পাইপলাইনে ৪টি কোম্পানির আইপিও

0
11834

শাহীনুর ইসলাম : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পাইপলাইনে রয়েছে ৪টি কোম্পানির আইপিও। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) চূড়ান্ত পর্যায়ে অনুমোদন দিলেই কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলন শুরু করবে। বিএসইসির বিশেষ একটি সূত্র বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে।

কোম্পানিগুলো হলো- লির্ডস কর্পোরেশন, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স এবং আফতাব হ্যাচারি। এরমধ্যে রয়েছে আরিয়ান কেমিক্যাল লিমিটেড। কোম্পানিটি বিএসইসির আইপিও নীতিমালার শর্ত পূরণ করতে পারায় ইতোমধ্যে ছিটকে পড়েছে। তবে শর্ত পূরণ করতে পারলে আইপিওভূক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স ও আফতাব হ্যাচারি কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে রয়েছে এএএ ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং সোনালী  ইনভেস্টমেন্টের হাতে রয়েছে আরিয়ান কেমিক্যাল। লির্ডস কর্পোরেশন কোম্পানির ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে রয়েছে লংঙ্কাবাংলা।

লির্ডস কর্পোরেশন : পুঁজিবাজারে আসছে আইটি কোম্পানি লির্ডস কর্পোরেশন। কোম্পানিটি বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম সেবা দিয়ে থাকে। এ কোম্পানিটি বাজারে ১ কোটি ৬৫ লাখ শেয়ার ছাড়বে। এর মাধ্যমে তারা বাজার থেকে ৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা তুলতে চায়।

কোম্পানিটি ২২ টাকা দরে বাজারে শেয়ার বিক্রি করবে। সর্বশেষ আর্থিক হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৭৭ পয়সা। আর শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৭ টাকা ৮০ পয়সা।

লির্ডস কর্পোরেশন কোম্পানি লিমিটেড বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম সেবা দিয়ে থাকে। কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ২২ টাকা দরে ১ কোটি ৬৫ লাখ শেয়ার ছাড়বে। এর মাধ্যমে তারা বাজার থেকে ৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা সংগ্রহ করবে।

সর্বশেষ আর্থিক হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৭৭ পয়সা। আর শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৭ টাকা ৮০ পয়সা।

এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স : বাজার থেকে প্রায় ৪৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা সংগ্রহ করতে চায়। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২০ টাকা দরে শেয়ার বিক্রির জন্য আবেদন করেছে বিএসইসির কাছে।

কোম্পানিটির ২০১২ সালে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৯৫ পয়সা ও ২০১৩ সালে তা হয়েছে ২ টাকা ৬২ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য বা এনএভি ছিল ১৬ টাকা ৬১ পয়সা ও ১৬ টাকা ৪৭ পয়সা।

এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স শেয়ারহোল্ডাদের ২০১১ সালে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০১২ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৪ শতাংশ। এর মধ্য ১২ শতাংশ নগদ ও ১২ শতাংশ বোনাস। ২০১৩ সালে দিয়েছে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ইস্যু ব্যবস্থাপক এএএ ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদুর রহমান বলেন, আমরা  বর্তমানে ৩টি কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আনার জন্য কাজ করছি। এদের মধ্যে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের কাজ শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু কমিশনের অনুমোদন পেলে কোম্পানিটি বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে। বাকী দুটি কোম্পানি বাজারে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

আরিয়ান ক্যামিকেল লিমিটেড : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে (আ্ইপিও) পুঁজিবাজারে আসার অপেক্ষা করছিল আরিয়ান ক্যামিকেল লিমিটেড। কোম্পানিটি বিএসইসিতে আইপিও অনুমোদনের তালিকায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ছিটকে পড়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ‘শর্ত পূরণ না করায়’ আইপিও আবেদন ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে আগামীতে শর্ত পূরণ করতে পারলে আইপিওভূক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আরিয়ান ক্যামিকেল লিমিটেডের পক্ষে ইস্যু ব্যবস্থাপক সোনালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এ তথ্য নিশ্চিত করে।

সোনালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টেলিফোনে বলেন, বিএসইসিতে আবেদন জমা ছিল, তবে এখন নেই। কোম্পানির কর্তৃপক্ষ শর্তপূরণ করে আবারো আবেদন করলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিবেচনা করতে পারে।

আরিয়ান কেমিক্যাল লিমিটেড পুঁজিবাজারে ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়।

একই সঙ্গে আফতাব হ্যাচারীর পরিপূর্ণ তথ্য এখন পর্যন্ত হাতে মেলেনি। তবে আইপিও অনুমোদনের বিশেষ প্রক্রিয়ায় রয়েছে কোম্পানটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here