প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ও অ্যাক্রন যৌথভাবে করবে বিদ্যুৎকেন্দ্র

0
310

স্টাফ রিপোর্টার : সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীতে প্রস্তাবিত ২০০ মেগাওয়াটের ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য পূর্ববর্তী অংশীদারিত্ব পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড (পিটিএল)।

বর্তমানে বাংলাট্র্যাক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান অ্যাক্রন ইনফ্রাস্ট্রাকচার সার্ভিসেস লিমিটেডকে সঙ্গে নিয়ে কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শেয়ারহোল্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে পিটিএল জানায়, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিদ্যুৎ ব্যবসার জন্য এর আগে পরিকল্পিত অন্য সব কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্ব থেকে সরে আসবে পিটিএল।

বাঘাবাড়ীর ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্রের প্রকল্পে তাদের নতুন অংশীদার প্রতিষ্ঠান অ্যাক্রন ইনফ্রাস্ট্রাকচার সার্ভিসেস। এজন্য প্যারামাউন্ট অ্যাক্রন এনার্জি নামে একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করা হবে। কনসোর্টিয়ামের ৫০ শতাংশ শেয়ার থাকবে পিটিএলের হাতে এবং বাকি ৫০ শতাংশ শেয়ার থাকবে অ্যাক্রনের হাতে। তবে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলই প্রকল্পে লিড অংশীদার হিসেবে থাকছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে জার্মান প্রতিষ্ঠান এগ্রিটেক ও গ্রুপের আরো দুই কোম্পানিকে সঙ্গে নিয়ে বাঘাবাড়ীতে ১০০ মেগাওয়াটের একটি এইচএফওভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের জন্য আবেদনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে পিটিএল।

এরপর জুলাইয়ে কোম্পানিটি জানায়, সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায় একই কনসোর্টিয়াম ডিজেলভিত্তিক দুটি ১০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করবে। সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, অংশীদার পরিবর্তন সাপেক্ষে প্রকল্পটি এরই মধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে।

সে দফায় পিপিভি এনার্জি নামের কনসোর্টিয়ামটির মালিকানায় ছিল প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, প্রাইমডিয়াল ও ভি এনার্জি নামের একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠান। তবে বাঘাবাড়ীর ২০০ মেগাওয়াট ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র প্রকল্পের জন্য সে কনসোর্টিয়ামটিও টিকল না। অবশ্য নতুন কনসোর্টিয়ামে পিটিএলের শেয়ার পিপিভি এনার্জি কনসোর্টিয়ামের চেয়ে বেশি থাকবে বলে জানা গেছে। লিড অংশীদার পিটিএলের বিদ্যুৎ ব্যবসার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও দেশের বিদ্যুৎ খাতে পরিচালন অংশীদার অ্যাক্রন ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। সর্বশেষ হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৯২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৭২ পয়সা। ৩০ জুন এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ২১ টাকা ৫ পয়সায়।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৪২ পয়সা ইপিএস দেখিয়েছে কোম্পানিটি। আগের বছর একই সময়ে তা ছিল ৪১ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর এর এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২১ টাকা ৪৬ পয়সায়।

২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ ও ৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। ২০১৫ হিসাব বছরে ১৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।

উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে পিটিএলকে ৪ বছর মেয়াদি নন কনভার্টেবল জিরো কুপন বন্ড ছেড়ে ৫০ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বন্ডের ম্যান্ডেটেড লিড অ্যারেঞ্জার আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেড।

২০১৭ সালের প্রথমার্ধে আলফা ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড প্রকাশিত রেটিং অনুসারে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-টু’।

২০১৩ সালে তালিকাভুক্ত প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১২৯ কোটি ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ৬৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার ১২ কোটি ৯০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৫৭; যার ৬০ দশমিক ৭৫ শতাংশ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৯ দশমিক ৬৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে বাকি ২৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here