প্রতিফলন আসবে ইয়াকিন পলিমারে

0
1658

সিনিয়র রিপোর্টার : স্বল্প মূলধনী কোম্পানি ইয়াকিন পলিমার লিমিটেডে (YPL) বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রত্যাশা প্রতিফলন আসছে। কারণ, তুলনামূলকভাবে গত বছরের চেয়ে চলতি বছরে শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে ইয়াকিন পলিমারের ঋণমান ‘ট্রিপল বি-টু’।

স্বল্পমুলধনী নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইয়াকিন পলিমারের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে ইয়াকিন পলিমারের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭৫ পয়সা। আগের বছর কোম্পানির একই সময়ে ইপিএস ছিল ৬৯ পয়সা। ২০১৬-এর ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানির মোট বিক্রি দাঁড়ায় ২৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

নতুন করে আরো বিনিয়াগে এবং বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আরো প্রায় ২৫ পয়সা ইপিএস বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যে কারণে নতুন বছরে মোট ইপিএস ১০০ পয়সা বা ১ টাকার বেশি হওয়ার বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে। কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণার হার গত বছরের তুলনায় দুটি ধারায় (নগদ এবং বোনাস) বাড়তে পারে। কোম্পানির বিশেষ একটি সূত্র এমন আভাস দিয়েছে।

একই সঙ্গে কোম্পানির উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক কিছু যন্ত্রাংশ ইউরোপ থেকে চলতি মাসে এসেছে। তা কারখানায় স্থাপনের কাজ চলছে এবং আগামী নভেম্বর মাসে বাকি যন্ত্রাংশ আসবে বলে সূত্র জানায়। সব যন্ত্রপাতি স্থাপন করে জানুয়ারি মাস থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হবে। এর মাধ্যমে কোম্পানির উৎপাদন-সক্ষমতা ৩০ শতাংশ বাড়বে। পাশাপাশি পণ্যেও কিছু বৈচিত্র্য আসবে।

ইয়াকিন পলিমারের চেয়ারম্যান কাজী আনোয়ারুল হক বলেন, শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থের ব্যবহারে শুরু থেকেই সচেতন ছিল ইয়াকিন পলিমার। ভবন নির্মাণসহ কারখানার আনুষঙ্গিক কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এলসির (লেটার অব ক্রেডিট) মাধ্যমে যন্ত্রপাতি আমদানির ক্রয়াদেশ দেয়া হয়েছে আগেই। ভেন্ডরদের অর্থও পরিশোধ করা হয়ে গেছে।

উৎপাদন সম্পর্কে তিনি বলেন, সব যন্ত্রপাতি স্থাপন করে জানুয়ারিতে আমরা সেখানে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে পারব। এর মাধ্যমে কোম্পানির উৎপাদন-সক্ষমতা ৩০ শতাংশ বাড়বে। পাশাপাশি পণ্যেও কিছু বৈচিত্র্য আসবে।

জানা গেছে, ব্যবসা সম্প্রসারণে যন্ত্রপাতি ক্রয়, কারখানা ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য শেয়ারবাজার থেকে ২০১৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করে ইয়াকিন পলিমার। এর মধ্যে কারখানার ভবন নির্মাণে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ১৩ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনার কথা জানায় কোম্পানিটি।

ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আইপিও অর্থ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইয়াকিন পলিমারের। তবে নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। এদিকে ৩১ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেয়া আইপিও অর্থ ব্যবহার প্রতিবেদন অনুসারে, তখন পর্যন্ত আইপিও তহবিলের ৩১ শতাংশ অব্যবহূত ছিল।

ডিএসইতে দেয়া ওই তথ্যে কোম্পানি জানায়, কারখানার ভবন নির্মাণ, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যন্ত্রপাতি আমদানি করতে এলসি খোলার কাজ সম্পন্ন করেছে ইয়াকিন পলিমার।

২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় ইয়াকিন পলিমার। তখন এর ইপিএস ছিল ১ টাকা ১ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১ টাকা ৪১ পয়সা। ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের সর্বশেষ এনটিটি (সার্ভিল্যান্স) রেটিং অনুসারে, ইয়াকিন পলিমারের ঋণমান ‘ট্রিপল বি-টু’।

১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের এ কোম্পানির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। রিজার্ভ ১৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩০ দশমিক ৫২ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ১৬ দশমিক শূন্য ৬ ও বাকি ৫২ দশমিক ৪২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here