বর্তমান পুজিবাজার এবং ডি.এস.ই এক্স সূচকের প্রভাব

0
1211

চলতি বছরের ২৮ শে জানুয়ারি দেশের পুজিবাজারে আবির্ভাব ঘটে নতুন দুটি সূচকের, একটি ডি.এস.ই.এক্স ইনডেক্স বা ব্রড ইনডেক্স এবং অপরটি হচ্ছে ডি.এস.ই ৩০ ইনডেক্স। একই সাথে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এক যুগের বেশী পুরনো ডি.এস.ই জেনারেল ইনডেক্স যেটি গ্রামীণ ফোন কোম্পানির তালিকা ভুক্তির পর থেকে বিতর্কিত। ডি.এস.ই ৩০ ইনডেক্স সীমিত সংখ্যক ভাল মৌলভিত্তিক এবং বেশী লেনদেন হওয়া কোম্পানি নিয়ে গঠন করা হয়েছে। অপরদিকে ডি.এস.ই.এক্স ইনডেক্স গঠন করা হয়েছে বাজারের লেনদেন যোগ্য শেয়ারের উপর ভিত্তি করে যা ডি.এস.ই সাধারন সূচক বা জেনারেল ইনডেক্স এর ক্ষেত্রে ছিল না। ডি.এস.ই জেনারেল ইনডেক্স এবং ডি.এস.ই ৩০ এর গণনা করা হয়েছে ১৭ জানুয়ারি ২০০৮ হতে। ডি.এস.ই.এক্স ইনডেক্স এর বেজ পয়েন্ট ধরা হয়েছে ২৯৫১ পয়েন্ট এবং ডি.এস.ই ৩০ এর বেজ পয়েন্ট ধরা হয়েছে ১০০০ পয়েন্ট।

ডি.এস.ই জেনারেল ইনডেক্স এ জেড ক্যাটাগরি ব্যাতিত সব কোম্পানির শেয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সূচকের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকের অংশ সহ সবকটি শেয়ারের উপর ভিত্তি করে সূচকের গননা করা হত। এ কারনে গ্রামীণ ফোনের তালিকাভুক্তির সময়ে ডি.এস.ই জেনারেল ইনডেক্স এর মান অস্বাভাবিকভাবে ১০০০ পয়েন্ট বেড়ে যায় যার ফলে বিনিয়োগকারীরা সেই সময়ে দ্বিধান্নিত ছিলেন। এই পদ্ধতিতে গণনার ফলে পরবর্তীতে মাঝে মাঝেই বাজারে অস্বাভাবিক প্রভাব পড়েছে। এ সমস্যার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে নেয়া যায় গত ১৮ ই জুলাই, ২০১৩ এর লেনদেন এর চিত্র। এই দিন ডি.এস.ই জেনারেল ইনডেক্স ১৮৫.৬৫ পয়েন্ট নিম্নমুখী ছিল যার মধ্যে শুধুমাত্র গ্রামীণ ফোন কোম্পানির ব্যাপক দরপতনের প্রভাব ছিল প্রায় ১২৫ পয়েন্ট এর কাছাকাছি। এই দিন অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে খুব একটা দরপতন না হবার পরেও শুধুমাত্র গ্রামীণ ফোন এর কারণে বাজার বেশ নিম্নমুখী মনে হচ্ছিল। গ্রামীণ ফোন কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের অংশ ৯০% যা সাধারনত বাজারে প্রতিনিয়ত লেনদেন হয় না অথচ ডি.এস.ই জেনারেল ইনডেক্স গণনার সময় এই শেয়ারগুলোও ধরা হয়। এই কারণে পুঁজিবাজারের লেনদেনে প্রায়শই অস্বাভাবিক উঠানামা দেখা যেত যা ডি.এস.ই.এক্স ইনডেক্স এর ক্ষেত্রে দেখা যাবে না। ডি.এস.ই এক্স ইনডেক্স এর গননায় শুধুমাত্র প্রতিনিয়ত লেনদেনযোগ্য শেয়ার সংখ্যা নেয়ার ফলে এই অস্বাভাবিক প্রভাব কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে। ডি.এস.ই জেনারেল ইনডেক্স এর গণনার ক্ষেত্রে কোম্পানির বাজার দর কে তার মোট শেয়ার সংখ্যা দ্বারা গুনন করা হত, কিন্তু ডি.এস.ই.এক্স ইনডেক্স এর ক্ষেত্রে কোম্পানির বাজার দরকে লেনদেনযোগ্য শেয়ার সংখ্যা দ্বারা গুন করা হয়। এই অস্বাভাবিক প্রভাবের পেছনে গ্রামীণ ফোন ছাড়া স্কয়ার ফার্মা, পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল প্রভৃতি শেয়ারের অবদান রয়েছে।

ডি.এস.ই.এক্স ইনডেক্স বাজারের উঠানামার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম হলেও অধিকাংশ বিনিয়োগকারীরা এখনও এই সূচকটির সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেনি। তবে সময়ের সাথে সাথে সবাই এই সূচকটি দেখে লেনদেনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে আশা করা যায়। অনেকই নতুন সূচকের টেকনিক্যাল চার্ট নিয়ে চিন্তিত, তবে টেকনিক্যাল এনালাইসিস অনুসারে ডি.এস.ই জেনারেল ইনডেক্স এর সাথে ডি.এস.ই.এক্স এর চার্ট এ খুব একটা পার্থক্য নেই। উভয় সূচকের চার্ট প্যাটার্ন এবং টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটরগুলো একই অবস্থায় রয়েছে এবং ডি.এস.ই.এক্স ইনডেক্স এর চার্টেও এখন ব্যবহার করার মত পরিপূর্ণ ডাটা বা উপাত্ত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here