পণ্যসম্ভারে বৈচিত্র্য আনবে ম্যারিকো

0
374

স্টাফ রিপোর্টার : ব্যবসায়িক মন্দার কারণে বাংলাদেশের বাজারে নারকেল তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনবে বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকো বাংলাদেশ। কোম্পানির মোট ব্যবসায় প্যারাসুট তেলের বাজার মূলধন কমিয়ে সেখানে প্রতিষ্ঠানটি নতুন নতুন পণ্য যোগ করতে চায়।

ভারতের একটি ইংরেজি দৈনিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বাজারে পণ্যসম্ভারে বৈচিত্র্য আনার কথা জানান ম্যারিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৌগত গুপ্ত।

ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দু বিজনেস লাইনকে সৌগত গুপ্ত বলেন, বাংলাদেশের বাজারে আমরা আবার শুরু করতে চাই। প্যারাসুট নারকেল তেলের পরিবর্তে অন্য পণ্যে ব্যবসা বাড়ালে প্রবৃদ্ধি ভালো হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। ম্যারিকোর আন্তর্জাতিক ব্যবসার ৪৪ শতাংশ বাংলাদেশে। সেখানে মোট টার্নওভারের ৭৭ শতাংশ নারকেল তেলভিত্তিক। আমাদের লক্ষ্য নারকেল তেলবহির্ভূত অন্য পণ্যে মনোযোগ দিয়ে প্যারাসুটের বাজার মূলধন ৭০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা।

তিনি আরো বলেন, ভারতের বাজারে সর্বশেষ প্রান্তিকে (জানুয়ারি-এপ্রিল) ম্যারিকোর ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের বেশি। তবে প্যারাসুট নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে ছিল ম্যারিকো বাংলাদেশ। যদিও তৃতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের কাছাকাছি টার্নওভার রাখতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর পেছনে নারকেলের বাজারমূল্য বেড়ে যাওয়া এবং তেলের দাম না বাড়ানোকে দায়ী করেছেন তিনি।

ম্যারিকোর সিইও বলেন, আমরা বাংলাদেশে এরই মধ্যে অপরিশোধিত নারকেল তেল পরিশোধনের জন্য প্লান্ট স্থাপন করেছি। বর্তমানে দেশটির সাত লাখের বেশি আউটলেটে আমাদের নারকেল তেল বিক্রি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। তবে আগামী দুই বছরের মধ্যে মোট টার্নওভারে প্যারাসুটের অংশ ৭৭ থেকে ৭০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। আর কোম্পানির পণ্যসম্ভারে প্যারাসুটের বাইরে সুগন্ধি তেল, শ্যাম্পু, আমলা অয়েল ও কুলিং অয়েলের মতো পণ্য যোগ করা হবে।

মুম্বাইভিত্তিক এফএমসিজি কোম্পানি ম্যারিকো ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করে। তাদের মূল পণ্য ‘প্যারাসুট’ ব্র্যান্ডের হেয়ার অয়েল। এর বাইরে দেশের বাজারে ‘সফুলা’ ব্র্যান্ডের ভোজ্যতেল, চুলের রঙ ‘হেয়ারকোড’, ‘নিহার’ ব্র্যান্ডের চুলের তেলসহ আরো কিছু পণ্য বিক্রি করে কোম্পানিটি। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রির ৭৭ শতাংশ প্যারাসুট নারকেল তেল।

সর্বশেষ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্য বিক্রি কমেছে ম্যারিকো বাংলাদেশের। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির মোট বিক্রি ৫৪২ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৬০ কোটি ৮ লাখ টাকা। তবে শেষ প্রান্তিকে (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর) পণ্য বিক্রিতে আগের অবস্থানেই রয়েছে তারা। শেষ তিন মাসে কোম্পানির মোট টার্নওভার ১৬২ কোটি ১৯ লাখ টাকা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ১৬২ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

এদিকে ৩১ মার্চ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৫০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে ম্যারিকোর পরিচালনা পর্ষদ। এর আগে কোম্পানিটি সমাপ্ত হিসাব বছরে ৪৫০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। সমাপ্ত হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৪৫ টাকা ৭২ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৪৪ টাকা ৮৯ পয়সা। ৩১ মার্চ এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ৫০ টাকা ১৬ পয়সায়।

ডিএসইতে সর্বশেষ ৯৯৪ টাকা ৫০ পয়সায় ম্যারিকোর শেয়ার লেনদেন হয়। এর সমাপনী দর ছিল ৯৯৯ টাকা ৪০ পয়সা, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার টাকা ৫০ পয়সা। গত এক বছরে এ শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ১ হাজার ৩১০ টাকা ও সর্বনিম্ন ৮৯৯ টাকা।

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ম্যারিকো তালিকাভুক্ত হয় ২০০৯ সালে। ৪০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে এর পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রিজার্ভ ১১৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৯০ শতাংশই এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ২ দশমিক ৮৫, বিদেশী বিনিয়োগকারী ৬ দশমিক শূন্য ৬ ও বাকি ১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here