পোশাকখাত নিয়ে মহাপরিকল্পনা : ইউরোপের সঙ্গে চুক্তি আজ

0
443
সাভারে বিধ্বস্ত রানা প্লাজার উদ্ধার কাজ চলছে- ফাইল ছবি
123স্টাফ রিপোর্টার : দেশের তৈরি পোশাক কারখানা ও শ্রমিকের কর্মপরিবেশে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইউরোপের সঙ্গে আজ সোমবার ৫ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি হচ্ছে। মহা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউরোপের ৮০ টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দল আজ আসছেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সমন্বয়ে তাদের সফর পরিচালিত হবে। এ চুক্তির মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে দেশের পোশাক কারখানায় অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা কর্মসূচি।
সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর গত মে মাসে ইউরোপিয়ান অঞ্চলের ক্রেতারা বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হন। একটি তহবিল গঠনের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মসূচি চালানোর বিষয়েও সম্মতি জানায় ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ৮ জুলাই পর্যন্ত মোট ৮০টি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এ চুক্তিতে সই করেছে।
এ চুক্তি বাস্তবায়নে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল কাজ করবে। এর মধ্যে ২জন আগেই ঢাকায় এসেছেন। বাকি ৪জন আসছেন আজ সোমবার। আগামীকাল মঙ্গলবার প্রতিনিধি দলটি খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করবে। এ লক্ষ্যে তারা বাংলাদেশ সরকার, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলুল হক বলেন, আলোচনায় চুক্তি বাস্তবায়ন পরিকল্পনার বিষয়গুলোই গুরুত্ব পাবে। এ সফরের মাধ্যমে চুক্তি বাস্তবায়নে একধাপ এগিয়ে গেছি।
চুক্তি অনুযায়ী, এ সফরে একটি কার্যালয় নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া আগামী ৯ মাসের মধ্যে পরিদর্শন কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হবে। চুক্তি বাস্তবায়নে একটি স্টিয়ারিং কমিটির কার্যক্রমও নির্দিষ্ট করা হবে।
স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব রায় রমেশ চন্দ্র বলেন, মূলত চুক্তি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোর একটি হলো প্রতিনিধি দলের এ সফর। শ্রমিকের নিরাপত্তা জোরদারে কারখানা কর্মপরিবেশ উন্নয়নেই আমরা কাজ করব।
rana- 2গত ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে অন্তত ১ হাজার ১৩২ জন নিহত হন। এরপর মে মাসের মাঝামাঝি বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে একটি সমঝোতা চুক্তিতে সই করে পশ্চিমা এসব প্রতিষ্ঠান। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোট ‘ইন্ডাস্ট্রি অল’ ও ‘ইউএনআই গ্লোবাল’র উদ্যোগে ওই চুক্তি হয়। ইউরোপের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান চুক্তিতে সই করলেও ‘আইনি বাধ্যবাধকতার’ প্রসঙ্গ টেনে চুক্তিতে সই করা থেকে বিরত থাকে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ পোশাক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের যেসব কারখানা থেকে পোশাক কেনে সেগুলো ৯ মাসের মধ্যে পরিদর্শন করবেন। এক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অবকাঠামো নিরাপত্তার মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে। গুরুতর কোনো সমস্যা পেলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবে প্রতিনিধি দল।
Rana Plaza- 1চুক্তি অনুযায়ী, কারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অর্থসহায়তা দেয়ার কথা রয়েছে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর। এজন্য বাংলাদেশের পোশাক কারখানা নিয়মিত পরিদর্শন করবে তারা। একজন নির্বাহী পরিচালক পদের প্রধান পরিদর্শক ও সমন্বয়ক কারখানার মালিক ও শ্রমিকদের নিরাপদ কাজের পরিবেশের ব্যাপারে অবহিত করবেন। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ, চুক্তিতে অংশ নেয়া সব কোম্পানি এবং শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার ব্যাপারে সতর্ক করবেন। ক্রেতারা একটি তহবিল গঠন করবেন। তবে এখন পর্যন্ত এ তহবিলের জন্য অর্থ জোগার শুরু করেনি চুক্তির আওতায় থাকা স্টিয়ারিং কমিটি।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী ৮০টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে— অ্যাম্বারক্রম্বি অ্যান্ড ফিচ, আল্ডি নর্ড, আল্ডি সাউথ, আমেরিকান ঈগল আউট ফিটার্স, বেনেটন, বেস্টসেলার, সিঅ্যান্ডএ, ক্যারিফর, কুপ ডেনমার্ক, কটন অন, ডিস্ট্রা, ডি কে কোম্পানি, ফরেভার নিউ, জিস্টার, এইচঅ্যান্ডএম, হেমটেক্স, ইন্ডিটেক্স, জনলুইস, জোগিলো, জুরিটেক্স, কিক, কেমার্ট, লোবল, ম্যাঙ্গো, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, মেট্রো, প্রাইমার্ক, পুমা, নেক্সট, পিভিএইচ, এস অলিভার, সিনজন অ্যাপারেল, সুইচার, টার্গেট, টেসকো প্রভৃতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here