পুলিশ ব্যাংক তৈরিতে চলছে মূলধন সংগ্রহ

0
1093

ডেস্ক রিপোর্ট : পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের প্রস্তাবিত ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় চারশ’ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব পুলিশ সদস্য ও পুলিশের সিভিল স্টাফের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে খুব শিগগির বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন একটি ব্যাংকের জন্য আবেদন করা হবে। আগামী বছরের শুরুতে পুরোদমে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তরের কল্যাণ ট্রাস্ট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (কল্যাণ ট্রাস্ট) ড. শোয়েব রিয়াজ আলম বলেন, আইজিপির উদ্যোগে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্যাংক গঠনে ৪০০ কোটি টাকা মূলধন প্রয়োজন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

একই সঙ্গে ব্যাংক অনুমোদন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের বিভিন্ন ডকুমেন্ট তৈরির কাজ চলছে। আশা করছি, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী বছরের জানুয়ারিতে ব্যাংকটি চালু হবে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে পুলিশ সপ্তাহে বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রস্তাব করা হয়। তার আশ্বাসের পর পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানায় ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রচলিত অন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতোই এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যেখানে সব ধরনের গ্রাহক লেনদেন করতে পারবেন। অন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো এই ব্যাংক ঋণ বিতরণ, আমানত সংগ্রহসহ সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম করবে।

বর্তমানে সেনাকল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে বেসরকারি খাতের ট্রাস্ট ব্যাংক। আর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানায় গত বছর থেকে সীমান্ত ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোকে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য নূ্যনতম চারশ’ কোটি টাকার মূলধন জোগান দিতে হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলধন জোগানের ওপর প্রত্যেক সদস্য নির্ধারিত হারে লভ্যাংশ পাবেন। ব্যাংক গঠনে সদস্যরা বিনিয়োগ করবেন কি-না- সে ব্যাপারে দেশের সব পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে মতামত জানতে চাওয়া হয় গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে। তাদের কাছ থেকে সাড়া পেয়ে গত বছরের নভেম্বরে পুলিশের কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ড সভায় তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কনস্টেবল থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পর্যন্ত পদমর্যাদার প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা করে তহবিল গঠনে বিনিয়োগ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। একইভাবে পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত সিভিল স্টাফদের জন্যও বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়। নির্ধারণ করা টাকা জমা দেওয়ার জন্য জেলা পর্যায়ে এবং মেট্রোপলিটনে একটি করে ইউনিট গঠন করা হয়। মাসিক দুই হাজার টাকা করে কিস্তিতে আট মাসে ১৬ হাজার টাকা জমা দেবেন সদস্যরা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কিস্তি শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার পর্যন্ত ৭১ কোটি টাকা সংগ্রহ হয়েছে বলে জানা গেছে।

দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, আরএনএস করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গুলশানে পুলিশ প্লাজা কনকর্ডে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় করার প্রস্তাবনা রয়েছে। এই ব্যাংকে পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নানাবিধ সুবিধা থাকবে। ব্যাংক লাভজনক হওয়ার পর বছর শেষে বিনিয়োগকারী সদস্যদের লভ্যাংশ দেওয়া হবে।

জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা উদ্যোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সদস্যরা স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন। নিজস্ব ব্যাংক থাকায় আর্থিক লেনদেন সহজ হবে। সদস্যরা প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে বেতনের অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। ব্যাংক গঠনের মাধ্যমে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের আয় বৃদ্ধি হলে সদস্য ও তাদের পরিবারকে চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা বর্তমানের চেয়ে বাড়ানো হবে।

সদস্যরা অবসর সুবিধা, তাদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি, কারিগরি শিক্ষাবৃত্তি, ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। কল্যাণ ট্রাস্টের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সদস্যদের সন্তানদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে ব্যাংকটি পুলিশ সদস্যদের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here