পুঁজিবাজারে স্বল্প মূলধনী কোম্পানির আধিপত্য

0
403

স্টাফ রিপোর্টার : বিনিয়োগকারীদের মাঝে মুনাফা তোলার প্রবণতা বাড়ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার দেশের পুুঁজিবাজারে অনেকেই লাভে থাকা শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা ঘরে তুলছেন। যে কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক লেনদেন বাড়লেও সূচকের সামান্য পতন ঘটেছে। বাজারে মুনাফা তোলার চাপ থাকলেও স্বল্প মূলধনী কোম্পানির শেয়ারগুলোর দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি বিশেষ শ্রেণির আগ্রহের কারণেই বাজারে এমন অস্থিরতা বাড়ছে। যদিও ধারাবাহিকতায় উভয় বাজারেই বস্ত্র খাতের প্রাধান্য থাকলেও ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বেড়েছে। সোমবার তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ২৫ দশমিক ১২ শতাংশ। রোববার মোট লেনদেনের ৩৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ দখল করেছিল। বাজার পরিসংখ্যানে এই চিত্র দেখা গেছে।

অস্বাভাবিকভাবে দরবৃদ্ধি কোনভাবেই বাজার সংশ্লিষ্টদের স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। এ কোম্পানিগুলো হলো আজিজ পাইপস, রহিমা ফুড, ফাস্ট প্রাইম মিউচুয়াল ফান্ড, নর্দা জুটস, কেএ্যান্ডকিউ, আনোয়ার গ্যালভালাইজিং, হাক্কানি পাল্প ও বিচ হ্যাচারি। এ নয়টি কোম্পানিই দরবৃদ্ধির সেরা ৯টি স্থান দখল করেছে। এর মধ্যে রহিমা ফুডের উৎপাদন কিছুদিন ধরে বন্ধ ছিল। ২০১২ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ডিএসই কর্তৃপক্ষ কোম্পানিটির লেনদেন বন্ধ করেছিল।

নর্দান জুটস নামের কোম্পানিটি গত বছর বিনিয়োগকারীদের কোন লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। শুধু ২০০৫ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এর পর থেকে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কোন লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ইতোমধ্যে কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আজিজ পাইপসও গত ২০০১ সালের পর থেকে আর কোন লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। তার পরও কোম্পানিটির দর সোমবার ১০ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানিটির প্রতি শেয়ারের দর বেড়েছে ১ দশমিক ৯০ টাকা। একইভাবে সামাতা লেদারের দর ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ, কেএ্যান্ডকিউয়ের দর ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ দর বেড়েছে। অব্যাহতভাবে স্বল্প মূলধনী জাঙ্ক শেয়ারগুলোর দরবৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিভ্রান্ত্রিও বাড়ছে। অনেকেই হাতে থাকা ভাল শেয়ার বিক্রি করে জাঙ্ক শেয়ারগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। এতে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ মনোভাব নষ্ট হচ্ছে। বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সোমবার বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে মোট লেনদেনে খাদ্য, ওষুধ ও প্রকৌশল খাতের অবদান আগের চেয়ে বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেনে জ্বালানি খাতের অবদান প্রায় ৭ ভাগ, মিউচুয়াল ফান্ড প্রায় ২ দশমিক ৪ ভাগ, টেলিকমিউনিকেশন খাত ২ দশমিক ৩ ভাগ, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতের অবদান ৪ দশমিক ২৪ ভাগ, ব্যাংক ৬ দশমিক ৫ ভাগ, ওষুধ ও রসায়ন খাত প্রায় ১১ দশমিক ৮৭ ভাগ, প্রকৌশল ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং ইন্স্যুরেন্স খাতের অবদান ৮ দশমিক ৬ শতাংশ।

উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন বেড়েছে। ডিএসই মোট লেনদেন হয়েছে ৬৪৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকার এবং রবিবার সেখানে ৫২৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড। এদিন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সোমবার মোট লেনদেন হয়েছে ৭৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। আগের দিন সেখানে লেনদেন হয়েছিল ৬৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ড। সকালে সূচকের উর্ধগতি দিয়ে লেনদেন শুরু হয়।

গত কয়েকদিনের লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলোর আধিপত্য দিয়ে উভয় বাজারেই লেনদেন শুরু হয়। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে বস্ত্র খাতসহ কিছু কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তোলার প্রবণতা দেখা দেয়। ফলে সারাদিন সূচকের ওঠানামা চলতে থাকে। এভাবে সূচকের ওঠানামা শেষে ডিএসইএক্স সূচক ১২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৪ হাজার ২৮৯ পয়েন্টে। ডিএস-৩০ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মূল্য সংশোধনের কারণে ওই সূচকটিরও পতন ঘটে। সারাদিন শেষে ডিএসই-৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ১ হাজার ৪৯৫ পয়েন্টে।

ডিএসইতে সারাদিনে হাতবদল হওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৩২টি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে, কমেছে ১৩০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল মোট ২৯টির দর। ডিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : জেনারেশন নেক্সট, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন হার্ভেস্ট অ্যাগ্রো, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সেন্ট্রাল ফার্মা, আরএন স্পিনিং, বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিক, গোল্ডেন সন, আরগন ডেনিমস এবং ওরিয়ন ফার্মা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here