পাথরের ব্যবসা শুরু করছে কেঅ্যান্ডকিউ

0
630

সিনিয়র রিপোর্টার : পাথরের ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি কেঅ্যান্ডকিউ বাংলাদেশ লিমিটেড। বিদেশ থেকে বড় পাথর এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে শেড স্থাপন করে সেখানে পাথর ভেঙে বিক্রি করবে কোম্পানিটি।

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ব্যবসা শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে অনেক দুর এগিয়ে নিয়েও শেষ করতে না পারায় আগামী জানুয়ারি মাসে ব্যবসা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানিটি জানিয়েছে, সম্প্রতি কেঅ্যান্ডকিউর পর্ষদ বিভিন্ন দেশ থেকে বড় পাথর আমদানি করার জন্য একটি নতুন বিজনেস ইউনিট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিতরণের সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাথর ভাঙার ইউনিট স্থাপন করা হবে।

নতুন ইউনিট চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে কেঅ্যান্ডকিউর কোম্পানি সচিব পার্থ প্রতিম দাস বলেন, আমরা মূলত ভারত ও ভুটান থেকে বড় পাথর আমদানি করব। আমদানি করা পাথর সীমান্তবর্তী স্থানে স্থাপিত ইউনিটে ভেঙে ছোট করে বাজারে বিক্রি করা হবে।

প্রাথমিকভাবে একটি স্থানে পাথর ভাঙার ইউনিট স্থাপন করা হলেও পরবর্তী সময়ে দেশের একাধিক স্থানে এ ধরনের ইউনিট স্থাপন করা হবে। এ বছরের মধ্যেই পাথর ভাঙার ব্যবসা চালু করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, কেঅ্যান্ডকিউর ব্যাটারির ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কারখানার একটি অংশ লিজ দিয়েছিল কোম্পানিটি। তাছাড়া সিএনজি ব্যবসার মাধ্যমেও কোম্পানিটি আয় টিকিয়ে রেখেছে। এ বছরের আগস্টে উচ্চ আদালতের অনুমোদনক্রমে গ্রুপের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) কোম্পানি মাল্টিসোর্সিং লিমিটেডকে একীভূতকরণের উদ্যোগ নেয় কেঅ্যান্ডকিউ।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ১৮ পয়সা শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এ কোম্পানির; যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৪ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭৬ টাকা ৭৩ পয়সা।

৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে। সমাপ্ত হিসাব বছরে এর ইপিএস হয়েছে ৯১ পয়সা ও এনএভিপিএস ৭৬ টাকা ৫৫ পয়সা। আগামী ৯ ডিসেম্বর হোটেল সুন্দরবনে কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল ১৫ নভেম্বর।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মুনাফা দেখাতে সক্ষম হয় কেঅ্যান্ডকিউ। যদিও বছর শেষে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। সমাপ্ত হিসাব বছরে এর ইপিএস ছিল ৫ পয়সা।

কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেন ও দরবৃদ্ধির কারণে ১৯ আগস্ট থেকে এর শেয়ার অনির্দিষ্টকালের জন্য স্পট মার্কেটে লেনদেনের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কেঅ্যান্ডকিউ দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। এর অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা, পরিশোধিত মূলধন ৪ কোটি ৯০ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ১০ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here