প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হস্তান্তর ও একীভূতকরণে ফি লাগবে

0
715

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশে টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বা মালিকানায় পরিবর্তনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পূর্বানুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু আইনের এ বিধান লঙ্ঘন করে শেয়ার পরিবর্তন করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এজন্য শেয়ার বা মালিকানা পরিবর্তনের প্রবণতা রোধে শেয়ার হস্তান্তরে ফি নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। পাশাপাশি একীভূতকরণেও ফি নির্দিষ্ট করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, টেলিযোগাযোগ খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে শেয়ার হস্তান্তরের প্রবণতা। তাই এ প্রবণতা রোধে শেয়ার হস্তান্তর অথবা বিক্রয় মূল্যের ওপর ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১-এর ২৪ ধারা অনুযায়ী ফি নির্ধারণের এ উদ্যোগ নেয়া হয়।

এদিকে সম্প্রতি একীভূত হওয়া সেলফোন অপারেটর রবি ও এয়ারটেলের একীভূতকরণ ফি ধরা হয় ১০০ কোটি টাকা। এটি একীভূত প্রতিষ্ঠানের মোট শেয়ারমূল্যের মাত্র শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টেলিযোগাযোগ খাতে একীভূতকরণে ফি নির্ধারিত থাকলেও দেশে এখনো এটি নির্দিষ্ট করা হয়নি। এ খাতটিতে একীভূতকরণের বিষয়ে কোনো নীতিমালাও নেই। এ অবস্থায় একীভূত প্রতিষ্ঠানের মোট শেয়ারমূল্যের ১ শতাংশ হারে একীভূতকরণ ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি।

জানা গেছে, শেয়ার হস্তান্তর, নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি বিক্রি ও একীভূতকরণ ফির ওপর মূল্য সংযোজন কর দিতে হবে। তবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সেকেন্ডারি শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হস্তান্তর ফি প্রযোজ্য হবে না। আর ফি প্রদানসাপেক্ষে শেয়ার হস্তান্তর, নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি বিক্রি ও একীভূতকরণের বিষয়ে অনুমোদন দেবে কমিশন।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার হস্তান্তরের প্রবণতা বাড়ছে। এ প্রবণতা রোধ করতে খাতটির প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার হস্তান্তরে ফি নির্ধারণ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এতে শৃঙ্খলাও ফিরে আসবে খাতটিতে।

এছাড়া একীভূতকরণে বর্তমানে নির্ধারিত কোনো ফি নেই। এটি বিবেচনায় নিয়ে একীভূতকরণের জন্যও ফি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১-এর ধারা ৩৭(২)(ঝ) অনুযায়ী বিটিআরসির কাছ থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান, সমিতি বা অংশীদারি কারবারের শেয়ার মূলধন বা মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকার বা বিটিআরসির পূর্বানুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। আর উপধারা ৩ অনুযায়ী, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো লাইসেন্সের স্বত্ব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে হস্তান্তরযোগ্য নয়।

এছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতের সব লাইসেন্সিং নীতিমালা ও লাইসেন্সের শর্তেও একই ধরনের বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। তবে গত কয়েক বছরে টেলিযোগাযোগ খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠান বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়াই শেয়ার ও মালিকানার পরিবর্তন করেছে। পরবর্তীতে কমিশনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে পরিবর্তনের বিষয়টির অনুমোদন চায় এসব প্রতিষ্ঠান।

শেয়ার বা মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন নিতে গত বছরের জুনে খাতটির সব প্রতিষ্ঠানের প্রতি নির্দেশনা জারি করে বিটিআরসি। সব সেলফোন অপারেটর, ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ), ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি), ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স), ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস (বিডব্লিউএ), ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি), পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক (পিএসটিএন), ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি), ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিফোন সার্ভিস প্রোভাইডার (আইপিটিএসপি), ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডার (ভিএসপি), ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (এনআইএক্স), ভিস্যাট ও কল সেন্টারকে এ নির্দেশনা দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর আগে ২০১৪ সালের জুলাইয়েও টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্বানুমোদন নেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here