‘পুঁজিবাজারে একপক্ষ বিনিয়োগ করে, অন্যপক্ষ সংগ্রহ করে’

0
1677

স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে একপক্ষ বিনিয়োগ করে আর অন্যপক্ষ পুঁঁজি সংগ্রহ করে। পৃথিবীর সব দেশে বড় ধরনের পুঁজির জন্য কোম্পানিগুলো স্টক মার্কেটে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাংক থেকেই পুঁজি সংগ্রহ করা হয়। এটা মোটেই উৎসাহব্যঞ্জক নয়।

বেসরকারি একটি টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে খুজিস্তা নূর-ই-নাহারীনের সঞ্চালনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান এবং সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন সেকিল চৌধুরী।

রকিবুর রহমান বলেন, আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক একটি পুঁজিবাজার চাই। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়ন হবে। দেশি-বিদেশি, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সবাই এটিকে ব্যবহার করবে এবং এখান থেকে পুঁজি সংগ্রহ করবে এটি সবার প্রত্যাশা। আর এ প্রত্যাশা নিয়েই পুঁজিবাজার গড়ে উঠেছে।

আমি মনে করি, পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ অনেক ভালো। তবে এখানে যে অংশগ্রহণ দরকার ছিল আমার মনে হয় তা এখনও পাইনি। বর্তমানে দেশের অর্থনীতির নির্দেশকগুলোর তুলনায় আমাদের পুঁজিবাজারের পরিসর অনেক ছোট। আমরা দেখেছি গত ১০ বছরেও দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কখনও ৬-এর নিচে যায়নি। এখন তো জিডিপি সাত অতিক্রম করেছে। কাজেই এ ধরনের একটি টেকসই অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের টার্নওভার এক হাজার কোটি টাকা খুবই অপ্রতুল। কাজেই এখানে অংশগ্রহণ আরও বাড়া দরকার এবং তা বাড়তে হলে আমাদের কী করতে হবে? একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল বাজার গড়ে তুলতে হবে।

পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দেশের কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়ন করতে হলে অবশ্যই ভালো কোম্পানিগুলোকে বাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে। সম্প্রসারিত বাজার গড়ে তোলার জন্য সরকারকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি বাজারে মেধাবী বিনিয়োগকারী থাকতে হবে এবং একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকতে হবে। তিনি বলেন, সরকার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি কাউন্সিল গঠন করতে যাচ্ছে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে একটি কথা সবারই বোঝা দরকার, ব্যাংক থেকে দীর্ঘমেয়াদি বৃহৎ ঋণ সংগ্রহ কখনোই উৎসাহ দেওয়ার মতো নয়। পৃথিবীর যত উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ আছে তারা প্রত্যেকেই বড় ঋণগুলো পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করে।  আর ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে যত বড় ঋণগুলো নেওয়া হয়েছে, তার সবগুলোই খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে।

সেকিল চৌধুরী বলেন, ২০১০-১৭ সাল এই সাত বছরে বাজারের গতিবিধিতে এক ধরনের পূর্ণতা এসেছে। লেনদেন বাড়বে, সঙ্গে সূচক বাড়বে এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমি মনে করি, সূচক বাড়া বা কমা কোনো বড় কথা নয়। কারণ বাজারে যদি গ্রাহক থাকে এবং ক্রয়-বিক্রয় যদি সচল থাকে তাহলে একসময় সূচক বাড়তে থাকবে। তিনি বলেন, মানুষ এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বেশ আগ্রহী। কারণ পুঁজিবাজার ছাড়া দেশে এখন বিনিয়োগের উপযুক্ত জায়গা নেই।

ব্যাংক ডিপজিটের ক্ষেত্রেও মানুষ এখন আগ্রহী নয়। কাজেই এ অবস্থায় সরকারের কাছে আমাদের দাবি, সরকারি খাতের শেয়ারগুলো বাজারে ছাড়া হোক; যা অনেক বছর ধরে পুঁজিবাজারে ছাড়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে হচ্ছে না। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ করুন। কোনো শেয়ারে বিনিয়োগের আগে তার সম্প্রসারণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী আছে তা দেখে বুঝেশুনে বিনিয়োগ করুন। অধিক দরে শেয়ার না কিনে কম দামে শেয়ার সংগ্রহ করুন।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে উপস্থাপক খুজিস্তা নূর-ই-নাহারীন বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, পুঁজিবাজার যারা বুঝেন তারাই শুধু বিনিয়োগ করবেন। না বুঝে শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here