ফেঁসে যাচ্ছেন খলনায়ক মনসুর আলম

0
479
1123স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজার কারসাজির খলনায়ক মনসুর আলস ফেঁসে যাচ্ছেন । ইতোমধ্যে খলনায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। শেয়ারবাজারে মহাধসে নেপথ্যের নায়কদের খুঁজে বের করতে ড. খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদের প্রতিবেদন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সেচঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বর্তমানে বিভগীয় নিবিড় তদন্তের ওপর বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে তদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন বিএসইসি সদস্য মনসুর আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কারসাজিতে জড়িত থাকার যেসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে সেসবের বিভাগীয় তদন্ত শেষ পর্যায়ে, শিগগিরই চ’ড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অভিযোগের প্রমাণ পেলে ছাড় পাবেন না মনসুর আলম- এমনটাই নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ড. ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদনে মনসুর আলমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো হলো- চেয়ারম্যানের অবর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০১০ সালের ৬ ও ৭ ডিসেম্বর অবৈধভাবে চেক ও নেটিং বিষয়ে দু’টি নির্দেশনা জারি করেন। অনৈতিকভাবে বৈধতা দেয়ার প্রক্রিয়ায় তিনিই মূল হোতা ছিলেন। চেয়ারম্যানের আনুকূল্য ও সম্মতি ছাড়া যেহেতু কমিশনের অনুমোদন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয় না সেহেতু তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং সদস্য (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) মনসুর আলম উভয়েই দায়ী।

পরে এ ব্যাপারে অভিযোগ উঠলে মনসুল আলম পদত্যাগ করেন। আর ওই দুই নির্দেশনার সুযোগে একটি মহল শেয়ার বিক্রি করে বিপুল লাভ নিয়ে পুঁজিবাজার থেকে বেরিয়ে যায়। এ ঘটনার পরেই ৮ ডিসেম্বর থেকে ভয়াবহ ধস নামে পুঁজিবাজারে।

উল্লেখ্য, অনৈতিকভাবে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে সম্প্রতি কমিশনের তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভুঁয়ার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্ত করা হয়। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তবে মনসুর আলম বর্তমানে বিএসইসিতে কর্মরত না থাকায় তার বিরুদ্ধে কোন আইনের ধারায় ব্যবস্থা নেয়া হবে তা খতিয়ে দেখছে বিএসইসি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির একজন কমিশনার বলেন, ‘গত ২২ আগস্ট মনসুর আলমকে তদন্তের স্বার্থে শুনানিতে তলব করা হয়। শুনানিতে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিত বক্তব্য কমিশনে দাখিল করতে বলা হয়।’ তদন্ত কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে বলে জানান তিনি।

কমিশনার আরো বলেন, ‘যেহেতু মনসুর আলম পদত্যাগ করেছেন সেহেতু প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাকরিবিধি নাকি সাধারণ ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা  হবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এর আগে মনসুর আলমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে গঠিত বিভাগীয় কমিটির একমাত্র সদস্য হেলাল উদ্দিন নিজামী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্ত কমিটি এবং সরকারের সুপারিশ অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কাজ করে যাচ্ছে বিএসইসি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। এমনকি বিএসইসির সাবেক বা বর্তমান কর্মকর্তা যেই হোক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

সূত্রে জানা গেছে, মনসুর আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে বিভাগীয় কমিটিটি গঠন করা হয় ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর। পরে ২০১২ সালের ৮ আগস্ট বিএসইসি কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটিকে তথ্য সরবরাহের লক্ষ্যে বিএসইসির সব বিভাগীয় প্রধান বরাবর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। চিঠিতে ড. ইব্রাহীম খালেদের প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুসারে আন-রিয়েলাইজড প্রফিটের বিপরীতে স্টক শেয়ার ইস্যুর বিষয়ে বিভাগীয় কমিটির কাছে তথ্যাদি (যদি থাকে) চাওয়া হয়।

আর চলতি বছরের ২২ আগস্ট মনসুর আলমকে বিএসইসির কার্যালয়ে শুনানিতে তলব করা হয়। শুনানিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিত বক্তব্য কমিশনে দাখিল করতে বলা হয়।

মনসুর আলমের বিরুদ্ধে কমিশনের বিভাগীয় প্রধানদের কাছে যেসব তথ্য চাওয়া হয় তা  হলো- ১. মনসুর আলম কমিশনের সদস্য কিংবা কর্মকর্তা থাকালীন শেয়ার বাজারে সম্পৃক্ততা তথা তার নিজ নামে অথবা স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের নামে পরিচালতি কোনো বিও হিসাবের (যদি থাকে) তথ্য এবং হিসাবগুলোর পরিচালিত লেনদেনের তথ্যাদি; ২. ২০০৯ ও ২০১০ এ দুই বছরে সেকেন্ডারি মার্কেটে সার্কুলার ট্রেডিং ও ব্লক ট্রেডিং, অস্বাভাবিক লেনদেন প্রভৃতি বিষয়ে মনসুর আলমের সম্পৃক্ততা এবং এসব কাজে তিনি কোনো বেআইনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন  কি না সে সংক্রান্ত তথ্যাদি; ৩. ওই সময়ে প্রাইমারি ইস্যু কর্মকা-ে ডাইরেক্ট লিস্টিং, কোম্পানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, শেয়ারের ঊর্ধ্বমূল্য নির্ধারণ, বুক বিল্ডিং পদ্ধতির অপপ্রয়োগ, ফেসভ্যালু বা কম মূল্যে বিশেষ ব্যক্তি বা সংস্থাকে প্লেসমেন্ট প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে মনসুর আলমের সম্পৃক্ততা এবং এসব কাজে তিনি কোনো বেআইনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন  কি না সেসব বিষয়ের ওপর তথ্যাদি; এবং ৪. রাইট শেয়ার প্রেফারেন্স শেয়ার, আইপিও, রিপিট আইপিও, আন-রিয়ালাইজড প্রফিটের বিপরীতে স্টক ইস্যু প্রভৃতি বিষয়ে মনসুর আলমের সম্পৃক্ততা এবং এসব বেআইনি কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না তা জানতে  চাওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here