পোশাক শিল্পের পণ্যের মূল্য কমে যাওয়াসহ নানা কারণে রপ্তানির ৩৭ বিলিয়ন ডলার আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জন নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে বছর শেষে রপ্তানি আয় ৩৭ বিলিয়ন ডলার না হলেও ৩৬ বিলিয়ন ডলার হবে বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক শিল্পের উন্নয়নে উদ্যোক্তারা কাজ করলেও কথা রাখেননি ক্রেতারা। তারা বলেছিলেন, পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করবেন। কিন্তু এখন তারা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি তো দূরের কথা বরং মূল্য কমানোর বিষয়ে দর কষাকষি করছেন। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর নবনির্বাচিত সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ক্রেতাদের কাছে পণ্যের মূল্যই সব। অন্য সব কিছু তাদের কাছে গৌণ।

এইচএসবিসি ব্যাংকের সহযোগিতায় এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ ও এইচএসবিসি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা হক উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত এক সম্মেলনে বাংলাদেশে জার্মানির রাষ্ট্রদূত থমাস প্রিনস এবং নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত লিওনি মারগারিতা কুলেনারা যোগ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here