ফের বাড়ছে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের কোটার মেয়াদ

1
1681

স্টাফ রিপোর্টার : শেয়ারবাজারের ধসে মূলধন হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর জন্য নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে কোটা সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ছে। ষষ্ঠবারের মতো এই মেয়াদ বাড়িয়ে করা হচ্ছে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। কোটা সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়াতে একটি চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

২০১০ সালে শেয়ার কারসাজির কারণে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নামে। এই ধসের কারণে বড় বড় বিনিয়োগকারী লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। যারা অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। শেয়ারের দাম আকাশচুম্বী হলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনে মূলধন হারায়।

বিএসইসি সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ধসের পর ক্ষতিগ্রস্তদের সুবিধার্থে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ স্কিমের আওতায় স্বল্প সুদে ঋণ ও আইপিওতে কোটাসুবিধা চালু করেছে। বিনিয়োগের প্রাথমিক ধারণা দিতে আর গুজব বা মিথ্যা তথ্য শুনে বিনিয়োগ না করতে দেশব্যাপী আর্থিক স্বাক্ষরতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।

ধসের পরই ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকার অর্থ মন্ত্রণায়য়ের মাধ্যমে ৯০০ কোটি টাকার বিশেষ অর্থ বরাদ্দ করে। যাতে তালিকাভুক্ত ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে। তবে এই অর্থের এক-তৃতীয়াংশ এখনো অব্যবহৃত রয়েছে। সুদের হার কমানো হলেও বিনিয়োগকারীর আগ্রহ কম। আবার নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রাইমারি মার্কেটে শেয়ার বরাদ্দে আইপিওতে কোটা সংরক্ষণ সুবিধা পাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা।

শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিকতা রোধ, স্থিতিশীলতা ও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্বে বিশেষ সুবিধা দিতে ২০১২ সালের ৫ মার্চ স্কিম ঘোষণা করে। মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতো নির্ধারিত কোটার ন্যায় এই স্কিমে মার্জিন ঋণ হিসাব ও নন-মার্জিন হিসাব (বিও) উভয় ক্ষেত্রে চিহ্নিত ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর জন্য ২০১২ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ইস্যু হওয়া সব পাবলিক ইস্যুতে ২০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোটা সুবিধা চালুর পর ৬ মাস করে পাঁচবার সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৮ মে পঞ্চমবারের মতো আইপিওতে ২০ শতাংশ কোটা সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। যদিও এই কোটা সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ওই বছরের ৩০ জুন। প্রথম দফায় ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এই মেয়াদ শেষের পর সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এক বছর সময় বাড়িয়ে ২০১৫ পর্যন্ত করা হয়। তৃতীয় দফায় ২০১৬ সালের জুন ও চতুর্থ দফায় ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ওই সময় অর্থমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছিলেন ‘এবারই শেষ সময় বৃদ্ধি।’

বিএসইসির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক মার্কেটে আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা গত বছর খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ২০১৭ সালে শেয়ারবাজারে খুব কমসংখ্যক বা গত ১৩ বছরের সবচেয়ে কমসংখ্যক কোম্পানি বাজারে এসেছে। এই কোটা সুবিধায় উপকৃত হয়েছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। পুরোপুরি ক্ষতি পোষাতে না পারলেও অনেকের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। সেই সুবিধা চলমান রাখতে ষষ্ঠবারের মতো কোটা সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।

শেয়ারবাজারে ধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সংরক্ষণে বিশেষ স্কিম কমিটি গঠন করা হয়। ২০১১ সালে এক আহ্বায়ক ও ৫ সদস্যের বিশেষ স্কিম কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৮ মাস সময়ে ২০ শতাংশ কোটায় আবেদনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীর তালিকা প্রণয়ন করে কমিশনে জমা দেওয়া হয়।

৯ লাখ ৩৩ হাজার ২৮০ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে কোটা সুবিধার আওতায় নেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় রয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ২০৪ ব্রোকারেজ হাউসের ৭ লাখ ৩৯ হাজার ৮৮৩ জন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ১০৩টি ব্রোকারেজ হাউসের ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৭৭ জন এবং ২৫ মার্চেন্ট ব্যাংকের ৩৯ হাজার ১২০ জন।

পাবলিক ইস্যু রুলস-২০১৫ অনুযায়ী, ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আইপিও ক্ষেত্রে ইলিজেবল ইনভেস্টরদের (মার্চেন্ট ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, স্টক ডিলার, ইনস্যুরেন্স, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও অলটারনেটিভ বিনিয়োগ ফান্ড প্রভৃতি) জন্য ৫০ শতাংশ। যার মধ্যে ১০ শতাংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও অন্যান্য বিনিয়োগকারী ৪০ শতাংশ। সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য ৫০ শতাংশ। এতে ১০ শতাংশ নন-বাংলাদেশি ও ৪০ শতাংশ অন্যান্য।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ইলিজেবল বিনিয়োগকারীর জন্য ৬০ শতাংশ কোটা রয়েছে। যাতে ১০ শতাংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ৫০ শতাংশ অন্যান্য। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য ৪০ শতাংশের মধ্যে ১০ শতাংশ নন-বাংলাদেশি ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য বিনিয়োগকারী। বিশেষ স্কিমের আওতায় সাধারণ বিনিয়োগকারীর কোটা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী ২০ শতাংশ কোটা সুবিধা পেয়ে থাকে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here