ফের ন্যাশনাল টিউবস পরিদর্শনে আসছে সৌদি কোম্পানি

0
3392

সিনিয়র রিপোর্টার : স্টিল স্ট্রাকচার ভবনের যন্ত্রাংশ উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেড। এজন্য সম্ভাব্যতা যাছাইয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগের জন্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করছে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি)। এর অংশ হিসেবে বিনিয়োগের আগ্রহ নিয়ে কারখানা পরিদর্শনে সোমবার, ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসছে সৌদি ইস্পাত জায়ান্ট আল শাহিন মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ।

বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, ন্যাশনাল টিউবসে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়ে আল শাহিন মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের একটি প্রতিনিধি দল ১৬ জানুয়ারি (আজ) বাংলাদেশে আগমন করবে। দুই সদস্যের প্রতিনিধি দলটি শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা শেষে ন্যাশনাল টিউবসের কারখানা পরিদর্শন করবে। পরিদর্শন শেষে সব কিছু ইতিবাচক থাকলে বিনিয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে কোম্পানিটি। সরকার তাদের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের ভিত্তিতে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী।

জানতে চাইলে ন্যাশনাল টিউবসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান বলেন, স্টিল স্ট্রাকচার ম্যাটেরিয়াল উৎপাদনে প্রথমে আল জামিল ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

দেশে শিল্পের সম্ভাবনা চিন্তা করে ন্যাশনাল টিউব এককভাবেই তা করার পরিকল্পনা করছে। তবে এখন সৌদি আরবের আল শাহিন নামক একটি কোম্পানি আমাদের এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিএসইসি থেকে কোম্পানিটিকে ন্যাশনাল টিউবসের কারখানা দেখানোর কথা জানানো হয়েছে। তারা কারখানা দেখে যাওয়ার পর সম্ভাব্যতা যাছাই শেষে সিদ্ধান্ত হবে। তবে সব কিছুই শিল্প মন্ত্রণালয় করবে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, সৌদি আরবের আল শাহিন মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ সৌদি আরবে প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালে শীর্ষ কোম্পানি। কোম্পানিটি ১৯৭৮ সাল থেকে স্টিল স্ট্রাকচার ভবনের যন্ত্রাংশ উত্পাদন ও রফতানি করে আসছে। সৌদি আরবের বাইরে বেশ কয়েকটি দেশে স্টিল স্ট্রাকচার শিল্পে বিনিয়োগ রয়েছে কোম্পানির।

এর আগে ২০১৬ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বিনিয়োগের আগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশে আসে সৌদি আরবভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জামিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেডের গাজীপুরের কারখানা পরিদর্শন করলে বিনিয়োগের জন্য যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। তবে তারা ন্যাশনাল টিউবসে সরাসরি বিনিয়োগ না করে নিজেদের পণ্য বিক্রিতে ন্যাশনাল টিউবসের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে চায়। আর এতে একমতে পৌঁছতে পারেনি সরকার।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ন্যাশনাল টিউবস। এ সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ২ টাকা ২৬ পয়সা। ২০১৫ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় ন্যাশনাল টিউবস। ২০১৪ হিসাব বছরে ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর (প্রথম) প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ১ টাকা ৪৩ পয়সায়, যেখানে আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ৭১ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ২৮৬ টাকা ৮৫ পয়সা।

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে সর্বশেষ ১৫৩ টাকায় ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার হাতবদল হয়। দিনভর শেয়ারের দর ১৪৯ টাকা থেকে ১৫৮ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। সমাপনী দর ছিল ১৫২ টাকা ২০ পয়সা। এদিন মোট ৩ হাজার ৫৭৭ বারে কোম্পানিটির ৩৮ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪টি শেয়ার লেনদেন হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ১৫৮ টাকা ও সর্বনিম্ন ৭২ টাকা ২০ পয়সা।

জানা গেছে, গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত ন্যাশনাল টিউবসের কারখানায় বর্তমানে তিনটি ইউনিটের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৪৫ হাজার টন। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটে ছয় হাজার টন এপিআই স্টিল পাইপ, দ্বিতীয় ইউনিটে নয় হাজার জিআই পাইপ ও তৃতীয় ইউনিটে ৩০ হাজার টন এমএস পাইপ উত্পাদন করতে সক্ষম তালিকাভুক্ত সরকারি কোম্পানিটি।

তবে পণ্যের চাহিদা হ্রাসসহ নানা কারণে সর্বশেষ হিসাব বছরে মাত্র ৭ হাজার ৫০০ টন পণ্য উত্পাদন করেছে কোম্পানিটি। ২০১৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা মুনাফা দেখায় কোম্পানিটি। তবে ২০১৫-১৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে নিট ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৪ টাকা লোকসান দেখিয়েছে ন্যাশনাল টিউবস।

ব্যক্তিমালিকানায় ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল টিউবস ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় যায়। পরবর্তীতে কোম্পানিটি ১৯৮৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ২৩ কোটি ৭৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

রিজার্ভ ৫৪৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। বর্তমানে কোম্পানির দশমিক ৬৯ শতাংশ শেয়ার এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, বাংলাদেশ সরকার ৫১ শতাংশ, প্রতিষ্ঠান ১৭ দশমিক ২২ ও বাকি ৩১ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here