বন্ধ হচ্ছে গোপনে শেয়ার বিক্রির পথ

0
1077

ডেস্ক রিপোর্ট : আইন লংঘন করে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা এবং প্লেসমেন্টধারীদের শেয়ার বিক্রির পথ বন্ধ হচ্ছে। গোপনে শেয়ার বিক্রির সুযোগ বন্ধ করতে নিজেদের সফটওয়্যারে কিছু পরিবর্তন আনছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। চালু করছে নতুন পদ্ধতি।

সিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, নতুন পদ্ধতি চালু হলে কোনো উদ্যোক্তা অথবা কোনো প্লেসমেন্টধারী ব্যক্তি বিদ্যমান বিধিমালাকে পাশ কাটিয়ে শেয়ার বিক্রি করতে পারবে না। শেয়ার বিক্রি করতে হলে তাদেরকে আগাম ঘোষণা দিতে হবে। একইভাবে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করতে হলেও কিছু আনুষ্ঠানিকতা ও শর্ত পরিপালন করতে হবে।

উদ্যোক্তা ও প্লেসমেন্টধারীদের শেয়ার বিক্রিতে অনিয়ম-অনাচার ও দুর্নীতি বন্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশে এই ব্যবস্থা নিয়েছে সিডিবিএল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভ্র কান্তি চৌধুরী বলেন, কোনো উদ্যোক্তা বা প্লেসমেন্ট শেয়ারধারী যাতে আইন লংঘন করে শেয়ার বিক্রি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন। ইতোমধ্যে প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, তাদের উদ্যোগের বিষয়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।

Share-Taka

উল্লেখ্য, আইন অনুসারে তালিকাভুক্ত প্রত্যেক কোম্পানির স্পন্সরদের শেয়ার বিক্রিতে ৩ বছরের নিষেধাজ্ঞা থাকে। এই সময়ে তারা নিজ কোম্পানির কোনো শেয়ার বিক্রি করতে পারেন না। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও শেয়ার বিক্রির জন্য তাদেরকে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়।

শেয়ার বেচতে চাইলে কী সংখ্যক শেয়ার বিক্রি করবেন, স্টক এক্সচেঞ্জের প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে করবেন না-কি বাইরে করবেন, পাবলিক মার্কেটে করবেন না-কি ব্লক মার্কেটে করবেন চিঠি দিয়ে তা বিএসইসি ও দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে জানাতে হয়। স্পন্সরের চিঠি পাবার পর স্টক এক্সচেঞ্জ তার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ওই তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানিয়ে দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক উদ্যোক্তা অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো ঘোষণা না দিয়েই গোপনে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই অসাধু তৎপরতা। কেন্দ্রীয়ভাবে স্পন্সরদের শেয়ার লক করা না থাকার সুযোগ নিচ্ছে তারা।

যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে গোপন শেয়ার বিক্রি : নতুন ব্যবস্থায় তালিকাভুক্ত প্রত্যেকটি কোম্পানির সব স্পন্সরের শেয়ার লক করা থাকবে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ নিজেরাই তা লক করবে। তবে তাদের কাছে আনলক করার ক্ষমতা থাকবে না। এ ক্ষমতা থাকবে স্টক এক্সচেঞ্জের হাতে। স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে প্রত্যেক স্পন্সরের একাউন্টের পাসওয়ার্ড থাকবে।

সংশ্লিষ্ট স্পন্সর স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে শেয়ার বিক্রি করার ঘোষণা দিলে স্টক এক্সচেঞ্জ ঘোষিত সংখ্যক শেয়ারকে আনলক করে দেবে। তাতে শুধু ওই নির্দিষ্ট সংখ্যক শেয়ারই বিক্রি করতে পারবেন তিনি। একই পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করা হবে প্লেসমেন্ট শেয়ারের বিক্রি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here