ফাঁসির দড়িতে ঝুলল মিরপুরের কসাই কাদের

0
601
এস বি ডেস্ক : অনেক নাটকীয়তার পর বৃহস্পতিবার রাতেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনকারীদের অন্যতম আব্দুল কাদের মোল্লার।

রাত ১০টা ১ মিনিটে জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে ছয়জন ফাঁসি কার্যক্রম শেষ করেন বলে কারা অভ্যন্তরের কয়েকটি সূত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেছে।

নৃশংসতার জন্য একাত্তর সালে আলবদর বাহিনীর সদস্য মোল্লার কুখ্যাতি ছড়িয়ে ছিল মিরপুরের কসাই নামে। বিচার চলাকালে কাঠগড়ায় থেকেও তার দম্ভোক্তি শোনা গিয়েছিল- বাংলাদেশ হয়েছে বলেই অনেকের মাতবরি বেড়ে গেছে।

অপরাধযজ্ঞের দীর্ঘ ৪২ বছর পর বিচারের পর সাজা কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার জন্য প্রথম কারো মৃত্যুদণ্ড কারর্যকর হল। গ্রেপ্তার হওয়ার ৩ বছর ৫ মাস পর শুক্রবার রাত্রির প্রথম প্রহরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সর্বোচ্চ দণ্ড কার্যকর করা হয়।

ফাঁসি কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্র রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উল্লাসের খবর পাওয়া যায়। মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যাকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে ২০০৮ সালে পল্লবী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ১৩ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সব বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও চেম্বার বিচারপতির একটি আদেশে গত মঙ্গলবার ফাঁসির মঞ্চ থেকেই ফিরে আসেন একাত্তরের এই ঘাতক।

তবে বৃহস্পতিবার দিনে পুনর্বিবেচনার দুটি আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর রাতেই ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হয় একাত্তরের কসাই কাদেরকে।

২০১১ সালের ১ নভেম্বর কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যা, খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর ২৮ ডিসেম্বর অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

পরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। এই দণ্ড দেয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের সুযোগ ছিলো না। সর্বোচ্চ দণ্ডের দাবিতে প্রতিবাদে জেগে উঠে ছাত্র-জনতা।

উভয়পক্ষকে আপিলে সমান সুযোগ দিয়ে সংশোধন করা হয় আইন, যে আইনে করা আপিলে গত ১৭ সেপ্টেম্বর কাদেরের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here