পুঁজিবাজারে কারসাজির নেপথ্যে খলনায়কদের তালিকা হচ্ছে

5
2369

BSEC- 1স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে আবারো বিক্ষোভ হয়েছে। আবারো পতন বৃত্তের মধ্যে পুঁজিবাজার ঘুরপাক থাওয়ায় বিক্ষোভ করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। আর বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভের মুখে কারসাজির নেপথ্যের খলনায়কদের খুঁজে বের করতে দায়িত্ব দেয়া হয় বিএসইসির সার্ভিলেন্স বিভাগকে।

সার্ভিলেন্স বিভাগ ইতোমধ্যে সূচক ও দরপতনের মূলে ২৩টি প্রতিষ্ঠানকে কারসাজির খলনায়ক হিসেবে সনাক্ত করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সে তালিকা প্রকাশ করেছে না দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানটি। সোমবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সার্ভিলেন্স বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সার্ভিলেন্স বিভাগ আরো তথ্য অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোমে কাজ করছে। প্রতিষ্টানটির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে, পতন বৃত্তের নেপথ্যে ২৩ খলনায়ক বাজার থেকে কি পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তাছাড়া কোন আইনে তাদের শাস্তি হবে- এসব বিষয় নির্ধারণের পর তালিকা প্রকাশ করা হবে।

২০১০ সালের ডিসেম্বরে স্মরণকালের মহাধস ঘটে পুঁজিবাজারে। এরপরে নতুন অর্থবছরের শুরুতে দেশের পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার আভাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা ভুল বলে প্রমাণ হয়েছে। বাজারে ফের হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। গত সপ্তাহে টানা দরপতন শুরু হলে বিনিয়োগকারীরা ঢাকা স্টক এক্স”েঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিক্ষোভ করে।

তাৎক্ষণিকভাবে এর কারণ অনুসন্ধানে নামে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কারণ অনুসন্ধানে তদন্তভার দেয়া হয়েছে বিএসইসির সার্ভিলেন্স বিভাগকে।

বিএসইসির সূত্রটি জানায়, সার্ভিলেন্স বিভাগ দৈনিক লেনদেন পর্যবেক্ষণের জন্য সম্প্রতি কমিশন সার্ভিলেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে তদন্ত করছে। এর মাধ্যমে পাওয়া ২৩ টি প্রতিষ্ঠানকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। দরপতনের খলনায়ক হিসেবে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ইতোমধ্যে কঠোর নজরদারী চলছে তারা জানায়। তবে তদন্তের স্বার্থে তালিকা প্রকাশ সম্ভব নয়। কেননা তারা বাজার থেকে কি পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছে এবং এর জন্য কোন আইনে তাদের শাস্তি হবে- এসব বিষয় নির্ধারণের পর তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে
দায়িত্বশীল সূত্রটি জানায়।

তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুঁজিবাজারে বারবার বড় ধরনের দরপতনের পেছনে কারসাজি চক্রের হাত রয়েছে। অদৃশ্য সেই চক্রটি বাজারে কৃত্রিমভাবে শেয়ার দর বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে, শেয়ার দর বাড়ানোর বিষয়ে গুজব ছড়ায়। বিনিয়োগকারীরা তাদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে শেয়ার কিনতে শুরু করলেই কারসাজি চক্রের হোতারা শেয়ার বিক্রি করে সটকে পড়ে। এতে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

তারা আরো বলছেন, কিছু কিছু বিনিয়োগকারী বিশেষ করে নতুন বিনিয়োগকারীরা কোনো কিছু না বুঝে শুধু লোভের বশবর্তী হয়ে এসব কোম্পানির শেয়ার কেনে। এ জন্য বিনিয়োগকারীদেরও সতর্ক থাকা উচিত।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১০ সালে ডিসেম্বরে পুঁজিবাজারে যে ক্রান্তিকাল শুরু হয়েছে চলতি বছরের শুরুতে তা আরো চরম আকার ধারণ করেছে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন কমতে কমতে মাত্র ১০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে আসে। ২০০৭ সালের পর বাজারে এতো কম লেনদেনের ঘটনা আর ঘটেনি। পাশাপাশি কোম্পানিগুলো বড় ধরনের দর হারাতে শুরু করে। এতে শেয়ারবাজার অনেকটা খাদের কিনারে এসে দাঁড়ায়। ডিএসইর সাধারণ সূচক সাড়ে ৩ হাজারের ঘরে নেমে আসে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বর্তমান এফবিসিসিআইর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে সেই সময়ে পুঁজিবাজার সমন্বয় কমিটি গঠন করা হলেও কমিটি তেমন কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি।

5 COMMENTS

  1. এতো পড়ার পরে যখন খুদ্র বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নামে তখনই ওই শূয়রের বাচ্চা গুলো নাকে তেল দিয়ে ঘুম থেকে জাগে , কিন্তু কেনও এতো দেরি করে ? আগে ভাগেই তো এই কাজটা করতে পারে , কারণ পড়ার ধরন দেখেই বুঝা যায় কিছু একটা হচ্ছে যা কিনা খুদ্র বিনিওগকারীরা প্রজন্ত বুজতে পারে আর কিনা কর্তারা নাকে সরিষার তেল দিয়ে টেবিলের উপরে হামাগুড়ি দিয়ে ঘুমান ।

  2. শেয়ার বাজারে যারা কারসাজি করে শুনেছি তারা নাকি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায়। তারা এত টাকা দিয়ে কি করবে, কবরেতো নিয়ে যেতে পারবেনা। তাদের মরার কোন ভয় নেই। তারা কি ন্যায় নীতি ধর্ম এসবকে জলাঞ্জলী দিয়েছে। নাকি তারা মনে করে অমর কখনও তাদের মৃত্যু হবেনা। আমরা যারা এই উর্ধ্বগতির বাজারে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছি তারা একটু সচ্ছলতার জন্য নিজের সৎপথের উপার্জিত অনেক কষ্টের টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে থাকি। সেই টাকা যখন দেখি কেনার পরেই হারাতে বসেছি তখন তার চেয়ে বেশি কষ্টের আর কি থাকতে পারে। আমরা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আমাদের এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টাকা বিনিয়োগ করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে ধরে রাখতে কিন্তু কম সাহায্য করছিনা। আমাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যক্তি, বেশ কিছু কুচক্রী মহল এমনকি কোম্পানী গুলোর পরিচালকরাও কম কুকর্ম করেননা। তারা ইচ্ছেকৃতভাবে কোন বছর ডিভিডেন্ড কম দেয় আবার কোন বছর বেশি দিয়ে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকে। আর তাদের সাথে থাকে ওই সকল অসাধু ব্যক্তি (লোভী কুত্তা গুলো)। তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা না করলে ঐ কুত্তা গুলোর লোভ আরও বেড়ে যাবে। ফলে শেয়ার বাজারের অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নিবে। তাই সময় এসেছে ওদের সায়েস্তা করার। এখনই ওদের শায়েস্তা করতে হবে।

হামিদ উল্লাহ শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here