পরিচালকদের নামে মিথ্যা তথ্য দিলে বীমার অনুমোদন বাতিল

0
416
 Idra-স্টাফ রিপোর্টার : কোনো কোম্পানি পরিচালকদের নাম ভূয়া ব্যবহার বা মিথ্যা তথ্য দিলে কোম্পানির অনুমোদন বাতিল করা হবে। নতুন ১১টি বীমা কোম্পানির চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। আইডিআরএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার আগে আইডিআরএ নতুন করে অনুমোদন পাওয়া ১১টি কোম্পানির সংঘ-বিধি ও সংঘ-স্মারক যাচাই বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য আইডিআরএ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কাছে সংঘ-বিধি ও সংঘ স্মারক চেয়ে চিঠি দিয়েছে।

আইডিআরএ জানায়, নতুন অনুমোদন পাওয়া বীমা কোম্পানিগুলো আবেদন পত্রে পরিচালক হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করেছে তারাই আগামী ৩ বছর পরিচালক হিসেবে থাকবেন। এ পরিচালকেরা ৩ বছরের মধ্যে তাদের শেয়ার বিক্রয় অথবা হস্তান্তর করতে পারবেন না।

এজন্য সংঘ-বিধি ও সংঘ-স্মারক যাচাই বাছাই করে নতুন বীমা কোম্পানিগুলোকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সংঘ-বিধি ও সংঘ-স্মারকে উল্লেখিত পরিচালকদের নাম ও অনুমোদন পেতে করা আবেদন পত্রে পরিচালকদের নামের মধ্যে কোনো অমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অনুমোদন বাতিল করা হবে।

এ বিষয়ে আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ বলেন, সংঘ-বিধি ও সংঘ-স্মারক যাচাই বাছাই করে নতুন বীমা কোম্পানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর যাতে কোনো কোম্পানি পরিচালক পরিবর্তন করতে না পারে সে জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সময় কোনো কোম্পানির পরিচালকদের তথ্যগত অমিল পাওয়া গেলে অনুমোদন বাতিল করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বীমাকারীর নিবন্ধন প্রবিধানমালা-২০১৩ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। গেজেট প্রকাশের পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি  থেকে ৩১ মার্চ পযন্ত নতুন বীমা কোম্পানির নিবন্ধনের জন্য আবেদন পত্র দাখিল করতে আইডিআরএ পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়। পরবর্তীতে তিন দফা সময় বাড়িয়ে ১৫ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। এ সময়ের মধ্যে মোট ৭৭টি আবেদন জমা পড়ে।

আবেদনগুলো যাচাই বাছায় করে গত ৪ জুলাই আইডিআরএ প্রাথমিকভাবে ১১টি নতুন বীমা কোম্পানির অনুমোদন দেয়। অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দুইটি সাধারণ বীমা ও ৯টি জীবন বীমা কোম্পানি রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পাওয়া ৯টি জীবন বীমা কোম্পানির মধ্যে মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন এম. ইাসির উদ্দিন ও মো. শামসুল আলম। বেস্ট লাইফের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হাফিজ মল্লিক। আর ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে রয়েছেন ড. এম. মোশারফ হোসেন।

সোনালী লাইফের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছে নূর-ই-হাফিজ। আর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আছেন মো. গোলাম কিবরিয়া। তাইও সামিট লাইফের চেয়ারম্যন হিসেবে আছেন কাতসুহিডে তানাকা। আর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আছেন কইওজি কুমাটা। গার্ডিয়ান লাইফের চেয়ারম্যান সামুল এস চৌধুরী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার। এনআরবি গ্লোবাল লাইফের চেয়ারম্যন মো. আব্দুল আহাদ এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল বারী চৌধুরী। চাটার্ড লাইফের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস শহিদ এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালালুল আজিম। জেনিথ ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান ফরিদা নাহার লাইলী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়া। প্রটেকটিভ লাইফের চেয়ারম্যান রাশিদ মুরাদ ইব্রাহীম এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু মুসা সিদ্দিকি।

অপরদিকে, সাধারণ বীমা কোম্পানি দুটির মধ্যে সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়া জেনারেল মো. সারাফাত হোসেন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজর মোহাম্মদ মোসাদ্দেক (অবসরপ্রাপ্ত)। অপর কোম্পানি সিকদার ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন মোমতাজুল হক এবং প্রধান হিসেবে আছেন মাহবুবুর রহমান খান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here