শ্যামল রায়: মিজানুর রহমান সুজয়। একজন বিনিয়োগকারী। তিনি শেয়ার বাজারে প্রবেশ করেন ২০০৯ সালে। ঢাকা একচেঞ্জে বিনিয়োগ করার পাশাপাশি দেশের বাহীরের শেয়ার মার্কেট নিয়ে তার আগ্রহ জন্মাতে থাকে। এরপর একসময় তিনি ফরেক্সে নিয়মিত ট্রেড করতে থাকেন। দেশের শেয়ার বাজারে তার ব্রোকারেজ হাউজ আইডি এলসি। তার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার এবং বাহিরের শেয়ার মার্কেটের মধ্যে পার্থক্য কোথায়। এছাড়া আমাদের শেয়ার বাজারের সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বললেন স্টক বাংলাদেশের সাথে।

স্টক বাংলাদেশ: বাংলাদেশের শেয়ার বাজার এবং ফরেক্সে ট্রেড করার মধ্যে সুবিধা এবং অসুবিধা কি?

মিজানুর রহমান সুজয়: বাংলাদেশের শেয়ার বাজার ভাল তবে আমার দৃষ্টিতে কিছু কিছু সমস্য আছে বলে মনে হয়। যেমন বাহিরের ক্ষেত্রে তারা টেকনিক্যালি অনেক হাই। আবার আমাদের কোম্পানির সংখ্যাও অনেক কম। তাছাড়া ম্যাক্সিমাম কোম্পানিগুলোই ছোট ক্যাপিটালের ফলে অল্পতেই গ্যাম্বলিং করা সম্ভব। কিন্তু ফরেক্সে এটা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। কারন তাদের পেইড আপ হিউজ। এদিক থেকে তারা আমাদের থেকে যোজন যোজন পথ এগিয়ে।

স্টক বাংলাদেশ: ট্রেডিং টাইম এবং কেনার পর ম্যাচিউর হওয়ার জন্য যে দুদিন সময় লাগে তা নিয়ে আপনার মতামত কি?

মিজানুর রহমান সুজয়: আমার দৃষ্টিতে এটা একটা মারাত্মক সমস্যা। কারণ সময় বদলেছে। তাছাড়া অনেকেই এখন শেয়ার বাজারে ক্যারিয়ার গড়ছে। যেখানে এতগুলো লিকুইড মানির কেনা বেচা সেখানে ট্রেডিং টাইম মাত্র ৪/৫ ঘন্টা। এটা কি করে হয়। সকালে প্রস্তুতি নিতে নিতেই ১ ঘন্টা চলে যায়। এছাড়া শেয়ার কেনার পর বিক্রির জন্য T+2 যে নিয়মটি চালু আছে, তাও বাহিরের সাথে একেবারে সাংঘর্ষিক কারণ এটা শেয়ার বাজার এখানে দুই দিনে অনেক কিছুই ঘটে যাওয়া সম্ভব। এছাড়া যদি কোন কোম্পানির প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে, যেটা বাংলাদেশে অহরহই হয়ে থাকে। যেমন- কোম্পানি আগুনে পুড়ে যাওয়া, হরতালে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া। তাহলে বিনিয়োগকারীদের T+2 এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে এবং নিশ্চিত ভাবেই লস গুনতে হবে। কিন্তু ফরেক্সে তা নয়। আপনি কেনার পরই যদি মনে হয় আপনার ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে, তৎক্ষনাৎ তা বেঁচে দিতে পারবেন।

স্টক বাংলাদেশ: আমাদের মার্কেটে বড় বড় কোম্পানিগুলো তেমন ভাবে আসছে না। এটা নিয়ে আপনার অভিমত কি?

মিজানুর রহমান সুজয়: আমি মনে করি এটা সরকারেরই ব্যর্থতা। বিদেশি মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলো আমাদের দেশে প্রচুর ব্যবসা করে লাভ নিয়ে যাচ্ছে, অথচ তাদের কোন কন্ট্রিবিউশন নেই আমাদের শেয়ার বাজারে। কিন্তু বিদেশে এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। যদি এরকমটা বলা থাকত যে হয় তুমি আমাদে স্টক একচেঞ্জের সাথে থাক নইলে তোমার প্রফিটের এত পার্সেন্ট লভ্যাংশ আমাদের দিয়ে দাও। এরকম বাধ্য বাধকতা থাকলে তারা এমনিতেই আমাদের শেয়ার মার্কেটে আসবে।

স্টক বাংলাদেশঃ কিছুদিন ধরে বাজারে ব্যাংকের আধিপত্য দেখা গেল, কোন কারেকশন কি আশা করা যায়।

মিজানুর রহমান সুজয়: আমি মূলত: জেনারেল খাতেই বিনিয়োগ করি সব সময়। এক্ষেত্রে ছোট পেইড আপ কোম্পানি শেয়ার আমার বেশী পছন্দ। কারণ এগুলো মুভ করে দ্রুত। এছাড়া ফুড সেক্টর এ আমার অনেক পছন্দের। তাছাড়া অন্যখাতগুলোতে এখন একটু দেখেশুনে এগোচ্ছি। বস্ত্র ক্ষাতে আমি ধরা খেয়ে আছি। আমি লস টেক করি নাই। এটার জন্য আমার আরও আগে প্রিপায়ারড হওয় দরকার ছিল। প্রফিট টেক করার মত লস টেক করার জন্য প্রস্তুতি থাকতে হবে শেয়ার বাজারে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here