পদ ছাড়লেন ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের সিইও

0
29

সিনিয়র রিপোর্টার : সাধারণ বীমা খাতের প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ হারুন পাটওয়ারী অবশেষে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পদ ছাড়লেন। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সিইও বহাল রাখায় কোম্পানিটির লাইসেন্স কেন সাময়িক স্থগিত হবে না— তা জানতে চেয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বরাবর গত রোববার চিঠি দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

জানা যায়, চিঠিতে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্য ও সিইওকে কেন জরিমানা করা হবে না, তারও ব্যাখ্যা চেয়েছে আইডিআরএ।

eastern ensurance ceoএ বিষয়ে মোহাম্মদ হারুন পাটওয়ারী বলেন, আমি গত ডিসেম্বরেই আইডিআরএর নির্দেশনা মতো পদ ছেড়েছি। এখন ফজলে আলী চলতি দায়িত্বে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের সিইও হিসেবে আছেন। তবে পুনরায় পদে যোগ দেয়ার জন্য আমি আইডিআরএর সঙ্গে আলোচনায় বসব।

তিনি আরো বলেন, আমি চার বছর আগে সিইও পদের জন্য অনুমোদন চেয়ে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু চার বছর পর এখন বিষয়টি তাদের নজরে পড়ছে। এতদিন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কেন চুপ ছিল, তা আমার বোধগম্য নয়। যাই হোক, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি পদ থেকে সরে এসেছি।

এদিকে আইডিআরএ বলছে ভিন্ন কথা। প্রধান নির্বাহী নিয়োগের প্রবিধান চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই সব কোম্পানিকে তা অনুসরণের নির্দেশনা দেয় সংস্থাটি। অন্য কোম্পানির মতো ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সকেও একাধিকবার এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোম্পানির বিদ্যমান প্রধান নির্বাহীকে অনুমোদন দিয়েছে তৎকালীন বীমা অধিদপ্তর। আইডিআরএ গঠিত হওয়ার পর একবার কোম্পানির পক্ষ থেকে সিইও পদের অনুমোদনের জন্য আবেদন জানানো হয়। কিন্তু আইডিআরএর কাছে তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। কারণ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, সিইও নিজেই নিজের পদের বৈধতার জন্য আবেদন করেছিলেন, যেটি গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, বীমা খাতে সিইও নিয়োগ, নবায়ন ও অপসারণের বিষয়ে আইডিআরএর কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তির সিইও পদে যোগদান বীমা আইন ২০১০-এর ৮০ ধারা এবং বীমা  কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা ২০১২-এর পরিপন্থী।

এ বিষয়ে আইডিআরএ সদস্য সুলতান উল আবেদীন মোল্লা বলেন, সিইও নিয়োগে অনুমোদন না নেয়ায় কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্য ও প্রধান নির্বাহীকে কেন জরিমানা করা হবে না এবং কোম্পানিটির লাইসেন্স কেন সাময়িক স্থগিত হবে না তা জানতে চেয়েছি আমরা। এর আগে কোম্পানিটির বিদ্যমান সিইওকে পদ ছাড়ার নির্দেশনাও দেয়া হয়। ইতিপূর্বে একই ধরনের অনিয়মে বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও সিইওকে জরিমানা করেছি আমরা। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

প্রবিধান অনুযায়ী, আইডিআরএর অনুমোদন ছাড়া কেউ বীমা কোম্পানির সিইও হিসেবে কাজ করতে পারবেন না, বেতন-ভাতাও নিতে পারবেন না। তবে কোনো কোম্পানিতে সিইওর পদ শূন্য থাকলে ওই পদের অব্যবহিত নিম্ন পদের কোনো কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে কোম্পানিতে তিন মাস পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

এর আগে সিইও নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা লঙ্ঘন করায় পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যেক সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করে আইডিআরএ। আইন লঙ্ঘন করে প্রধান নির্বাহী নিয়োগ দেয়ায় ব্যবস্থা নেয়া হয় প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধেও।

জানা যায়, সাধারণ বীমা খাতের কোম্পানি ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ১৯৯৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। রিজার্ভ ৭৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার ৪ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ১৪৪টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৫২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২২ দশমিক ৪১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ শেয়ার।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত  হিসাব বছরের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স। সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৫ সালে কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছে ১১ কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকা, আগের বছর যা ছিল ১০ কোটি ৮৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ২০১৫ সালে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়ায় ২ টাকা ৭০ পয়সা।

এদিকে সদ্যসমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির ইপিএস আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ১ টাকা ৯৫ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ৩৭ টাকা ৮৭ পয়সা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স শেয়ারের সর্বশেষ দর ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪ টাকা। গত এক বছরে এ শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল ২১ টাকা ও সর্বোচ্চ ৩৪ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here