ফ্লেক্সট্রেড নিয়ে বিপাকে ব্রোকারেজ হাউসগুলো

0
1828

স্টাফ রিপোর্টার :  বিশ্বের অন্যতম প্রধান এবং নিউইয়র্কভিত্তিক নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জের সহযোগী কোম্পানি নাসাড ওএমএক্স ও বিশ্বখ্যাত ফ্লেক্সট্রেড থেকে শেয়ার কেনাবেচার অত্যাধুনিক প্লাটফর্ম কিছুদিন আগে ক্রয় করে ডিএসই। এ জন্য প্রথম বছরে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। প্রথম ১০ বছরে এর খরচ দাঁড়াবে প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা। কিন্তু এরই মধ্যে ফ্লেক্সট্রেড নিয়ে বিপাকে পড়েছে ব্রোকারেজ হাউসগুলো । অভিযোগের অন্ত নেই তাঁদের।

ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অভিযোগ, নতুন সিস্টেম চালুর প্রথম দিন থেকেই সমস্যায় ভুগছেন তারা। বিশেষত প্রতিদিন লেনদেনের শুরুতে গ্রাহকদের হিসাবে থাকা শেয়ার ও অর্থের স্থিতি সংক্রান্ত তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জের সার্ভারে পাঠাতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে গত ২৪ ও ২৫ মে শেয়ার লেনদেনে বিলম্ব হয়েছে। যদিও এখন এ সমস্যার আপাত সমাধান হয়েছে। দেশের প্রধান এ শেয়ারবাজারের বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কর্মকর্তাদের আরও অভিযোগ, গত জানুয়ারিতে ওয়েবভিত্তিক নতুন প্রযুক্তির লেনদেন প্লাটফর্মে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচার আদেশ প্রদানে দেরি বা একই আদেশ একাধিক আদেশ হিসেবে সার্ভারে সংরক্ষণ ও লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীরা কখনও কখনও শেয়ার কেনাবেচার আদেশ সংশোধন করতে চান। কিন্তু লেনদেনের শেষাংশে গিয়ে আদেশ নিচ্ছে না ডিএসইর সিস্টেমস। এ সমস্যার এখন পর্যন্ত সমাধান করতে পারেনি ডিএসই।

এ বিষয়ে ডিএসইর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লেনদেনের শুরুতে প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউস তাদের সব গ্রাহকের (বিনিয়োগকারী) শেয়ার ও জমা করা অর্থের স্থিতি সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে। লেনদেনের শুরুতে প্রায় সব ব্রোকারেজ হাউস একসঙ্গে সার্ভারে তথ্য পাঠাতে থাকে। একসঙ্গে বিপুল তথ্য প্রসেস করতে পুরো সিস্টেম ধীর হয়ে যাচ্ছে। আপাতত ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ডাটা প্রেরণের জন্য বলা হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে এরই মধ্যে সার্ভারের র‌্যাম ৬৪ গিগাবাইট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এভাবে সমস্যাটির সাময়িক সমাধান করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এদিকে ডিএসইর পক্ষ হতে বলা হচ্ছে, ডিএসইর ট্রেডিং সিস্টেমে সমস্যা নেই। সমস্যাটি তৈরি করছেন অদক্ষ ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা। দেখা গেছে, তারা গ্রাহকদের তথ্য একবার সিস্টেমে পাঠানোর পর তা সিস্টেমে আপলোড হতে দেরি হলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় তথ্য প্রেরণ করছে। এ কারণে কোনো কোনো দিন ৮০ লাখ বিনিয়োগকারীর তথ্য সিস্টেমে যোগ হয়েছে। যদিও দেশে বিও হিসাব সংখ্যা ৩৪ লাখের বেশি নয়। বড় স্টক এক্সচেঞ্জগুলোয় মূলত ব্রোকারেজ হাউসগুলো নিজস্ব ট্রেডিং ইঞ্জিনে গ্রাহকদের থেকে পাওয়া তথ্যগুলো প্রসেস করে। আর অভিন্ন ট্রেডিং প্লাটফর্মে অর্ডারগুলো মেচিং করে লেনদেন সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। বর্তমানে ডিএসই উভয় কাজ করছে। এতে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া নতুন সিস্টেমটিকে স্বাভাবিকভাবে চালাতে অন্তত এক থেকে দেড় বছর পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর দরকার ছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সময় পাওয়া গিয়েছে মাত্র ছয় মাস।

উল্লেখ্য যে, ডিএসই এর আগে এমএসএ প্লাস নামক ট্রেডিং প্লাটফর্ম ব্যবহার করত। কিন্তু এর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে এ প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করলে নতুন সিস্টেম ফ্লেক্সট্রেড কিনে নিয়ে আসে স্টক এক্সচেঞ্জ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here