বন্ড মার্কেটকে আরো বিকশিত করা হবে : অর্থমন্ত্রী

0
154
অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে বৃহস্পতিবার বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

স্টাফ রিপোর্টার : বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিপদের মুখোমুখি আছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এক সময় ব্যাংকিং খাত অনেক উজ্জ্বল ছিল। বর্তমানে তার কিছুটা ভাটা পড়েছে।

তিনি বলেন, আমরা যেভাবে ব্যাংকিং খাত চালাচ্ছি, এভাবে চালালে হবে না। এভাবে কোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে বন্ড মার্কেটকে অনেক বেশি বিকশিত করা হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস উল ইসলামসহ ব্যাংকের পরিচালকরা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালে দেশে আর কোনো গরিব থাকবে না। ধারাবাহিকভাবে প্রতি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রয়োজন মেটাতে দেশের বন্ড মার্কেটকে অনেক বেশি বিকশিত করা হবে। অনেক সময় স্বল্পমেয়াদি আমানত দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অর্থায়নে ব্যবহার করা হয়। এই কাজটি যারা করে তারা বোকার রাজ্যে রয়েছে। এ জন্য আমাদের প্রথম কাজটি হবে বন্ড মার্কেটকে অনেক বেশি বিকশিত করা। এ সময় দেউলিয়া আইন যুগোপযোগী করার ওপর জোর দেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের দেশে যারা ট্যাক্স দেন তারাই বারবার ট্যাক্স দিয়ে আসছেন। কিন্তু নতুন করে করের আওতায় আসার উপযোগী অনেক মানুষ এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, প্রকৌশলগত দিক থেকে সারা বিশ্ব খুব দ্রুত গতিতে আগাচ্ছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে সেই প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকের ভেতরে যেসব সমস্যা আছে তার সমাধান আপনারাই করতে পারেন। কারণ এটা নিয়ে আপনারা সবসময় কাজ করেন।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, অগ্রণী ব্যাংক অনেক আগে থেকেই সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ বিতরণ করছে। আগামীতে সুদ আরো কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যাংকটির সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম। তিনি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা তুলে ধরে বলেন, ২০১৮ সাল শেষে অগ্রণী ব্যাংকের আমানত দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। এ সময় ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা।

আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২৩ হাজার ৫৫১ কোটি ও ৮ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। রেমিট্যান্স এসেছে ১২ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার। এ ছাড়া ২০১৮ সালে ব্যাংকটি ৯৫৭ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষ থেকে মোট ১৬ গুণী গ্রাহককে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here