পতনশীল বাজারে ভীতি নয়, চাই কৌশলী বিনিয়োগ

8
4088

পুঁজিবাজার উত্থান-পতনের বাজার, আমরা সবাই জানি। তবে চিরন্তন সত্যকে কেউ সহজে মানতে চাই না। আমাদের দেশে সব বিনিয়োগকারী প্রত্যাশা করেন- মার্কেট যেন শুধুই উর্ধপানে ছুটতে থাকে। যা অবুঝ প্রত্যাশা।

দুনিয়ার কোন বাজারই একটানা বাড়েনা। অন্যদিকে টানা নিম্নমুখীও থাকে না। বাজারে ছোট-বড় উত্থান-পতন হয়। যা খুব স্বাভাবিক ঘটনা, যা চক্রাকারে চলতে থাকে।

উত্থান শেষে পতন যেমন অবশ্যম্ভাবী, ঠিক তেমনি পতন শেষেও উত্থান অবশ্যম্ভাবী। সফল বিনিয়োগকারী তারাই, যারা উত্থান পতনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন।

অনেকেই বলেন, ইউরোপ-আমেরিকার মত সভ্য দেশের বাজারে প্রচলিত বিনিয়োগ কৌশল আমাদের বাজারে অচল। এখানে গেমলিং ছাড়া কিছুই হয়না। বিগত ১০০ বছরে আমেরিকান স্টক মার্কেটে ৩০ বার মাঝারি থেকে বড় মাপের পতন ঘটেছে। গড়ে প্রতি দশ বছরে এক বার মার্কেট ক্রাশ করেছে।

এ বছরের আগস্ট মাসে চীনা মার্কেটে ব্যাপক পতন ঘটে। একই সঙ্গে রেহাই পায়নি ইউরোপ-আমেরিকার মার্কেটও। ২৪ আগস্ট ২০১৫, আমেরিকার মার্কেটে প্রথম ৬ মিনিটেই ১,০৮৯ পয়েন্ট পড়ে যায়। যা দিন শেষে কিছুটা হলেও ভদ্র চেহারা পায়, এদিনেই মার্কেট হারায় ৫৮৮ পয়েন্ট। আগস্ট মাসেই ডাওজোন্স ১৩% পড়ে যায়।

বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেটের নাম শোনেনি এমন বিনিয়োগকারী খুঁজে পাওয়া ভার। মনে মনে ওয়ারেন বাফেট হবার স্বপ্ন দেখেন হাজারো বিনিয়োগকারী। আগস্টের ওই সপ্তাহে ওয়ারেন বাফেট হারিয়েছেন ৩.৬ বিলিয়ন ডলার, যা তার মোট বিনিয়োগের ৫%।

গত এক বছর ধরে চলা তেলের মূল্য পতন হলে বাফেটের বার্কশায়ার হেতওকে বেশ ভুগিয়েছে। ২০১১-১২ সালে যখন তেলের দাম সর্বোচ্চ উঠে যায়, তখন বাফেট বিনিয়োগ করেন তেল উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও প্রস্তুতকারী দুই কোম্পানিতে। ২০১৩ সাল ভাল কাটলেও ২০১৪ সালের শুরুতে তেলের দাম পড়তে থাকে। বাদ যায়নি তার বিনিয়োগকৃত দুই কোম্পানির শেয়ারও।

পুরো ২০১৪ সাল অপেক্ষা করেও অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। অবশেষে ২০১৫ এর মাঝা মাঝি ৭০ ডলারে কেনা ন্যাশনাল অয়েলহোয়েল ৪১ ডলারে আর ৮০ ডলারে কেনা ফিলিপ্স ৬৬ বিক্রি করেছেন ৪৬ ডলারে। তাই বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেট বা তার মতো ভাল বিনিয়োগকারীরাও যে লস করেন না তা নয়, এমন চিন্তা অমূলক।

তারাও লস করেন, তবে তাদের লাভের তুলনায় ছোট। সফল বিনিয়োগকারী তারাই, যারা তাদের ভুল বিনিয়োগ দ্রুত শুধরে নিতে পারেন। লোকসান কেটে ছোট আর লাভকে টেনে লম্বা করতে পারেন।

মাত্র ১১ বছর বয়সে বিনিয়োগ শুরু করা ওয়ারেন বাফেট মোট সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ অর্জন করেছেন ৫০ বছর বয়সের পর। বিনিয়োগ সাফল্যের মূলে তার ছিল ভাল কোম্পানি বাছাই করার দক্ষতা। আর কোম্পানিতে দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ করার মানসিকতা। বাজারে শেয়ার মূল্যের যতই খারাপ অবস্থা থাকুক, কোম্পানির ব্যবসায়িক অবস্থা খারাপ না হলে তিনি শেয়ার হাত ছাড়া করতেন না।

