বকেয়া ৮৫৪ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধে মেঘনা পেট্রোলিয়ামকে নোটিশ

0
293

স্টাফ রিপোর্টার : মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দুই বছরের বকেয়া ৮৫৪ কোটি টাকার মূল্য সংযোজন কর (মূসক) পরিশোধে চিঠি দেয়া হয়েছে ।

২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিক্রির বিপরীতে ভ্যাট আদায় করা হলেও তা এনবিআরে জমা না দেয়া হয়নি। ফলে বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া পড়েছে বলে দাবি করছে এনবিআরের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট চট্টগ্রাম।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বকেয়া ভ্যাট পরিশোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট চট্টগ্রামের কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, মেঘনা পেট্রোলিয়াম বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত। আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানি তেল স্থানীয় পর্যায়ে বিপণনের ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে আদায় করা ভ্যাট এনবিআরকে পরিশোধ না করায় ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির ৯৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার দাবি তৈরি হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে কোম্পানিটি ১২৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা পরিশোধ করায় অবশিষ্ট ৮৫৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বকেয়া দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় সুদ ব্যতীত ওই টাকা অনতিবিলম্বে পরিশোধের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ফিন্যান্স) সঞ্জীব নন্দী এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রকৃত অর্থে বিপিসিরই সব ধরনের ভ্যাট পরিশোধ করার কথা। তবে তাদের মূসক নিবন্ধন না থাকায় বিপণন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে তা পরিশোধ করা হয়। ফার্নেস অয়েল আমদানির সময় বিপিসি একবার মূসক পরিশোধ করেছে। পরবর্তী সময়ে তা সমন্বয়ের নিয়ম রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভ্যাট কমিশনারেট প্রথমে তা সমন্বয় করে অবশিষ্ট টাকা জমা নিয়েছে। তবে বিষয়টিতে এনবিআরের দুটি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তারা সমন্বয় করতে পারছে না। এর দায়ভার কোম্পানির ওপর পড়বে না। দাবি অনুযায়ী ভ্যাট পরিশোধ করতে হলেও তা বিপিসিকেই করতে হবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া বলেন, বিপিসির অধীন তেল বিপণনকারী প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের কাছে কয়েক বছরের প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

তিনি বলেন, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের কাছে দুই বছরে ৯৮০ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। বকেয়া পরিশোধে বিপিসি ও কোম্পানিটিকে প্রথম দফায় চিঠি দেয়ার পর তারা কাস্টম হাউজে প্রদত্ত এটিভি ও মূসক সমন্বয়ের কথা জানিয়ে ১২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। তবে কাস্টম হাউজ আলাদা দপ্তর হওয়ায় সেখানে পরিশোধিত মূসক এখানে সমন্বয়ের সুযোগ নেই। ফলে মেঘনা পেট্রোলিয়ামকে অবশিষ্ট ৮৫৪ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সরকারি কোম্পানিগুলোর মধ্যে মুনাফায় ভালো অবস্থানে থাকাদের মধ্যে অন্যতম মেঘনা পেট্রোলিয়াম। সর্বশেষ হিসাব বছরে কর-পরবর্তী ২১৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা মুনাফা করেছে কোম্পানিটি। জ্বালানি খাতের সরকারি প্রতিষ্ঠানটি ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর আগের ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ১০৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে সদ্যবিদায়ী হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৮ টাকা ১২ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ১৪ টাকা ৩১ পয়সা। ৩১ মার্চ এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ৯৮ টাকা ৪৭ পয়সায়।

২০০৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সরকারি এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৪০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১০৮ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৮৭৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। মোট শেয়ার ১০ কোটি ৮২ লাখ ১৬ হাজার ১০৮টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৫৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়াগকারী ৩২ দশমিক ৬০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে বাকি ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here