প্রবাসী শ্রমিকদের বীমা আলোর মুখ দেখছে না

0
369

স্টাফ রিপোর্টার : কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়া অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও পরিবারের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্রবাসী শ্রমিকদের বীমার আওতায় আনার উদ্যোগটি দীর্ঘ ৫ বছর আটকে আছে। ২০০৯ সালে প্রথম এ বীমা অনুমোদনের উদ্যোগ নেয় বর্তমান সরকার। স্থবিরতার কারণে বহু সমালোচনার পর এ সরকারের গত মেয়াদের শেষ দিকে প্রবাসী শ্রমিক বীমা নীতিমালা তৈরির জন্য তোড়জোড় শুরু হয়।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রবাসী শ্রমিক বীমার নীতিমালা অদ্যাবধি আলোর মুখ দেখেনি। অন্যদিকে,  রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা বিদেশি শ্রমিকদের পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রবাসী বীমার বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, এ বিষয়ে বীমা কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। চিঠিতে বীমা গ্রহণকারী শ্রমিকরা কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবে, প্রিমিয়াম হার কেমন হবে, কোনো ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের হার কেমন হবে, এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল।

প্রস্তাবনা অনুসারে কোনো অভিবাসী শ্রমিক অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করলে পরিবার ১০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পাবে। দুর্ঘটনায় কোনো বীমা গ্রহীতার মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে ২০০ শতাংশ। এ ছাড়াও অসুস্থতা অথবা দুর্ঘটনা, দৃষ্টিশক্তি লোপ, উভয় পা হারানো, একটি পা একটি চোখ হারানো, একটি পা একটি হাত, একটি হাত একটি চোখ, দুর্ঘটনায় সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়লে ১০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

আরো জানা গেছে,  প্রাথমিক পর্যায়ে বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যাওয়া ৮৫ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের নামে বীমা করার উদ্যোগ নেয় সরকার। এ বীমার আওতায় প্রত্যেক বীমাকারীকে দুই লাখ টাকা করে রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন শেয়ার বলেন, এ ধরনের বীমা খুবই দরকারী। কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশেগামী শ্রমিকরা যদি ‘অল রিক্স বীমা’ করে যায় তাহলে আমরা তাদের সব দায়-দায়িত্ব নিতে পারি। যেমন একজন শ্রমিক যদি অসুস্থ্য হয় তার চিকিৎসা করাসহ যাবতীয় দায়িত্ব নেয়া। এ ছাড়া কেউ যদি মারা যায়, তাকে দেশে ফেরত আনা ও দাফন-কাফন করার দায়িত্ব নেয়া। এভাবে প্রবাসী শ্রমিকরা বীমা করলে তারা নিরাপদ থাকবে ও স্বস্তি পাবে।’ তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অনেক আগেই তারা একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিলেন বলে তিনি জানান।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, অভিবাসী কর্মীদের বীমা বাধ্যতামূলক করার একটি প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বিদেশে কোনো কর্মী স্বাভাবিক বা দুর্ঘটনায় মারা গেলে তার পরিবার হঠাৎ অসহায় হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ শ্রমিক ধারদেনা করে, জমি বিক্রি করে বা বন্ধক দিয়ে বিদেশে পাড়ি দেয়। তাদের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পরিবার নিঃস্ব হয়ে পথে বসে যায়। কিন্তু বীমা থাকলে একটু হলেও সহায়তা পাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here