ফাস ফাইন্যান্স উদ্যোক্তাদের শেয়ার ধারণ নিয়ে জটিলতা

0
1180

সিনিয়র রিপোর্টার : ‘ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড’-এর উদ্যোক্তা-পরিচালকরা নিয়ম না মেনে কোম্পানির প্রায় ২৭ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। শেয়ার বিক্রির কোনো ঘোষণা না দিলেও কোম্পানির ২৭ শতাংশ শেয়ার উধাও। এটি সিকিউরিটিজ আইনে অপরাধ হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

তবে ব্যাখ্যা  হিসেবে ‘২০১৫ সালের অনুমোদিত একাউন্টসকে’ ফলো করা হয়েছে বলেন ফাস ফাইন্যান্সের কোম্পানি সচিব মো. মহসিন রেজা খান। তিনি বলেন, একাউন্টসে ফুটনোট হিসেবে এটা প্রকাশ করা হয়। আমাদের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত আমরা জানিয়েছি।

কোম্পানি থেকে সরবরাহকৃত উদ্যোক্তাদের শেয়ার ধারণের চিত্র (লাল বৃত্ত) প্রকাশ করা হলো
DHAKA STOCK EXCHANGE (LISTING) REGULATIONS, 2015 NOTIFICATION (Dated, the 30th June, 2015) -অনুসারে

ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে বর্তমানে ৩২ দশমিক ৮২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। গত বছর শেষে ছিল ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত শেয়ার ধারণের চিত্র

উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন সাপেক্ষে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ৩০ দিনের আগাম ঘোষণার বিধান রয়েছে। কিন্তু ফাস ফাইন্যান্সের পরিচালকরা ২৭ শতাংশ শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তর করলেও স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রির কোনো ঘোষণা দেয়নি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ ফাস ফাইন্যান্সের উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার ছিল ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ৩১ অক্টোবর ২০১৭ উদ্যোক্তাদের শেয়ার কমে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৮২ শতাংশে। ৯ মাসের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকরা ২৬ দশমিক ৯১ শতাংশ, অর্থাৎ তিন কোটি ৪৭ লাখ ৩৩ হাজার শেয়ার ঘোষণা না দিয়ে বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।

কোম্পানির ২৭ শতাংশ শেয়ার হঠাৎ উধাও। কর্তৃৃপক্ষ শেয়ার বিক্রির কোন প্রতিবেদন ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেনি।

বর্তমানে কোম্পানিটির পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ফাস ফাইন্যান্সে শেয়ারধারী পরিচালকের তালিকায় আছেন পোশাক শিল্প খাতের উদ্যোক্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও বিএমবিএর সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ এ হাফিজ।

এছাড়া এ তালিকায় আছেন আবুল শাহজাহান, অরুণ কুমান কুণ্ডু, কাজী মাহজাবীন মমতাজ, মাহফুজা রহমান বেবি, সোমা ঘোষ, ড. ইউ মল্লিক ও আথারুল ইসলাম এবং মো. রাসেল শাহরিয়ার কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।এর আগে ২০১৪ সালের এপ্রিলে ফাস ফাইন্যান্সের চার উদ্যোক্তা কোম্পানিটি ছেড়ে চলে যান। তাদের হাতে থাকা সব শেয়ার তারা ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করে দেন।

তারা হলেন- শাহনাজ আহমেদ, মো. সিরাজুল ইসলাম, মাহমুদুল হক শামিম ও সৈয়দ মনোয়ার আলী। শাহনাজ আহমেদের কাছে থাকা ৩১ লাখ ৪৬ হাজার ৬২৩ শেয়ার, মো. সিরাজুল ইসলাম কাছে থাকা দুই লাখ ৪২ হাজার ৮৭০ শেয়ার, মাহমুদুল হক শামিমের কাছে থাকা দুই লাখ ৭০ হাজার ৭১৯ শেয়ার এবং এনামুল হক মনজুর কাছে থাকা দুই লাখ ৪২ হাজার ৮৭০ শেয়ারের মধ্যে নামমাত্র কিছু শেয়ার রেখে বাকি সব শেয়ার তারা বিক্রি করে দেন।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফাস ফাইন্যান্সের মোট শেয়ারের ৩২ দশমিক ৮২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২৮ দশমিক শূন্য আট শতাংশ। বাকি ৩৯ দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১২৯ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here