শ্যামল রায়ঃ পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট শেয়ার ব্যবসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কে কত দক্ষ এবং ভাল ব্যবসায়ী তার পোর্টফোলিও দেখলেই বোঝা যায়। সত্যি বলতে কি পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট এর উপরেই একজন শেয়ার ব্যবসায়ীর সফলতার মাত্রা অনেকাংশে নির্ভরশীল।

আসিফ করিম একজন দক্ষ পোর্টফোলিও ম্যানেজার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব অনেকগুলো পোর্টফলিও সামলাচ্ছেন দক্ষ হাতে।  কিভাবে একটি সুন্দর পোর্টফোলিও সাজানো যায়, সে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা রইল পোর্টফোলিও ম্যানেজার আসিফ করিমের সাথে স্বাক্ষাতকারের মাধ্যমে।

স্টক বাংলাদেশ: একটি আদর্শ পোর্টফোলিওর মানদন্ড কি? কিভাবে পোর্টফোলিও সাজালে ঝুকির মাত্রা এড়ানো সম্ভব।

আসিফ করিম:  একজন ভালো শেয়ার ব্যবসায়ীর প্রথম গুন হলো তার পোর্টফোলিও সাজানোর ক্ষমতা। পোর্টফোলিও একনজর দেখেই বোঝা সম্ভব তিনি কি রকম ব্যবসায়ী। তিনি কখনো অন্যের কথায় কিংবা প্ররোচনায় কান দেন না। একটি ভালো পোর্টফোলিও অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। যেমনঃ ফান্ডামেন্টাল এবং ভবিষ্যৎ ভালো হতে পারে এমন সব শেয়ার কিংবা ফান্ডামেন্টাল এবং ট্রেন্ড মেনে চলে এমন সব শেয়ার পোর্টফলিওতে রাখতে হবে। আর ঝুকি মুক্ত রাখা একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ তবে কতটুকু ঝুকিমুক্ত রাখায় যায় তার চেষ্টা করতে হবে।

স্টক বাংলাদেশ: ক্রয়ের পূর্বে কোন কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। কোন কোন বিষয়গুলোকে এড়িয়ে চলতে হবে।

আসিফ করিম:  সব সময় খেয়াল রাখতে হবে, যা কিছু করার তা কেনার আগেই করতে হবে। শেয়ার কেনার পর আসলে কোন তথ্যই খুব বেশী কাজ দেয় না। কাজেই যত সব তথ্য উপাত্ত যোগাড় করা খোজখবর নেয়া ক্রয়ের আগে করতে হবে। ক্রয়ের পরে নয়।

 স্টক বাংলাদেশ: একটি পোর্টফোলিও সাজাতে নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত কি কি ভুলগুলো করে থাকেন।

আসিফ করিম:  একেক জনের পোর্টফোলিও সাজানোর ধরন একেক রকম হতে পারে। অনেকে দামের বিষয়টা প্রাধান্য না দিয়ে শুধুমাত্র ফান্ডামেন্টাল শেয়ার গুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। কিন্তু এক্ষেত্রেও লসের সম্ভাবনা আছে। মূল্য সংশোদনের নিয়মে যখন শেয়ার গুলোর দাম কমতে থাকে তখন তারা স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হন। আবার কোন বিশেষ শেয়ারে সব মূলধন বিনিয়োগ করে পরে ভালো সুযোগ আসলেও সেটা গ্রহন করতে পারে না। এখানে পরিস্থীতি সব সময় বদলায়। কাজেই পরিবর্তিত পরিস্থীতিতে পোর্টফোলিও সাজাতে না পারাটাও বড় ভুল হতে পারে।

স্টক বাংলাদেশ: পোর্টফোলিও সাজাতে বিশেষজ্ঞদের মতামত কিভাবে গ্রহন করা উচিত।

আসিফ করিম:  এক্ষেত্রে একটু চোখ কান খোলা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে তারা যদি এতই সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারে। তাহলে তো তারা নিজেরাই অনেক লাভবান হতে পারত। তারা এসব কথা অনেক সময় বলার জন্যই বলে থাকেন।  এটা অনেকক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির কারণও হতে পারে।

স্টক বাংলাদেশ: পোর্টফোলিও সাজাতে কোম্পানির কোন কোন বিষয়গুলো একজন বিনিয়োগকারীকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আসিফ করিম:  শুধু কম দামে শেয়ার কিনলে লাভ হবে এমন নিশ্চয়তা কিন্তু কোথাও নাই। তাই শেয়ারটির স্ট্রেন্থ বুঝে বিনিয়োগ করতে হবে। শেয়ার সংখ্যা কম অথচ প্রবৃদ্ধি অনেক ভালো এটা বিবেচনায় নিতে হবে। ভালো ব্যবস্থাপনা কোম্পানীর সম্প্রাসারণ কর্মসূচী কিরকম। ব্যায় সাশ্রয়ী কি না এবং তা স্থাপনের পরিকল্পনা কিরুপ তাও যথাযথভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে। দর উঠানামার ধরন মাথায় রাখতে হবে। আর দাম বাড়তে থাকলে আরও বাড়বে এই চিন্তাটা মাথা থেকে সড়াতে হবে।

স্টক বাংলাদেশ: এক সময়ের সাজানো পোর্টফোলিও কি দীর্ঘদিন ধরে কাজে লাগানো যেতে পারে।

আসিফ করিম:   শেয়ার বাজার প্রতিনিয়তয়ই পরিস্থিতি বদলায়। তাই একটি পোর্টফোলিও সব সময় কাজ দেবে তা হতে পারে না। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সময়ে সময়ে পোর্টফোলিও পর্যালোচনা করে আপডেট করে নিতে হবে। প্রয়োজনে ঝুকির মাত্রা কমিয়ে কিভাবে মুনাফা বাড়ানো যায় সে চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সর্বপরি শেয়ার বাজারে লাভই মূল কথা এটা বিবেচনায় রেখে বিনিয়োগ পরিকল্পনা করতে হবে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here