পতনশীল বাজারে সবাই যখন বিক্রি করেন, বাজার থেকে নিরাপদ দূরত্ত্বে চলে যান- বাফেট তখন নিশ্চিন্তে শেয়ার কিনতেন।

কারণ, কম দামে ভাল শেয়ার কিনতে পারার দূর্লভ সুযোগ পাওয়া যায় শুধুমাত্র পড়তি বাজারে। বাফেট তাই পড়তি বাজারে ভীত না হয়ে বরং উৎফুল্ল হতেন। কারণ নিম্নমুখী বাজার তাকে সস্তায় ভাল কোম্পানির শেয়ার কেনার সুযোগ করে দিত।

ভাল শেয়ার কম দামে কিনে ধৈর্য ধারণ করে অপেক্ষা করাই তার বিনিয়োগের মূলনীতি। মন্দা কাটিয়ে বাজারে তেজী ভাব এলেই তিনি বিক্রি শুরু করতেন। সবাই যখন ক্রেতা, বাফেট তখন বিক্রেতা। আর সবাই যখন বিক্রেতা, বাফেট তখন ক্রেতা। অতি সাধারণ বিনিয়োগ চিন্তাই পুঁজিবাজারের কিংবদন্তী ওয়ারেন বাফেটের বিজনেস সিক্রেট নিউজ।

সরল বিনিয়োগ চিন্তায় সাফল্য অর্জন শুধু আমেরিকার মত সভ্য দেশেই সম্ভব। বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দুর্নীতিগ্রস্থ দেশে এগুলো কোন কাজে আসে না- এমন মনে করেন অনেকে। সত্যি হল- এ নিয়ম বাংলাদেশেও ভাল কাজ করে। সম্প্রতিক কিছু অভিজ্ঞতা উদাহরণ হতে পারে।

মার্চ থেকে মে ২০১৫ তিন মাসে ঢাকা ষ্টক এক্সচেঞ্জের সূচক ৪৮০০ থেকে টানা পতনে ৪০০০ এ নেমে আসে। অথচ মে-জুন মাসেই ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ে কোম্পানিগুলো ডিভিডেন্ড দেয়া শুরু করে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের ভাল ভাল কোম্পানি ৭-৮ পিই রেশিওতে লেনদেন হচ্ছিল। সবাই তখন আরেকটি পতনের ভয়ে ভীত হয়ে শেয়ার বিক্রি করছে।

সময়ের পড়তি বাজার আবারো কিছু সুযোগ তৈরি করেছে। গত এক মাসের সূচক পতনে খারাপ ভাল সব শ্রেণীর শেয়ারের দাম অনেক কমেছে। অথচ জুন ক্লোজিংয়ে কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ড দরোজায় কড়া নাড়ছে। এ সময়ে ভীত না হয়ে কৌশলী হয়ে কম দামে ভাল কোম্পানিতে বিনিয়োগ যারা করেছেন নিশ্চয়ই তারা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছেন।

পতন শেষে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে। তখন পড়তি বাজারের ক্রেতারা চড়া লাভে শেয়ার বিক্রি করার সুযোগ পাবেন। যারা ভীত হয়ে ভাল শেয়ার হাত ছাড়া করছেন, তারাই হুমড়ি খেয়ে ফের ক্রেতা হবেন। উঠতি বাজারের ওই ক্রেতারা মধ্যে অল্প সংখ্যক লাভের মুখ দেখবেন, আর অন্যরা হতাশ হবেন। পড়তি বাজারে কৌশলী বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত বড় অংকের মুনাফা করবেন।

তাই পড়তি বাজারে ভীত না হয়ে কৌশলী হোন। খারাপ শেয়ারগুলো এড়িয়ে কম দামের ভাল শেয়ারগুলোতে অবস্থান নিন। অপেক্ষায় থাকুন শুভ সময়ের। পুঁজির পাশাপাশি সময়ও বিনিয়োগ করুন। যদি ক্যাপিটাল গেইন লাভ করা সম্ভব না হয়, ক্ষতি নেই।

ভাল কোম্পানিগুলো আপনাকে বঞ্চিত করবে না। বেশি দামে বিক্রি করে বড় অংকের মুনাফা করা সম্ভব না হলেও ক্যাশ/স্টক বোনাস থেকে আপনার আয় মন্দ হবে না।

