আদালত প্রতিবেদক : ন্যূনতম শেয়ার ধারণ না করেই পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন ফু-ওয়াং ফুডস লিমিটেডের দুই শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, যা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে গেল সপ্তাহে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেন মো. জুয়েল শিকদার নামে একজন বিনিয়োগকারী।

এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠনের নির্দেশ দেয়া হবে না— এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) চার সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের দ্বৈত বেঞ্চ।

বিএসইসির ২০১১ সালের ২২ নভেম্বরের নির্দেশনা অনুসারে, অন্তত ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ না করলে কেউ তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালক (স্বতন্ত্র পরিচালকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়) হওয়ার যোগ্য নন। খাদ্য-আনুষঙ্গিক খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফু-ওয়াং ফুডস লিমিটেডের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছাড়া এর পর্ষদের কোনো সদস্যই ন্যূনতম শেয়ার ধারণ করেন না।

কোম্পানিটির পর্ষদে এমডির বাইরে দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক ও আরো দুজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক রয়েছেন। স্বতন্ত্র পরিচালক ক্রিকেটার এ এম নাইমুর রহমান পর্ষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তার হাতে কোম্পানির কোনো শেয়ার নেই। আরেক স্বতন্ত্র পরিচালক কাজী তফাজ্জল হোসেনের হাতেও কোনো শেয়ার নেই।

৩০ সেপ্টেম্বরের উপাত্ত অনুসারে, এমডি আরিফুর রহমান চৌধুরীর হাতে কোম্পানিটির প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। বাকি দুই পরিচালক কমল কান্তি মণ্ডল ও বিপ্লব চক্রবর্তীর হাতে রয়েছে যথাক্রমে ০.০০৫ ও ০.০৩৪ শতাংশ শেয়ার।

এছাড়া সম্মিলিতভাবে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে বর্তমানে কোম্পানির মাত্র ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, বিএসইসির নির্দেশনায় যেখানে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ উৎসাহিত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এককভাবে ২ শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থদের নিয়ে গঠিত এ পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবি রিটকারীর।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফু-ওয়াং ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্য পরিচালকদের মধ্যে যারা পর্যাপ্ত শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের কেন পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে না এবং স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে শেয়ার কিনে যারা এ যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তাদের কেন পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না— এ মর্মে বিএসইসির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য, ন্যূনতম শেয়ারধারণ-সংক্রান্ত নির্দেশনায় বিএসইসি বলেছিল, উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশের শর্ত পূরণ না করলে কোনো কোম্পানি রাইট শেয়ার বা পুনঃগণপ্রস্তাবের মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে নতুন করে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে না। আর কোনো পরিচালক (স্বতন্ত্র বাদে) ২ শতাংশের শর্ত পূরণ করতে না পারলে তাকে পদ হারাতে হবে। ওই বছরই এ নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করে চার কোম্পানির ১৪ জন পরিচালক আদালতে একটি রিট করেন। তবে শেষ পর্যন্ত পরিচালকদের রিট খারিজ করে বিএসইসির সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন আদালত।

রিটকারীর অভিযোগ, ফু-ওয়াং ফুডের পরিচালকদের হাতে যথেষ্ট শেয়ার না থাকায় কোম্পানির মুনাফা ও লভ্যাংশে এর ব্যবসার প্রকৃত অবস্থার প্রতিফলন ঘটছে না। এ কারণেই যথেষ্ট শেয়ার ধারণ করেন— এমন ব্যক্তিদের কোম্পানির পর্ষদে অন্তর্ভুক্তি দরকার। তিনি আরো বলেন, এর আগেও পর্যাপ্ত শেয়ার না থাকায় ১৪ কোম্পানির পরিচালক পদ হারিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ফু-ওয়াং ফুডেও অযোগ্য পরিচালকরা পদ হারাবেন, যার সুফল পাবেন বিনিয়োগকারীরা।

২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় ফু-ওয়াং ফুড। বার্ষিক শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ১ টাকা ৩ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১ টাকা ৫২ পয়সা।

এদিকে সদ্য সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই, ২০১৬-মার্চ, ২০১৭) কোম্পানিটির অনিরীক্ষিত ইপিএস হয়েছে ৪৩ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৫৯ পয়সা। ৩১ মার্চ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১২ টাকা ১৭ পয়সায়।

ডিএসইতে সর্বশেষ ২১ টাকা ১০ পয়সায় ফু-ওয়াং ফুডের শেয়ার কেনাবেচা হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ২৭ টাকা ৭০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ১২ টাকা।

২০০০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য-আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি ৬০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১২ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সর্বশেষ উপাত্ত অনুসারে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মাত্র ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৬ দশমিক ৮৩, বিদেশী দশমিক শূন্য ১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে বাকি ৮৮ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here