পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটক

0
648
পুঁজিবাজারে মহাধসের সময় ডিএসইর সামনে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট : শেয়ারবাজার ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি মেটাতে সরকারের বিশেষ ঋণসহায়তা তহবিলের কার্যক্রম থমকে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পর চার মাস পেরিয়ে গেলেও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পাওয়া যায়নি। ঋণ সুবিধা পেতে আগ্রহীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গত জুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তহবিল তদারকি কমিটি অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানালেও অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি আটকে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দাতা সংস্থাগুলোর চাপে বাজেটে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন ঋণসহায়তা তহবিলের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা যায়নি। এ অবস্থায় ভিন্ন কোনো খাত থেকে এ তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ জোগান দিতে হবে। তদারকি কমিটির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে আরো ৩০০ কোটি টাকা ছাড়ের চিঠি দিলেও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও তহবিল ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুর রহমান বলেন, সহায়তা তহবিল থেকে ঋণসুবিধা পেতে আগ্রহীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই পুনঃঅর্থায়ন কার্যক্রম আবারো শুরু করা যাবে।

জানা গেছে, পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণসুবিধা পেতে ১২ জুন পর্যন্ত মোট ৪২টি প্রতিষ্ঠান ৪৭৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দের আবেদন জানায়। এর মধ্যে ২০টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ২২টি ব্রোকারেজ হাউস রয়েছে, যাদের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৩২২ জন। পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ঋণসহায়তা নিতে বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে কয়েকবার সময় বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে আবেদনের পরিমাণ আরো বাড়ে। প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণের পর আরো প্রায় ২০০ কোটি টাকা ঋণসুবিধা গ্রহণের আবেদন জমা রয়েছে। তবে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় না পাওয়ায় চাহিদা থাকলেও বরাদ্দ দেয়া যাচ্ছে না।

পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ১২ জুন পর্যন্ত মোট ৪২টি প্রতিষ্ঠান ৪৭৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দের আবেদন জানায়। এর মধ্যে ২০টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ২২টি ব্রোকারেজ হাউস রয়েছে, যাদের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৩২২ জন। এ সময়ের মধ্যে মোট ৩২টি প্রতিষ্ঠানের ৩৫৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ঋণ আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে, এর মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করা হয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের অনুকূলে। আইসিবির সহযোগী এ প্রতিষ্ঠানটি ৩০০ কোটি টাকার তহবিল থেকে ৮৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা পুনঃঅর্থায়ন সহায়তা পেয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের মোট ৪ হাজার ৩৬২ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী এ ঋণসহায়তা পেয়েছেন। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত আরেক প্রতিষ্ঠান জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে ৭৯৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর জন্য ৪০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া এ ঋণসহায়তা পাওয়া উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- আইআইডিএফসি সিকিউরিটিজ, ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ডস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস, বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস ও সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেড। এছাড়া আরো ১৬টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের ৯৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ঋণ আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সরকারি ঘোষণার প্রায় দুই বছর পর ৯০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত বছরের ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক এ তহবিলের প্রথম কিস্তি বাবদ ৩০০ কোটি টাকা দেয় আইসিবিকে। শর্ত ছিল প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হলে পরে সমান দুই কিস্তিতে বাকি ৬০০ কোটি টাকা ছাড় করা হবে। কিন্তু ঋণের কঠিন শর্তের কারণে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার ডিলার প্রতিষ্ঠানগুলো ওই তহবিল থেকে ঋণ নিতে আগ্রহী ছিল না। এ অবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয় ঋণের শর্ত শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় বিশেষ স্কিমের ঘোষণা দেয়। ওই স্কিমের আওতায় তাদের এক বছরের মার্জিন ঋণের ৫০ শতাংশ মওকুফ এবং বাকি সুদসহ সমুদয় ঋণ তিন বছরে সমান ১২ কিস্তিতে প্রদানের সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়। এছাড়া আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ কোটা সুবিধা প্রদান করা হয়। ঋণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবি। আইসিবিকে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের জন্য ছাড় দেয়া অর্থ তিন বছর মেয়াদে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরত দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সূত্র : বণিক বার্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here