‘ন্যূনতম মজুরি নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে’

0
231
বিজিএমইএ ভবনে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি।

স্টাফ রিপোর্টার : শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত নূন্যতম মজুরি নিয়ে একটি শ্রেণি প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি মালিক-শ্রমিক সব পক্ষ বিষয়টি মেনে নিয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি ‘জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন’ নামের একটি সংগঠন বিভিন্ন ভুল তথ্য সংবলিত প্রচারপত্র বিলি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন বেশ চ্যালেঞ্জের উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারখানা সংস্কার, মজুরি বাড়ানোসহ নানা কারণে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল চার বছরে প্রায় ১২শ’ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের আশঙ্কা ভবিষ্যতে আরো অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সোমবার বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। ‘পোশাক শিল্পের ন্যূনতম মজুরি ও বর্তমান পরিস্থিতি’ জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সহসভাপতি ফারুক হাসান, মঈনুদ্দিন আহমেদ, মাহমুদ হাসান খান প্রমুখ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে, শুক্রবার প্রেসক্লাবের সামনে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে ওই শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে সমাবেশ করে পোশাক শ্রমিকরা।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ঘোষিত মজুরি নিয়ে দুই-একটি শ্রমিক সংগঠন উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুল তথ্য দিয়ে পোশাক শ্রমিকদের উসকানি দেয়ার চেষ্টা করছে। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্যই শ্রমিক নেতারা শ্রমিকদের নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শ্রমিকদের মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কারখানা মালিকরাও তা মেনে নিয়েছে। কিন্তু কয়েকটি এনজিও এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতারা মজুরি বিষয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে এবং শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে। পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে তারা এ ধরনের হীন কাজ করছে।

এ সময় ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৮ বছরে পোশাক শিল্পে মজুরি ৩৮১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে মজুরি বাড়ছে বলে জানায় বিজিএমইএ।

ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে বেসিক ৪ হাজার ১০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ২০৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৬০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৩৫০ টাকা, খাদ্য ভাতা ৯০০ টাকা। এর আগে সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর ৫ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছিল সরকার। সেই হারেই এখন বেতন পাচ্ছেন শ্রমিকরা।

তবে বেশ কয়েক বছর ধরেই ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি করে আসছে শ্রমিকরা। এর বিপরীতে পোশাক শিল্প মালিকরা প্রস্তাব করেন ৬ হাজার ৩৬০ টাকা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার টাকা করার পক্ষে মতামত দিয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here