প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেট ইতিবাচক

0
629

সিনিয়র রিপোর্টার : পুঁজিবাজারের মূলধন ৩ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। তবে তা সাড়ে তিন বছর পরে। এর আগে ২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বাজার মূলধনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬১৭ কোটি ৫ হাজার টাকা। এরপর থেকে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর বাজার মূলধন দুই লাখ কোটির ঘরে অবস্থান করেছে। যে কারণে সেকেন্ডারি মার্কেটের সঙ্গে প্রাইমারি মার্কেটেও চাঙ্গা। তবে কতোদিন অবস্থান করবে তা নিয়েই সংশয় অনেক বিনিয়োগকারীর।

সেকেন্ডারি মার্কেটের সঙ্গে প্রাইমারি মার্কেট চাঙ্গা ভাবের কারণ হচ্ছে- ইতোমধ্যে প্রতিমাসে পুঁজিবাজারে দুটি করে কোম্পানি আইপিওর টাকা উত্তোলন করছে। অন্যদিকে কোম্পানির সাবস্ক্রিপশনও চলছে। পুঁজিবাজারে নিত্যদিনে ‘তরল মানি’ প্রবেশের কারণে চাঙ্গাভাব হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, অবশেষে বাজার স্থিতিশীলতার ধারায় গত দুই কার্যদিবস ধরে বাজার মূলধন ৩ লাখ কোটি টাকার উপরে রয়েছে। সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৭৯০ কোটি টাকার উপরে দৈনিক লেনদেন হয়েছে। যা গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক লেনদেন দাঁড়ায় ৮০৪ কোটি টাকা।

পুঁজিবাজারে সেকেন্ডারি মার্কেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রাইমারি মার্কেটেও চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। প্রতি মাসেই দুটি করে কোম্পানি প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পাওয়ার পাশাপাশি সাবস্ক্রিপশন চলছে। এগুলো তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ইস্যু মূল্যের বেশি টাকায় শেয়ার লেনদেন হচ্ছে। এতে আইপিওর মাধ্যমে লাভবান হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। অন্যদিকে সেকেন্ডারি মার্কেটে ইতিবাচক ধারা বিরাজ করায় পূর্বের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এ হাফিজ জানান, যদিও দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে কিন্তু বাজার মূলধন অনুযায়ী তা খুবই নগণ্য। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার মতো কোনো ফান্ড এগিয়ে আসছে না। বীমা কোম্পানিগুলোর লাইফ ফান্ডের বিপুল পরিমাণ অর্থ অলস পড়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ মুনাফা করেছে তার সামান্য পুনঃবিনিয়োগ হয়েছে। আইনের মধ্যে থেকেই এসব প্রতিষ্ঠান এখনো বিপুল পরিমাণ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। এতে তারল্য সংকট নিরসন হওয়ার সঙ্গে বাজারে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরে আসবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরাও আস্থা ফিরে পাবে বলে জানান তিনি।

প্রাইমারি মার্কেটের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাইমারি মার্কেট চাঙ্গা রাখার কোনো বিকল্প নেই। কারণ প্রাইমারি মার্কেটের মাধ্যমেই কোম্পানির পুঁজি উত্তোলন করে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। তবে পুঁজিবাজারে যেন দুর্বল কোম্পানি প্রবেশ করে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত না করতে পারে সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সতর্ক থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাজিদ হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে বাজারে পরিধি অনেক বাড়ানো হয়েছে। আরো বাড়ানোর ক্ষেত্রে ক্লিয়ারিং করপোরেশন, ডেরিভেটিভ, কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠার কাজ করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে বাজার অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এ মুহূর্তে বাজারে বিনিয়োগকারীদের ভালো কোম্পানি দেখে বিনিয়োগ করার কোনো বিকল্প নেই। আর অবশ্যই বিনিয়োগের ৮০ শতাংশ অর্থ দীর্ঘমেয়াদি বা মধ্যমেয়াদির জন্য রাখতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here