ক্ষতিপূরণ দাবিতে জেনেভায় বৈঠক চলছে

0
327

Rana plza- 1এস বি রিপোর্ট : সাভারের বিধ্বস্ত রানা প্লাজা ও আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশন্সে দূর্ঘটনায়  হতাহত হয়েছেন হাজারো শ্রমিক। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে বুধবার থেকে জেনেভায় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলওর মধ্যস্থতায় এই বৈঠকে ১২ টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান যোগ দিতে রাজী হলেও ওয়ালমার্ট, বেনেটো এবং ম্যাঙ্গোর মতো বিশটির বেশি নামকরা ব্রান্ড এতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ক্ষতিপূরণের দাবিতে আন্দোলনরত আন্তর্জাতিক শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো কোনোভাবেই এসব দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে তাদের দায় এড়াতে পারে না। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা তাদেরই করতে হবে।

tazrin Fashion- 1জেনেভা থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা কতো অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে তৈরি আছেন সে সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছেনা।

প্রশ্ন উঠেছে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে বাংলাদেশে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ কি করেছে?

শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো জানায়, আন্তর্জাতিক ব্রান্ডগুলো এসব দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে তাদের দায় এড়াতে পারে না এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থায় তাদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। আর জেনেভায় এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত হবে বলে বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন তারা এই বৈঠককে গুরুত্বের সাথে দেখছেন।

তবে এই বৈঠকে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠনের উপস্থিতি না থাকায় একটি ফাঁক থেকে যাচ্ছে বলে বলছেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ- বিলসের সহকারী নির্বাহী পরিচালক সুলতান উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বিজিএমইএর এখানে অংশ গ্রহণ করা উচিৎ ছিল নিজ উদ্যোগেই।

তবে বিজিএমইএ-কে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ করা হয়নি বলে জানান বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম। তিনি বলেন, আমাদের অনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই বলা হয়নি। আমরা জানতামও না। মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি এমন একটি বৈঠক হচ্ছে। আমাদের জানালে ভাল হতো। কেননা আমাদের কাছে অনেক তথ্য রয়েছে। আমরা সেগুলো দিয়ে সহযোগিতা করতে পারতাম। আজিম বলছেন, রানা প্লাজা ও তাজরিন ফ্যাশন্সের দুর্ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ক্রেতারা যা করেছে সেটা খুবই নগণ্য। তিনি বলেন, অনেক প্রতিশ্রুতি থাকলেও তেমন কোনো সহযোগিতা শ্রমিকরা পাননি।

আজিম জানান, শুধু একটি প্রতিষ্ঠান প্রাইমার্ক, দুর্ঘটনার যারা বেঁচে গেছেন বা আহত হয়েছেন, কিংবা মৃতদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে দিয়েছে। তিনি বলেন, মৃত শ্রমিকদের পাওনা বেতন, ওভারটাইম, কিছুই তারা দেয়নি, ক্ষতিপূরণ তো অনেক পরের কথা। আমরা চার পাঁচ মাস ধরে অপেক্ষা করছি আন্তর্জাতিক চুক্তির জন্য। দেশের যে বাধ্যবাধকতা সেটাই তো তারা এখনো করেনি।

এর জবাবে বিজিএমইএর পক্ষে মি. আজিম জানান, তারা এ যাবত অনেককেই সহযোগিতা করেছেন এবং তা এখনো অব্যাহত আছে। বিজিএমইএ ও সরকারের পক্ষ থেকে, যারা বেঁচে আছে বা আহত হয়েছে তাদের অনেককেই ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, নিহত ৭শ ৭৭জন শ্রমিকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ইতিম্যেধ্যই ২ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে। যাদের অঙ্গহানি হয়েছে তাদের দেওয়া হয়েছে ১০ থেকে ১৫ লাখ করে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা নামে একটি বহুতল ভবন ধসে এগারোশর বেশী মানুষ মারা যায়, যার বেশীরভাগই ছিল গার্মেন্টস শ্রমিক। আর গতবছর নভেম্বর মাসে ঢাকার কাছে আশুলিয়ায় তাজরিন ফ্যাশনে এক অগ্নিকান্ডে সরকারী হিসেবে ১১২ জন মারা যায়। দুটি ঘটনাতেই আহত হয় আরও অসংখ্য মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here