হিসেব করে দেখুন, ডিভিডেন্ড আয় কোন অংশেই ব্যাংকের সুদ হার থেকে কম নয়। তাই হাতে সময় নিয়ে ভাল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করুণ।  কম-বেশি মুনাফা আসবেই।

লেখক-  মোহাম্মদ হাসান শাহারিয়ার

8 COMMENTS

  1. চমৎকার লেখা, আশা আছে। শেয়ার বাজারের কারসাজীদের চক্রান্ত বন্দ করা না গেলে, কোন কৌশল বা মেডিসিন বা থেরাপিতে শেয়ার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুফল আসবে না। টপ গেইনারে প্রায়দিনই অধিকংশ কোম্পানীই জেড ক্যাটাগরি।

  2. হাতে মূলধন থাকলে কৌশলী বিনিয়োগ সম্ভব। টাকা থাকলে বুদ্ধি বাড়ে। শেয়ার বাজারে গত বছর মনে করি এই সময়ে কেনা শেয়ারের দাম অর্ধেকের নীচে। কেহ যদি কোন কোম্পানীর শেয়ার গড়ে ৬০.০০ টাকা দরে এক লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে থাকে, বর্তমান বাজারে সেই শেযারের মূল্য পঞ্চাশ হাজার টাকা। হয়ত ষ্টক লভ্যাংশ ১০% পাবে যার পরিমান ৫,০০০.০০ টাকা, এক বছরে মূলধন ঘাটতি ৪৫,০০০.০০ টাকা।

    • এক জন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী হিসেবে কিছু দিন পর পরই আপনাকে বাজারে ফ্রেশ ইনভেস্টমেন্ট করতে হবে। অনেকটা ব্যাংকে DPS এর টাকা জমা করার মত করেই আপনাকে ফ্রেশ কেপিটালের যোগান দিতে হবে। এক বারে ১০-২০ লাখ টাকা নিয়ে বাজারে না নেমে ধীরে ধীরে পূঁজি বারান উচিত। সময়ের সাথে সাথে পূঁজি এবং অভিগ্যতা দুটি পাড়লে েই বাজের টিকে থাকা সম্ভব। এখন প্রশ্ন হল এই ফ্রেশ কেপিটাল আসবে কথা থেকে ?

      — শেয়ার বাজার কখনই ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য এক মাত্র আয়ের উৎস হওয়া উচিত নয়। এটি সব সময়ই আপনার ২য়/৩য় আয়ের উৎস হবে। প্রধান জীবীকা থেকে আপনি যা সঞ্চয় করবেন তাঁর একটি অংশ আপনি পুজিবাজারে বিনিয়োগ করবেন।
      — যদি আপনি চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী হন তবে মাসে ৫-১০ হাজার টাকা সঞ্চয় করুন। তাহলে ৬ মাস পর পর আপনি বাজারে ৩০-৬০ হাজার টাকা ফ্রেশ ইনভেস্টমেন্ট করতে পারবেন।
      — আবার শেয়ার বাজারে কিছু ষ্টক থেকে আপনি মাজে-মধ্যে মুনাফা করবেন। ধরুন ৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে আপনি ৫০০০ টাকা লাভ করেছেন। আমরা সবাই সাথে সাথেই লাভ সহ পুরো ৬০ হাজার টাকাই নতুন কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করে ফেলি, যা ঠিক নয়। হয় আপনি এই লাভের ৫,০০০ টাকা তূলে নিয়ে আপনার সংসারের কাজে লাগান অথবা সেই টাকা আপনার বিও একাউন্টে রেখে দিন। ৬-১২ মাস পরে লাভের টাকায় শেয়ার কিনুন। পূঁজি বাজারে অনেকেই মুনাফা করে কিন্তু খুব কম লোকই ঐ টাকা নিজে ভোগ করতে পারে। অধিকাংশই মুনাফার টাকা এই বাজারেই হারিয়ে ফেলে।

