পুঁজিবাজারের কিছু টেকনিক্যাল টার্ম – এদের অর্থ এবং ব্যবহার

2
9293

ব্রোকারেজ হাউসে ট্রেডিং আওয়ার মানে তো সেইরকম অস্থির পরিবেশ! এমনিতেই কেনা-বেচা নিয়ে হট্টগোলের মাঝে কানপাতা দায়, তার সাথে যদি শুনতে হয় একগাদা টেকনিক্যাল টার্ম, মাথা না ধরে উপায় আছে? তারপরেও কী আর করা! লজ্জায় তো কাউকে বলাও সম্ভব না যে আপনি কিছুই বুঝতে পারছেন না! বিশ্বাস করুন, এমন দিন আমরা সবাই পার করে এসেছি। তবে আপনি চাইলেই শিখে নিতে পারেন দরকারি সব টেকনিক্যাল টার্ম – এদের অর্থ এবং ব্যবহার।

তাহলে শেয়ার ব্যবসায় জ্ঞানও বাড়ল, আর ভবিষ্যতে এ সব টার্ম নিয়ে আলোচনায় ভালভাবে অংশ নিতেও আর অসুবিধা হবেনা।

EPS: শেয়ার কেনা-বেচার সিদ্ধান্তে যে টার্মটি সবচেয়ে আগে এবং সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে দেখা হয় এটি তাই। একটি কোম্পানির মোট লাভের (বা ক্ষতির) অঙ্ককে যদি তার বাজারে থাকা শেয়ার সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা হয় তাহলেই EPS পেয়ে যাবেন।

যেকোনোও নির্ধারিত সময়ে একটি কোম্পানি শেয়ারপ্রতি কেমন লাভ-ক্ষতি করছে তা আসলে ইঙ্গিত দিচ্ছে আপনার বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত বা ঝুঁকিপূর্ণ।

Price-Earnings Ratio (P/E): P/E হচ্ছে একটি কোম্পানির শেয়ার তার EPS-এর কতগুন দামে বিক্রি হচ্ছে তার একটি পরিমাপ। কোনো কোম্পানির EPS যদি হয় ৫ টাকা, আর বাজারে শেয়ারটির দাম থাকে ২০ টাকা, তার মানে কোম্পানির শেয়ারটি তার EPS-এর ৪ গুন দামে বিক্রি হচ্ছে।

এর মানে হল, আপনি যদি আপনার এই শেয়ারটি বিক্রি নাও করেন, এবং কোম্পানি যদি EPS-এর পুরোটাই লভ্যাংশ দেয়, তাহলে আপনার বিনিয়োগ করা টাকা আপনি মাত্র ৪ বছরে ফেরত পাবেন ।

নেট এসেট ভ্যলু (NAV) : একটি কোম্পানির শেয়ার প্রতি কতো টাকার সম্পদ আছে তা জানতে পারবেন NAV দেখে। ধরুন কোনো একটি শেয়ার আপনি ৫০ টাকা করে কিনেছেন, বর্তমানে এই কোম্পানিটির NAV ২০ টাকা। ধরুন কোনো কারণে এই কোম্পানিটি বিনা নোটিশে বন্ধ হয়ে গেল (দোয়া করি যেন না হয়!), তাহলে আপনি ২০ টাকা পর্যন্ত ফেরত পেতে পারেন।

BID PRICE: দিনের শেয়ারের বাজার মূল্য। অর্থাৎ শেয়ার কেনা বেচার সময় ক্রেতা বিক্রেতার সমঝতায় শেয়ারে যে মূল্য নির্ধারণ হয়, তাকেই আমরা BID PRICE বলি।

Dividend: Dividend অর্থ লভ্যাংশ। একটি কোম্পানির তার মুনাফার যে অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করে থাকে তা-ই লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড। এটি নগদ টাকায় বা স্টক (শেয়ার) অথবা উভয় আকারে হতে পারে। Dividend লভ্যাংশ সাধারণত শতাংশের হিসাবে প্রকাশ করা হয়।

Market capitalization: বাজারে একটি কোম্পানির যত শেয়ার আছে তার সাথে এই শেয়ার এর বাজার দর দিয়ে গুন করলেই আপনি পেয়ে গেলেন কোম্পানিটির Market capitalization। তুলনামূলক ভাবে এটি বেশি হলে এর মানে হচ্ছে কোম্পানিটি একটি বড় মুলধনী কোম্পানি।সাধারণত বড় মুলধনী কোম্পানিতে বিনিয়োগের ঝুঁকি তুলনামুলকভাবে কম থাকে।

Market value: বাজারে শেয়ার যে দামে লেনদেন হয়, তাকে Market Value বলে। ধরুন কোন একটি শেয়ার আজ বেচা-কেনা হচ্ছে ৯৭৬ টাকায়, তাহলে এই শেয়ারটির এখনকার Market Value ৯৭৬ টাকা।

Volume: কোনও নির্দিষ্ট দিনে একটি কোম্পানির শেয়ার মোট যতগুলো লেনদেন হবে, তাই হল সেইদিনের জন্য ঐ শেয়ারটির Volume।কোন শেয়ারের Volume বেশি মানে হচ্ছে এটির লেন-দেন বেশি হচ্ছে।কী! কিনবেন নাকি? নাকি আবার বেচবেন?

Annual Report: এই রিপোর্টটি পড়ে আপনি জানতে পারবেন সংশ্লিষ্ট বছরে কোম্পানিটি কত টাকা আয় করল, কত টাকাই বা খরচ করল, দিন শেষে লাভ কি কিছু হল, নাকি আবার লোকসান!

এখন বুঝলেনতো এই রিপোর্টটি আপনি কেন পড়বেন ? কারন , আপনার বিনিয়োগ ঝুঁকিমুক্ত রাখতে হলে আপনাকে অবশ্যই কোম্পানির লাভ-লোকসানের খবর রাখতে হবে। তা আজ শিখলেন তো অনেক কিছুই। তো এখন থেকে শেয়ার ব্যবসায় এই টার্মগুলো ব্যবহার করা শুরু করুন। এবার এক্সপার্ট, স্মার্ট শেয়ার ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার পালা আপনার!

 সংগ্রহঃ CSE – Chittagong Stock Exchange Page

2 COMMENTS

forhad শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here