ফ্যামিলিটেক্সের আইপিও অনুমোদন নিয়ে সমালোচনা

0
279

পুঁজিবাজারে সদ্য তালিকাভুক্ত ফ্যামিলিটেক্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০১২ সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোন ধরনের লভ্যাংশ ঘোষণা না করায় কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরির আওতায় চলে যাচ্ছে। ফলে এই কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের হতাশা বেড়েছে। তাই এ ধরনের দুর্বল কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত না করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আহ্বান জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর সমালোচনা করেন তাঁরা।এদিকে প্রিমিয়াম ছাড়া অনুমোদন হলেও ফ্যামিলিটেক্সের আইপিওয়ের অনুমোদন নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমালোচনা করেছেন অনেকেই। তাদের মতে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাজ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ দেখা। যেসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তা কোনভাবেই অনুমোদন দেয়া উচিত নয়। কোনভাবেই ঋণগ্রস্ত বা দেউলিয়া কোম্পানিকে টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয়া যায় না। বিএসইসিকে আরও কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আইপিও অনুমোদন দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তাঁরা।জানা যায়, আগামী ৪ আগস্ট ফ্যামিলিটেক্স নামের কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণসভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এদিন বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে ‘নো ডিভিডেন্ড’ অনুমোদন পেলে কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরির আওতায় চলে যাবে। বিএসইসির আইপিও সংক্রান্ত চিঠি অনুযায়ী, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির পূর্বেই এ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর, ২০১২ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোন লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি বলে ১৮ জুন তথ্য প্রকাশ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) এক কর্মকর্তা বলেন, এজিএমে ‘নো ডিভিডেন্ড’ অনুমোদন হলে কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে চলে যাবে। আর শেয়ারহোল্ডাররা যদি তা অনুমোদন না দেন কিংবা অন্য কোন সিদ্ধান্ত আসেন তবে ক্যাটাগরির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে। ডিএসইর আরেক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান নিয়ম নীতি অনুযায়ী কোম্পানির ঘোষিত লভ্যাংশে যদি আর কোন পরিবর্তন না আসে তাহলে কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাবে। গত ১৮ জুন লেনদেন শুরু দিনে প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৪৮ টাকায় লেনদেন হতে দেখা দেয়। এরপর থেকে প্রতিদিনই কোম্পানিটির দর কমতে থাকে। ফলে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদনে বিজয়ী বিনিয়োগকারীরা সাময়িকভাবে লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। যার কারণে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসলেও এই কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীরা ক্রমশ লোকসানে পড়ছেন। তাই তাঁরা কোনভাবেই বিএসইসির ফ্যামিলিটেক্সের মতো আর কোন আইপিওয়ের অনুমোদন দেখতে চান না।ফ্যামিলিটেক্সের কোম্পানির সঙ্গে আরএন স্পিনিংয়ের উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ জড়িত আছেন। কিছুদিন আগেও যে কোম্পানির প্রত্যেক পরিচালককে জরিমানা ও প্রথমবারের মতো কোন ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। তাই শুরু থেকেই কোম্পানিটি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে একাধিক প্রশ্ন ছিল।এদিকে চলতি বছর একাধিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সব কোম্পানিই ২০১২ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আর লভ্যাংশ প্রদানের কারণে প্রায় সব কোম্পানি ‘এন’ থেকে ‘এ’ কিংবা ‘বি’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়েছে। যেমন গোল্ডেন হার্ভেস্ট কোম্পানিটি লেনদেনে আসার আগের দিন ২০১২ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ২০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানের ঘোষণা দেয়। যা এজিএমে শেয়ারহোল্ডাররা অনুমোদন করেন। ব্যতিক্রম শুধু ছিল সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ফ্যামিলিটেক্স।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here