পুঁজিবাজারে ট্রেইলিং স্টপ কি?

0
4002

প্রফেশনাল কাজের জন্য পড়াশোনার বাইরে বই-পিডিএফ পড়ার অভ্যাস বেড়েছে। বিনোদনের জন্য পড়া, আমার মতো ‍অনেকের স্বপ্ন। পুঁজিবাজার নিয়ে আমার অসম্ভব আগ্রহ। মাস খানেক আগে প্রায় নিজের ওপর জোর খাটিয়ে ‘Stock Investing for Dummies’ পিডিএফটি পড়া শুরু করলাম। জানা অনেক বিষয় আবারো জানতে পড়া। পাশাপাশি নতুন টেকনিক শেখা হল। যার নাম ট্রেইলিং স্টপ।

যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছেন তাদের অনেকেই ঠিক বুঝতে পারেন না যে, হাতে থাকা শেয়ারটি কত দামে বিক্রি করবেন? তাই আমি শেয়ার কেনার সময়ই একটা টার্গেট ঠিক করে তার অপেক্ষায় থাকতাম। অভিষ্ট দাম পেলেই বিক্রি!

 ফলে শেয়ার হাত ছাড়া করার পরই দাম অনেক বেড়ে যাবার ঘটনা ঘটেছে অনেক বার। এমন অবস্থায় আফসোসে হাত কামড়ানো ছাড়া কোন উপায় নাই। দাম বাই জোনের বাইরে কিনে ধরা খাবার সম্ভবনা আছে, আবার দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে অর্থাৎ চেয়ে দেখা ছাড়া কোন উপায় নাই।
এ অবস্থা থেকে বাঁচার এবং ৯০ ভাগ সফল হবার উপায় হল- ট্রেইলিং স্টপ সেল অর্ডার।
ধরুণ, ১০০ টাকায় কেনা একটি শেয়ারে আপনার সেল টার্গেট হল ১৩০। সে অনুযাই বিক্রির পর দাম সর্বোচ্চ ১৭০ টাকায় উঠল। ফলে আপনি অতিরিক্ত ৪০ টাকা লাভ থেকে বঞ্চিত হলেন। ভাবুন যদি আপনি শেয়ারটি ১৫৩ বা ১৬২ টাকায় বিক্রি করতে পারতেন!
শুধু মাত্র যতিশী ও অতিভাগ্যবানদের পক্ষেই শেরারটি ১৭০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। তাই আমরা ১৩০ এর চাইতে ১৫৩/১৬২ পেলেই আল্লাহকে ধন্যবাদ জানাই।
এখন আমি আপনাদের এই উপায় যা আমাদের ১৫৩/১৬২ পেতে সাহায্য করবে তার বিবরণ দিচ্ছি। ‘ট্রেইলিং স্টপ’ থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে আমাদের শেয়ার মূল্যকে ট্রেইল বা অনুসরণ করতে হবে। যা আমরা সবাই করি কিন্তু ঠিক উপায়ে করি না।
অস্ভাবিক অবস্থা না হলে কোন শেয়ারের দামই টানা বাড়েনা। ২-৪ দিন বাড়ে ১-২ দিম কমে আবার বাড়ে, অর্থাৎ উঠা-নামার মধ্যে উঠার গতি বেশি বলেই দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে।
এবার আমাদের উদাহরণ হলো- ১০০ টাকার শেয়ারটি যখন ১২০ টাকায় পৌ‍ঁছে তখনই আমাদের টেনশন শুরু। কারণ সেলটার্গেট আর ১০ টাকা দূরে। এই অবস্থায় আপনি ১০%  ট্রেইলিং স্টপ প্রয়োগ করুন। ফলে আপনার নতুন সেল টার্গেট হল 120X0.9=108।

১০৮ টাকা হলে আপনি বিক্রি করে দিবেন। দাম কমে ১২০ থেকে ১১৫ হল। শেয়ারটির দাম ১৩০ টাকা হবার কোন নিশ্বয়তা কিন্তু নাই, হতে পারে ১২০ টাকাই এ বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ মূল্য। এ ক্ষেত্রে আপনি ১০৮ টাকায় শেয়ারটি সেল করে লাভসহ বেরুতে পারবেন। না হলে ১৩০ টাকার আশায় লোকশানে পড়বেন বা কেনা দামে ছেড়ে আসবেন।

কিন্তু যদি শেয়ারটি ১১৫ টাকা থেকে ১২৫ টাকায় আসে তখন আপনি আরেকটি সেল টার্গেট পাবেন 125X0.9=113। এভাবে ১৩০ এ ১১৭, ১৪০ এ ১২৬ টাকা আপনার সেল টার্গেট হল। যেহেতু দাম এখন ১৪০ মানে আপনার টার্গেটের চাইতে ১০ টাকা বেশি। সেহেতু আপনি আরো আক্রমণাত্বক হলেন ‘ট্রেইল পারসেন্টেজ’ ১০ থেকে ৫ এ নিয়ে আসলেন।

ফলে ১৪০ এ 140X0.95=133 , ১৬০ এ ১৫২ আর ১৭০ এ ১৬২। আর যার আক্রমণাত্ব না হয়ে ১০% শিওর ছিলেন তারা ১৫৩ টাকা সেল টার্গেট ঠিক করবেন। শেয়ারের দাম ১৭০ থেকে এবার পড়তে শুরু করল ১ দিন বাড়ে  ৩ দিন পরে এই অবস্থায় দাম ১৬২ বা ১৫৩ তে আসলেই সেল করুন। ১৩০ এর চাইতে কি ১৫৩ বা ১৬২ অনেক বেশি আকর্ষণীয় নয়?

ইউটিউবে সার্চ করলেই এই টেকনিকের অনেক সুবিধা-অসুবিধা পেয়ে যাবেন। তখন ১০% ও ৫% ট্রেইলিং স্টপ সেট করার মাজেজা আরো ভাল বুঝবেন। তবে বিশেজ্ঞরা কিন্তু ৮% ই স্হীর থাকতে উৎসাহিত করেন আর আমার পড়া বইটির লেখক ১০% কেই অনুসরণ করতে উৎসাহ দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here