শ্যামল রায়ঃ সামনেই বাজেট। পুঁজিবাজারে বাজেটের প্রভাবতো পড়বেই। সেটা ভালো হতে পারে আবার কোন কোন সেক্টরের জন্য সমস্যাও তৈরি করতে পারে। তবে আমি আশা করছি আইটি সেক্টর, ফুড সেক্টর, ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টর এবং টেলিকম সেক্টর ভালো হতে পারে। বরাবরই আমি আমার পোর্টফলিওতে ৩০% সেফ সাইটে রাখার চেষ্টা করি। কখনই দুই পা ভিজিয়ে পানির গভীরতা মাপার চেষ্টা করিনা।

কথাগুলো বলছিলেন শেয়ার বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগ করছেন এমন একজন বিনিয়োগকারী আকতারুজ্জামান বাবু । স্টক বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীর ভাবনা বিভাগে শেয়ার বাজার নিয়ে জানালেন তার  বিনিয়োগ ভাবনার কথা।

আমি ২০০৭ সাল থেকে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করছি। আমার ব্রোকার হাউজ এমটিবি ও র‍্যাপিড। কখনও বা লাভ আবার কখনও লসের সম্মুখিন হইতে হয়েছে আমাকে। বড় বড় ধ্বসগুলো থেকে শিক্ষানেওয়ার চেষ্টা করেছি। এ বাজারে সবাই আসে লাভ করতে কিন্তু মুদ্রার অপর পিঠের মত শেয়ার বাজারে লোকসান বলতেও যে একটা বিষয় আছে সেটা কেউ মাথায় রাখতে চায় না। আলটিমেটলি আমরা লাভের চাইতে লোকসানটাই করি বেশি।  এ বিষয়টা মাথায় রেখে একজন শিক্ষত বিনিয়োগকারীর মত পরিকল্পনা করার চেষ্টা করি আমি।

আবেগ নয় এনালাইসিসটাই আমার কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। সেটা ফান্ডামেন্টালি, টেকনিক্যাল এবং সাই্কোলজিক্যাল সব ধরনের এন্যালাইসিস এর দারস্ত হই আমি। আমার পোর্টফলিওতে ফান্ডামেন্টালি ভালো যে শেয়ারগুলো যেমন স্কয়ার ফার্মা, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, লিন্ডে বিডি, এসিআই এ ধরনের স্টকগুলো রাখার চেষ্টা করি।  এ শেয়ারগুলো আমাকে অনেক চিন্তা ভাবনা মুক্ত রাখে।

সর্বশেষ আমাকে বেশ কিছু প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কারণ মার্কেট স্বাভাবিক থাকলেও মাঝে মাঝে অস্বাভাবিক আচরন করেছে। সেই মুহুর্তে ব্যাংকে ডিভিডেন্ট দিয়ে পোর্টফোলিও ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছি।

এ সরকারের আমলে মনে করা হচ্ছে নির্বাচনের আগে এটাই হয়তো শেষ বাজেট অর্থাৎ বাস্তবায়নের জন্য খুব বেশি সময় হয়তো তারা পাবে না। কাজেই সরকার হয়তো এই বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্ব দিবে। আর এর প্রভাব পুঁজি বাজারে পরবেই। আমি এখন থেকে সেক্টর ওয়াইজ কিছু স্টক  ওয়াচ করার চেষ্টা করছি।  সব কিছু মিলে গেলে এগুলোতে বিনিয়োগ করবো।

শেয়ার কেনার আগে আমি কিছু নিয়ম ফলো করার চেষ্টা করি। একসাথে সবগুলো শেয়ার বাই করি না।  আস্তে আস্তে কেনার চেষ্টা করি।  সেরূপ সেল করার ক্ষেত্রে আমার কিছু নিয়ম আছে। কোম্পানীর ইপিএস, ন্যাপ, আরএসআই এগুলো দেখার চেষ্টা করি।  না বুঝে শেয়ার বাই সেল করি না।

সরকার শেয়ার বাজারকে স্টেবল করতে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে। তার ফল অবশ্য আমরা সবাই ভোগ করছি। তবে আরও শক্ত হাতে বিষয়গুলোকে হ্যান্ডেল করতে হবে। দেশে অনেকগুলো ভালো কোম্পানী রয়েছে। মার্কেটে তাদের বেশ সুনাম রয়েছে। এগুলো শেয়ার বাজারে নিয়ে আসতে হবে।  তাহলে আমাদের পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে।

শেয়ার বাজারে সরকারের নজরদারী সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয় ২০১০ এর আগে রুলস্‌গুলো তেমন স্ট্রং ছিল না। ২০১০ এর ধ্বসের পর সব মহলে আলোড়নের সৃষ্টি করে। সরকার এদিকটায় মনোযোগ দেয়। ফলে অনেকগুলো নতুন নিয়ম কানুন তৈরি হয়েছে। অনেকগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে ইতিমধ্যেই।  বাকীগুলো বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। এগুলো বাস্তবায়ন হলে আমাদের পুঁজিবাজার একটা শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়াবে। তবে আরও যুগউপযোগী কিছু পদক্ষেপ নিলে পুজি বাজার বিনিয়োগের একটা আদর্শ স্থান হবে বলে আমার বিশ্বাস।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here