প্রবাসীদের জন্য আকর্ষণীয় প্রকল্প চালু করবে এনআরবিসি ব্যাংক

0
382

স্টাফ রিপোর্টার : সংকট মোকাবেলা করে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকটিকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। এছাড়া যে উদ্দেশ্যে এই ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে ব্যাংক তা সফল করতে পারবে বলে জানিয়েছেন এনআরবি ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান তমাল এসএম পারভেজ।

তিনি বলেন, শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য আকর্ষণীয় প্রকল্প চালু করা হবে। এছাড়া অনিয়মের খবর প্রকাশে ব্যাংকটি ইমেজ সংকটে পড়েছে দাবি করে চেয়ারম্যান বলেন, এর ফলে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ৫০০ কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি গ্রাহক আমানত তুলে নেননি। বরং গ্রাহকের কাছে ব্যাংকের পরিচিতি এবং গ্রহণযোগ্যতা আরো বেড়েছে বলে জানান তিনি।

গতকাল সোমবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। এ সময় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি কাজী মো. তালহা উপস্থিত ছিলেন।

নিজেদের মধ্যে ঋণ ভাগাভাগি, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও দৈনন্দিন কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে নতুন প্রজন্মের এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংকের পরিচালকদের বিরুদ্ধে। নানা অভিযোগে ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পদ ছাড়েন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তবে পরিচালক নিজেরা ঋণ নেননি, তাদের সুপারিশে অন্যকে ঋণ দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তমাল পারভেজ।

সুপারিশের ঋণও আগামী ৬ মাসের মধ্যে ফেরিয়ে নেয়া হবে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, পরিচালকরা নিজেরা ঋণ নিতে পারেন না। তবে তাদের আত্মীয়স্বজন কিংবা পরিচিতজনরা ঋণ নিতে পারেন। এটি অন্যায় নয়। পরিচালকরা অনেককে ঋণ দেয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। সুপারিশের ভিত্তিতে ২৫০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। ঋণগুলো ভালোমানের ছিল। কিন্তু এরপরও ১০০ কোটি টাকা ঋণ ফেরত নেয়া হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাকি দেড়শো কোটি টাকাও ফেরত আসবে।

ব্যাংকের বেনামি শেয়ার প্রসঙ্গে তমাল পারভেজ বলেন, এই ব্যাংকে কোনো বেনামি শেয়ার নেই। বিদেশে প্রতিষ্ঠিতরা এই ব্যাংকের মালিকানায় রয়েছে। নতুন ৩ জনসহ বর্তমানে ৫৭ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। কামরুন নাহার সাকীর পরিচালক পদ নিয়ে আদালয়ের রায় রয়েছে। তার স্বামীর ঋণ কেলেঙ্কারি বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। তবে কামরুন নাহার সাকী বা তার কোনো প্রতিনিধিকে ব্যাংকের মিটিংয়ে ডাকা হয় না। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ব্যাংকের এমডির অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, করপোরেট সুশাসন ও কমপ্লায়েন্সে ঘাটতি ছিল। ব্যাংকের সব কিছুর জন্য এমডি দায়বদ্ধ। বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে নিয়োগ দিয়েছে। তাকে রক্ষার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। কিন্তু পদে থেকে তিনি প্রতিবাদ করেননি। যার ফলে তাকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণ কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭০১ কোটি টাকার ঋণের অনিয়মের বিষয়টি আমিই প্রথম বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছি। এই ব্যাংকের অনিয়মের খবর প্রকাশে ইমেজ সংকটে পড়েছে। যার ফলে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ৫০০ কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি গ্রাহক আমানত তুলে নেননি।

আমি ক্রাইসিস ম্যানেজার। সংকট মোকাবেলা করে এই ব্যাংকটিকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাব। বিদেশি বিনিয়োগ আনার যে উদ্দেশ্যে এই ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে আশা করি, ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে তা আনা সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here