বছরে বেকার বেড়েছে ৮০ হাজার

0
256

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের প্রবৃদ্ধি যে গতিতে বেড়ে চলেছে, সেই গতিতে এগোতে পারছে না দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। ফলে বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এক বছরে বেকার বেড়েছে ৮০ হাজার।  অর্থাৎ গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার। গত  ২০১৫-১৬  অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ।

এদিকে দেশের জাতীয় বেকারত্বের গড় হার অপরিবর্তিত রয়েছে। এ হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। তবে  উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি, অর্থাৎ মোট বেকারত্বের ১১ দশমিক ২ শতাংশ উচ্চ শিক্ষিত। বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান সমান।

এ ছাড়া অর্থনীতির রূপান্তরের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশের কৃষি খাতে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা কমেছে, বিপরীতে বাড়ছে শিল্প ও সেবা খাতের শ্রমশক্তির সংখ্যা। দেশের মোট শ্রমশক্তির ৫৬ শতাংশ কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে নিয়োজিত রয়েছে, যা সংখ্যায় ৬ কোটি ৮০ লাখ।  শ্রম শক্তির বাইরে  রয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ।

এ ছাড়া গত এক বছরে দেশে মোট কর্মসংস্থান হয়েছে ৩৭ লাখ মানুষের। এর মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ১৩ লাখ। মজুরি ছাড়াই কাজ করতেন (আনপেইড) এমন ১৪ লাখ মানুষ মজুরিভিত্তিক (পেইড) কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন। আর প্রবাসের শ্রমবাজারে যোগ দিয়েছেন ১০ লাখ মানুষ। তার আগের অর্থবছরে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছিল ১৪ লাখ। এ হিসেবে গত বছরে ১ লাখ কর্মসংস্থান কমেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিচালিত সর্বশেষ ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর পরিসংখ্যান ভবনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শ্রমশক্তি জরিপ প্রকাশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, আইএমইডি সচিব মো. মফিজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মো. আমীর হোসেন। অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক কবির উদ্দিন আহমদ।

কবির উদ্দিন আহমদ জানান, ৬ কোটি ৩৬ লাখ শ্রমশক্তির মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৩৫ লাখ। আর নারীর সংখ্যা দুই কোটির মতো। ২০১৫-১৬ সালের জরিপে ৬ কোটি ২১ লাখ শ্রমশক্তির মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৩১ লাখ। আর নারীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৯১ লাখ। এ হিসাবে ২ বছরে শ্রমশক্তিতে নারীর হার বেড়েছে প্রায় ৯ লাখ।

তিনি জানান, ধীরে ধীরে শ্রমের রূপান্তর ঘটছে। এক সময় কৃষি নির্ভরতা থেকে বর্তমানে সেবা ও শিল্পের দিকে যাচ্ছে কর্মসংস্থান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কৃষি খাতে নিয়োজিত ছিল ২ কোটি ৫৪ লাখ মানুষ। সেখান থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কমে গিয়ে শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৭ লাখ।  অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সেবা খাতে।

গত অর্থবছরে সেবা খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে ২ কোটি ৩৭ লাখ। তার আগের অর্থবছর এর পরিমাণ ছিল ২ কোটি ২০ লাখ। এ ছাড়া শিল্প খাতে গত অর্থবছরে নিয়োজিত ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ, তার আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২২ লাখ।

দেশে মোট কর্মসংস্থানের ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের। প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সংখ্যা মাত্র ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। মোট কর্মসংস্থানের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের আনুষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই। প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ কর্মজীবী মানুষের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত। ১ কোটি ৮৭ মাধ্যমিকের গÐি পেরোনো মানুষ। বাকিটা উচ্চ শিক্ষিত।

প্রতিবেদনে এবারই নতুনভাবে তুলে আনা তথ্যে দেখা যায়, বিগত এক বছরে কর্মক্ষম কিন্তু বেকার, খÐকালীন কর্মী এবং যারা  জরিপের সময় থেকে তার আগের এক মাসে কাজ খোঁজেননি, কিন্তু কাজ দিলে করতে প্রস্তুত এমন মানুষের সংখ্যা কমেছে। গত অর্থবছরে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬ লাখে, যা তার আগের অর্থবছরে ছিল ৭১ লাখ ছিল। অর্থাৎ পূর্ণকালীন কাজে কর্মক্ষমতা ব্যবহারের হার বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারে মজুরি ছাড়া কাজ করতেন এমন মানুষের সংখ্যাও দিন দিন কমছে। অর্থাৎ বেশি সংখ্যক মহিলা উপার্জন হয় এমন কাজে যুক্ত হচ্ছেন। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্যে যাচ্ছে। এর প্রতিফলন শ্রমশক্তি জরিপে দেখা যাচ্ছে। কৃষিখাত থেকে মানুষ আস্তে আস্তে শিল্প ও সেবাখাতের দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

ফলে এই দুই খাতে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে। প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, নারীর সত্যিকার ক্ষমতায়নের চিত্র উঠে এসেছে জরিপে। শ্রমশক্তিতে পুরুষের তুলনায় নারীর অংশগ্রহণের হার অধিকহারে বাড়ছে। এটা গর্ব করার মতো বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here