পূবালী ব্যাংকে বন্ধকী জমি গোপনে বিক্রি, বিপাকে ক্রেতা

0
311

মুরাদুজ্জামান (মুরাদ), জামালপুর থেকে : জামালপুরে পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের কাছে ৭৮ শতাংশ জমি বন্ধক রেখে ২০১০ সালে ২৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন মেসার্স ইসলামপুর মেশিনারিজের মালিক সাবিনা ইয়াসমিন ও রফিকুল ইসলাম। সেই ঋণ পরিশোধ না করেই ৬৫ শতাংশ জমি তথ্য গোপন করে আনোয়ারুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন তারা।

ঋণের দায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই জমি নিলামে বিক্রির জন্য ২৩ জুলাই জাতীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপরে গোপন তথ্য প্রকাশ হলে বিক্রেতা বিষয়টি আমলে না নেয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা। একই সঙ্গে সুরাহায় জামালপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ৩টি মামলা করেন তিনি।

জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার ভেঙ্গুরা গ্রামের বদিউজ্জামান সরদারের ছেলে রফিকুল ইসলাম ও তার ওয়ারিশরা মেসার্স ইসলামপুর মেশিনারিজের নামে জামালপুর শাখার পূবালী ব্যাংক থেকে ২০১০ সালে ২৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন।

সেই ঋণ সুদাসলে এখন প্রায় ৪৬ লাখ ৯ হাজার ১৪১ টাকা হয়েছে। ব্যাংকের কাছে বন্ধকি জমির কয়েকটি দাগে মোট ৭৮ শতাংশ থেকে ৬৫ শতাংশ জমি বিক্রি করেন রফিকুল। এসব জমি কয়েকটি দলিল মূলে ক্রয় করেন মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

এ বিষয়ে তথ্য গোপনকারী ঋণ গ্রহীতা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে কোন সদুত্তর করেননি তিনি। অন্যদিকে জমি ক্রয়কারী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পূবালী ব্যাংকের ঋণের ব্যাপারে আমাকে বলা হয়নি। জানলে জমি ক্রয় করতাম না, ঋণের বিষয়টি গোপন করা হয়েছে।

ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের কথা সম্প্রতি তাকে জানালে বিষয়টি এড়িয়ে যান বিক্রেতা। এরপরে তিনি বিষয়টি আমলে না নিলে স্থানীয় গণ্যমান্যদের পরামর্শে জামালপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা করেন ক্রেতা।

আদালতে মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি মো. রফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগিরা ভেঙ্গুরা মৌজার বিআরএস খতিয়ান নং-৬৯০, বিআরএস নং-১৮৩ দাগে মোট জমির পরিমাণ ৭৮ শতাংশ থেকে ৬৫ শতাংশ জমি আনোয়ারুল ইসলামকে সাফ কবলা দিয়ে দখল বুঝে দেন।

চলতি বছরের ২৩ জুলাই জাতীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় জমি নিলামে বিক্রির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে সাড়া পড়ে। ঘটনায় ক্রয়কারী পূবালী ব্যাংক লিমিটেড জামালপুর শাখার ব্যবস্থাপকের কাছে লিখিত আবেদন করেন এবং কার্যকরী কোন ফল না হওয়ায় বিপাকে পড়েন তিনি।

ঘটনায় ক্রেতা আনোয়ারুল ইসলাম জামালপুর সিআর মোকদমা (নং ২১৪(১)১৯,২১৬(১)১৯,২১৫(১)১৯) আইনে তিনটি মামলা দায়ে করেন।

মামলায় আসামিরা হলেন- বিক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মোছা. সামছুন নাহার, শফিকুল ইসলাম, কানিজ ফাতেমা, জান্নাতুল ফেরদৌস কনিয়া, মহিউদ্দিন ফারদীন, আলাল সরদার, ফজলুল হক সরদার, আনোয়ারা বেগম ও ফিরোজা বেগম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here