স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবিএল) আরো শেয়ার বিক্রির বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার অফলোড-সংক্রান্ত এক সভায় এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, পরিকল্পিত প্রকল্প ব্যয় নির্বাহে শেয়ারবাজারে পাওয়ার গ্রিডের রাইট শেয়ার ইস্যু করা হবে নাকি, পুনঃগণপ্রস্তাবের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করা হবে, মূলত সে বিষয়ে বিপিডিবির মতামত চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। কোন পদ্ধতিতে শেয়ার ছাড়া সুবিধাজনক হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে বিপিডিবি তাদের মতামত জানাবে। এর ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হবে। আর অর্থ মন্ত্রণালয় তা অনুমোদন করলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিসাপেক্ষে চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের জন্য পিজিসিবিএলের পর্ষদে বাজারে পাওয়ার গ্রিডের শেয়ার বিক্রির বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

বৈঠক সূত্র জানায়, শেয়ারবাজারে পাওয়ার গ্রিডের আরো শেয়ার বিক্রির বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মতামত হচ্ছে, পদ্ধতি যেটিই হোক, তারা চান পুঁজিবাজারে ভালো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের সরবরাহ বাড়ুক। আর প্রক্রিয়া নির্ধারণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে বিপিডিবির হাতেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

সভায় বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রতিনিধি বলেন, বিপিডিবি পাওয়ার গ্রিডের শেয়ার বিক্রির জন্য যে পদ্ধতি নির্ধারণ করবে বিএসইসি, তার ভিত্তিতেই আইনগত সমর্থন দেবে।

এদিকে সরকারের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির পক্ষ থেকে বৈঠকে বলা হয়, ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে পাওয়ার গ্রিডের তালিকাভুক্তির সময় ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেছে আইসিবি। কোম্পানিটি যদি আবারো রাইট ইস্যু বা আরপিওর মাধ্যমে মূলধন উত্তোলন করতে চায়, তাহলে আইসিবি তাদের সার্বিক সহযোগিতায় থাকবে।

বৈঠকে পাওয়ার গ্রিডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেহেতু পাওয়ার গ্রিডের ৭৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক বিপিডিবি তথা সরকার, তাই শেয়ার অফলোডের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সেটিই তারা বাস্তবায়ন করবে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে স্পর্শকাতর খাত হিসেবে বিদ্যুত্ খাতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে তারা আগে যে সুপারিশ করেছিল, গতকালের বৈঠকে সেটি আবারো তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, প্রথমে সরকার পাওয়ার গ্রিডের ১৫ শতাংশ শেয়ার অফলোডের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। বিএসইসিকেও এ বিষয়ে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়। তবে এ প্রক্রিয়ায় কোম্পানিতে সরকারের মালিকানা হ্রাস পাবে, এমন যুক্তি দেখিয়ে বিপিডিবি রাইট বা আরপিওর মাধ্যমে মূলধন উত্তোলনের পক্ষে মত দেয়।

সোমবারের বৈঠকে পিডিবির পক্ষ থেকে নতুন কোনো প্রস্তাব দেয়া না হলেও এর আগে তাদের পক্ষ থেকে রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। এক্ষেত্রে পিডিবির যুক্তি হচ্ছে, রাইট ইস্যু করা হলে এতে বিদ্যমান মালিকানা কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে এবং অর্থের সংস্থান হবে। বিদ্যুৎ খাত স্পর্শকাতর হওয়ার কারণে তারা এক্ষেত্রে পিজিসিবিএলের তিন-চতুর্থাংশ মালিকানা ধরে রাখতে চাইছে। ফলে যেকোনো প্রয়োজনে সহজেই কোম্পানির আর্টিক্যাল অব অ্যাসোসিয়েশন পরিবর্তনের করা সম্ভব হবে। যা ৭৫ শতাংশের কম মালিকানা থাকলে বিদ্যমান আইনানুসারে সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুত্ বিভাগের যুগ্ম সচিব (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) এ কে এম হুমায়ূন কবীর বলেন, আজকের (সোমবার) বৈঠকে কোন পদ্ধতিতে পাওয়ার গ্রিড পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে, সেটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে পদ্ধতি নির্ধারণের বিষয়টি আরো বিস্তারিত পর্যালোচনা করে পরবর্তী বৈঠকে বিপিডিবিকে মতামত উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সোমবার বিপিডিবি, পাওয়ার গ্রিড, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বিএসইসি এবং আইসিবির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here