প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় উড়বে ইউনাইটেড এয়ার

2
12942

সিনিয়র রিপোর্টার : ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের নিজস্ব ১০টি বিমান ফের উড্ডয়ন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এয়ার কর্তৃপক্ষ। দেশের বৃহৎ বেসরকারি বিমান সংস্থার প্রতি আস্থা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পুঁজিবাজারের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে গত সপ্তাহে এ আবেদন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষের সাক্ষাৎ বিষয়ে সরকারের বিশেষ একজন মন্ত্রী দায়িত্বে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরে আবেদন করা হলেও সাক্ষাতের এখনো দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি বলে রোববার বিকালে এয়ার কোম্পানির বিশেষ একটি সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৫ মার্চ অনিবার্য কারণবশত বিমান উড্ডয়ন বন্ধ করে এয়ার কর্তৃপক্ষ। পরে বিমানের উড্ডয়ন শুরু করতে নানামূখী পদক্ষেপ নিলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা ব্যহত হয়। অবশেষে স্থিতিশীল পুঁজিবাজার ও ১ লাখ ২২ হাজার সাধারণ বিনিয়োগকারীর স্বার্থে ফের বিমান উড্ডয়নের চেষ্টা করছেন কোম্পানির চেয়ারম্যান। তাই প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। সে লক্ষে গত সপ্তাহে আবেদন করা হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা আবেদন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার অপেক্ষা করছি।

তিনি বলেন, ইউনাইটেড এয়ার ওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের নিজস্ব ১০টি বিমান রয়েছে। সি-চেক করলেই বিমানগুলো উড্ডয়ন উপযোগী হবে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি নতুন করে শুরু করতে।

উড্ডয়ন বন্ধের আগে ৬ বছরের পরিসেবায় ইউনাইটেড এয়ার দেশে-বিদেশে প্রায় ৫২ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। বিমান সংস্থাটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলে ১৪টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে। তাই দেশের বৃহৎ বেসরকারি বিমান সংস্থাটি নতুন করে উড্ডয়নের শুরু হলে লাখো বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সংরক্ষণ হবে বলে মনে করেন অনেক বিনিয়োগকারী। 

৬ বছরের পরিসেবায় ইউনাইটেড এয়ার প্রায় ১৪ লাখ যাত্রী এবং ২ হাজার ৮০০ টন মালামাল পরিবহন করেছে। সব মিলিয়ে কোম্পানির কর্মী সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ১০০ জন ছিল। তাই নতুন কর্মসংস্থান ও পুঁজিবাজারের স্বার্থে বৃহৎ কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তাদের ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শিথিল করার কথাও বলেন তারা।

২০১১ সালের নভেম্বর মাসের শেষে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) আইন করে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে এখন থেকে সম্মিলিতভাবে সব সময়ই ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক ছাড়া কোম্পানির অন্য পরিচালকদের হাতে এককভাবে সর্বনিম্ন দুই শতাংশ শেয়ার থাকা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় কোম্পানির পরিচালকের পদ হারাতে হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঘোষণার পরই কোম্পানির ১৭ উদ্যোক্তা-পরিচালকদের মধ্যে ১৫ জন এককভাবে সর্বনিম্ন দুই শতাংশ শেয়ার না থাকায় বিক্রি করে দিয়ে তারা বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড কমিশনের বাধ্যবাদকতায় ঐতিহ্য হারাতে থাকে বলে অনেক বিনিয়োগকারী জানান।

তবে প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় ফের উড্ডয়নের চেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন হাজার কোটি টাকার এয়ার কোম্পানিটির ১ লাখ ২২ হাজার সাধারণ বিনিয়োগকারী।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here