কম লোকবল দিয়ে চলছে আইডিআরএ

0
406

মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান : দেশে প্রায় ৭৭টি সাধারণ ও জীবন বিমা প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে যে পরিমাণ লোকবল প্রয়োজন তা নেই বলে জানিয়েছেন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম. শেফাক আহমেদ। তিনি আরও জানান, বর্তমানে মাত্র ২৫ শতাংশ লোকবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে আইডিআরএ।

বুধবার রাজধানীর মতিঝিলের আইডিআরএর কার্যালয়ে বিমা বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টারস ফোরামের (আইআরএফ) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন এম. শেফাক আহমেদ।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, লোকবল সঙ্কটে ভুগছে বিমার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। প্রয়োজনের চেয়ে ৭৫ শতাংশ কম লোকবল নিয়ে দেশের বিমা খাত নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের।

বিমা খাত পিছিয়ে থাকার কারণ হিসেবে এম. শেফাক আহমেদ বলেন, বিমার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট লোকবল ও অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের বিমা কোম্পানিগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ ব্যবস্থাপক সংকট; দক্ষ লোকবল সংকট এবং পরিচালন অদক্ষতার কারণে এ খাতে নানা অনিয়ম রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিমা খাতের উপর জনগণের আস্থার পরিবেশও তৈরি হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

শুরু থেকেই বিমা খাত অবহেলিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নিরলসভাবে কাজ করছে আইডিআরএ। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরে প্রথমবাবের মতো বিমা মেলারও আয়োজন করা হয়েছে। এ বছরের শেষের দিকে বিভাগ ভিত্তিক বিমা মেলার আয়োজন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আইডিআরএ সদস্য সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা বলেন, দেশে প্রধান ৩টি আর্থিক খাত হচ্ছে- ব্যাংক, পুঁজিবাজার ও বিমা খাত। আমাদের দেশে পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং খাত অনেক এগিয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, সে তুলনায় এগুতে পারেনি বিমা খাত।

তিনি এ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন।

সভায় আইআরএফ সভাপতি গোলাম সামদানির নেতৃত্বে সাংবাদিকরা বিমাখাতের উন্নয়নে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। বিমার উন্নয়নে এবং এ খাত নিয়ে মানুষের মাঝে বিদ্যমান নেতিবাচক ধারণা দূর করতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে আইডিআরএকে পরামর্শ দেন তারা।

আইডিআর কার্যালয়ে প্রবেশে সাংবাদিকদের নানা ধরনের বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয় উল্লেখ করে গোলাম সামদানি বলেন, সরকারের অন্যান্য রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংবাদিকরা যেভাবে প্রবেশ করতে পারে, এখানে সেভাবে পারে না। তাই দীর্ঘদিন ধরে আইডিআরএর সঙ্গে গণমাধ্যমের একটি অঘোষিত দূরত্ব রয়ে গেছে।

অনুষ্ঠানে আইআরএফ সদস্যসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা এবং আইডিআরএর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here