বন্ডের আরো সময় চেয়ে ইউনাইটেড এয়ারের আবেদন

0
1899

স্টাফ রিপোর্টার : বন্ডের টাকা হাতে না পাওয়ায় আটকে আছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের পুনর্গঠন পরিকল্পনা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পরও পূর্বনির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্কিম বাস্তবায়ন করতে পারেনি এয়ারলাইন কোম্পানিটি। এজন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আরো সময় দাবি করেছে।

সম্প্রতি বিএসইসির কাছে ইউনাইটেড এয়ার কর্তৃপক্ষের দেয়া চিঠি ও স্টক এক্সচেঞ্জের ডিসক্লোজার থেকে জানা গেছে, প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিদেশী একদল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর নামে ৪০০ কোটি টাকার নতুন শেয়ার ইস্যু করে তাদের কাছ থেকে ৭টি উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ (তিনটি ইঞ্জিন) নেয়ার পরিকল্পনা অনুমোদনের আবেদন করেছিল ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। উড়োজাহাজগুলোর ডাউন পেমেন্ট, বর্তমান উড়োজাহাজগুলোর মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও কোম্পানির চলতি মূলধনের চাহিদা মেটাতে ২২৪ কোটি টাকার কুপন বিয়ারিং অবসায়নযোগ্য বন্ড ইস্যুরও অনুমোদন চেয়েছিল তারা। ২০১৬ সালেই বিএসইসি তাদের এ পরিকল্পনা অনুমোদন করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে টিএসি এভিয়েশন লিমিটেড, ফিনিক্স এয়ারক্রাফট লিজিং প্রাইভেট লিমিটেড ও সুইফট এয়ার কার্গো নামের তিনটি কোম্পানির অনুকূলে নতুন শেয়ার ইস্যু করে ইউনাইটেড এয়ার।

নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, এসব শেয়ারসংশ্লিষ্টদের বিও হিসাবে এরই মধ্যে জমা হয়েছে। তবে উড়োজাহাজের ডাউন পেমেন্ট দিতে না পারায় অন্য ৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারেনি তারা। বন্ড ইস্যু করতে না পারায় ডাউন পেমেন্ট দেয়ার মতো অর্থ কোম্পানির হাতে নেই।

বিএসইসিকে লেখা চিঠিতে কোম্পানিটি অভিযোগ করে, রেগুলেটরি অনুমোদনের পরও শুধু বন্ডের ম্যান্ডেটেড অ্যারেঞ্জার আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা না পাওয়াতেই বন্ড ইস্যু করে ২২৪ কোটি টাকা উত্তোলন করতে পারেনি কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। এ কারণে মূলধন বাড়ানোর জন্য পাওয়া রেগুলেটরি অনুমোদনের মেয়াদও শেষ হয়।

দফায় দফায় নথিপত্র উপস্থাপন ও চিঠি চালাচালির পর বন্ডের অ্যারেঞ্জারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় এখন ইউনাইটেড এয়ার তাদের পরিকল্পনার অবশিষ্ট অংশ বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী। তবে এখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রেগুলেটরি অনুমোদনের মেয়াদ।

বিএসইসির কাছে দেয়া আবেদনে দেড় লাখ শেয়ারহোল্ডারের স্বার্থরক্ষায় কোম্পানি পুনর্গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে ইউনাইটেড এয়ার। ইকুইটি ও বন্ডের মাধ্যমে মূলধন বৃদ্ধির পূর্ববর্তী পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য সময় বাড়িয়ে দেয়ার আবেদন করেছে তারা।

প্রসঙ্গত, কোনো পরিচালন কার্যক্রম না থাকায় স্টক এক্সচেঞ্জে আগেই ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে এসেছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। উড়োজাহাজ বসিয়ে রাখায় কোম্পানির লোকসান ক্রমেই বাড়ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিবাদকেই পরিচালন কার্যক্রমে ধসের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরে কোম্পানিটি। যদিও এ নিয়ন্ত্রকের অধীনে ভালোই ব্যবসা করে যাচ্ছে স্থানীয় বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন কোম্পানি।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনাইটেড এয়ারের পর্ষদ। সে এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৬৮ পয়সা। ৩০ জুন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ৭ টাকা ১৪ পয়সায়।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করবে কোম্পানিটি। এজিএমের তারিখ, সময় ও স্থান পরে জানিয়ে দেয়া হবে। রেকর্ড ডেটও পরে জানিয়ে দেয়া হবে।

চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকেও (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৩৪ পয়সা লোকসান দেখিয়েছে কোম্পানিটি। যেখানে আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ৪৪ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর এর এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৬ টাকা ৮০ পয়সায়।

এর আগে ২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্যও কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি ইউনাইটেড এয়ার। সে হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ১ টাকা ৬৬ পয়সা, যেখানে আগের বছর শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ছিল ৩১ পয়সা।

২০১০ সালে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৮২৮ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভ মাত্র ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারী ১২ দশমিক ১৮ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৭০ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ার।

ডিএসইতে সর্বশেষ ৫ টাকা ২০ পয়সায় ইউনাইটেড এয়ারের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে এ শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ৮ টাকা ও সর্বনিম্ন ৪ টাকা ৮০ পয়সা।