      এবার আসুন ষ্টক বাছাই করার ব্যপারে – ৬০ টাকার কোম্পানি ১০% ষ্টক বোনাস দেয়া মানে ঐ কোম্পানির বাৎসরিক ইপিএস হয়ত ১.৫-২.৫ টাকা ছিল। মানে আপনি ২৫ পিই এর উপরে থাকা কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন ১ বছর আগে। যদিও গত ২-৩ বছর ধরেই বাজারের গড় পিই ১৫-১৭ তে গোরাফেরা করছে। বাজারে ১২-১৫ পিই তে এমন অনেক ষ্টক আছে যা বছরে ২৫-৩০%ক্যাশ অথবা ১৫-২০% ষ্টক বোনাস দেয়। ওইগুল কিনলে নিশ্চিই আপনার লস অনেক কম হত। গত বছর এমন কিছু কিছ MF ছিল যা ৪-৬ টকায় কেনা বেচা হয়েছে এবং গত জুনে ১০% মানে ১ টাকা ক্যাশ বোনাস দিয়েছে। ৬ টাকায় ১ টাকা মানে ১৬% মুনাফা দিয়েছে। ৪০ টাকার কোম্পানি ২৫% ক্যাশ দিয়েছে মানে ৭% মুনাফা দিয়েছে। অথচ ব্যাংকে ১ বছরের FDR রেট টেক্স বাদে এখন ৬-৬.৫%। সুতরাং ৭% এর উপরে লাভ দেয়া ষ্টক গুল এই পতনে দাম কমে অর্ধেক হয়ে গেছে বলেই ভয়ে বিক্রি করে দেয়া বোকামি। ষ্টক ধরে রাখুন এবং ডিভিডেন্ড নিতে থাকুন। আর অপেক্ষায় থাকুন সুসময়ের কারণ এমন লাভ দেয়া শেয়ার বাজার ভাল হলেই তাঁর হারানো দাম ফিরে পাবে।

      কিন্তু আপনার সেই ৬০ টাকার স্টকে যদি ১ লক্ষ টাকায় মাত্র ৫০০০ টাকা আয় হয় তবে আপনার রিটার্ন মাত্র ৫% যা ব্যাংকের চাইতেও কম। তাই ঐ ষ্টক নয়া কিনে টাকা ১ বছরের জন্য FDR করাও অনেক বেশি লাভ জনক। সমস্যা হল আমরা যাখন ষ্টক বাছাই করি সবাই তখন কেপিটাল গেইন (কমে কিনে বেশিতে বিক্রি) টার্গেট করি। কিন্তু কেউ ডিভিডেন্ড নেয়ার আসায় ষ্টক কিনি না। ডিভিডেন্ড কেমন পাওয়া যাবে সেই হিসেব করে ষ্টক কিনলে খারাপ মার্কেতেও আপনি লোকসানে পরবেন না।

      গত বছর করা আমার কিছু বিনিয়োগের বর্তমান চিত্রঃ

      ৪০ টাকায় কেনা টেক্সটাইল এখন ৩৯ টাকা , এ বছর ক্যাশ দিয়েছে ২৭%
      ১৭ টাকায় কেনা টেক্সটাইল এখন ১২ টাকা , এ বছর ষ্টক দিয়েছে ১২%
      ৫৪ টাকায় কেনা পাওয়ার কোম্পানি এখন ৭০ টাকা , এ বছর ক্যাশ দিয়েছে ৪০%
      ৫৩ টাকায় কেনা পাওয়ার কোম্পানি এখন ৫২ টাকা , এ বছর ক্যাশ দিয়েছে ২৫%
      ৩৬ টাকায় কেনা পাওয়ার কোম্পানি এখন ৩৪ টাকা , এ বছর ক্যাশ দিয়েছে ১০%, ৫% ষ্টক
      ৫৫ টাকায় কেনা ঔষধ কোম্পানি এখন ৫৬ টাকা , এ বছর ষ্টক দিয়েছে ১৫%, ক্যাশ ৫%

      এত পতনে আমার স্টকগুল কমে অর্ধেক হয়ে যায়নি, কারণ সবগুলি বাজারের পুরন কোম্পানি গত ৪/৫ বছর ধরে নিয়মিত ভাল বোনাস দিয়ে আসছে। তাই এগুল অনেক স্টেবল। দাম যেম্ন কমে অর্ধেক হয়ে যায় নয়া তেমনি বেড়ে দাবলও হবে না। শুনে অবাক হবেন এদের একটিও বিদেশি কোম্পানি নয় সবই দেশি। আপনি মনোযোগ দিয়ে খুজলে নিশ্চিত ভাবেই এমন অনেক কম্পানি পেয়ে যাবেন। বাজারে ফেলদেন হওয়া ৩৩৫+ কোম্পানির মধ্যে এমন ২৫-৩০ টি কোম্পানি আছে যাতে বিনিয়োগ তুলনামূলক ভাবে নিরাপদ। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনার কাজ হল এগুল খুঁজে বেড় করা এবং এখানে ধীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ করা।

Hasan Shaharear শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here