ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের আইপিও আবেদন ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে

0
4077
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বীমা নিয়ন্ত্রকদের পক্ষ থেকে আর কোনো বাধা নেই। কোম্পানিকে দেয়া এক চিঠিতে অবস্থান পরিষ্কার করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
যে কারণে বিএসইসি আবারো বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সকে আইপিও অনুমোদন দিয়েছে। বিএসইসির ৫৬৪তম সভায় সোমবার আবারও কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া হয়। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
এরআগে গত ২৯ জুন ২০১৫ সালে আইপিও স্থগিত করা হয়েছিল। কোম্পানিটির আবেদন গ্রহণ শুরু ১৭ ফেব্রুয়ারি  এবং চলবে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত ।

জানা গেছে, অনুমোদন ছাড়া শেয়ারবাজারে যেতে চাওয়ায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ১২ পরিচালককে জরিমানা করেছে আইডিআরএ। ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করতে কোম্পানির পর্ষদকে চিঠি পাঠায় আইডিআরএ।

এছাড়া কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সানা উল্লাহ অন্তত চার মাসের জন্য এ কোম্পানিতে কাজ করতে পারবেন না। কোম্পানি সচিব মাসুদ রানা ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ফিরোজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এ প্রসঙ্গে আইডিআরএ সদস্য জুবের আহমেদ খান বলেন, আমাদের অনুমোদন না নিয়ে শেয়ারবাজারে যেতে চেয়েছিল কোম্পানিটি, যার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন কোম্পানিটির আইপিওতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কোম্পানিটিকে চিঠি দিয়ে তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেত মজুমদার বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার চিঠিটি আমরা পেয়েছি। এখন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নিয়মেই আমাদের কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হবে।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে বিএসইসির কাছ থেকে আইপিওর মাধ্যমে  শেয়ারবাজার থেকে ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমোদন পায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স। তবে আইডিআরএর আপত্তির মুখে পড়ে আইপিও  প্রক্রিয়া স্থগিত করে বিএসইসি।

জানা যায়, প্রতিষ্ঠাকালীন তিন উদ্যোক্তাকে সরিয়ে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানির বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ইচ্ছামতো কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ও পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন আরেক উদ্যোক্তা এমএফ কামাল।

একই সঙ্গে কোম্পানির ২০ শতাংশ শেয়ার তার হলেও প্রকাশিত প্রসপেক্টাসে তাকে শুধু শেয়ারহোল্ডার হিসেবে দেখানো হয়েছে। বাকি দুই প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তাকেও একইভাবে কম শেয়ার দেখিয়ে পরিচালক পদ থেকে বাদ দেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থায় এমএফ কামাল আরো অভিযোগ করেন, কোম্পানির ৩৬ ভাগ শেয়ারের মালিক মেঘনা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ও তার পরিবার। অথচ তিনি আইপিও প্রসপেক্টাসে নিজেকে কোম্পানির প্রধান শেয়ারহোল্ডার বলে উল্লেখ করেছেন। কোম্পানির তিন উদ্যোক্তা-পরিচালককে বাদ দিয়ে পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছেন নিজের দুই মেয়েকেও।

এদিকে আইডিআরএর অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন বাড়ালেও এর জন্য তাদের অনুমোদন নেয়নি। এছাড়া কোম্পানির সংঘ স্মারক ও সংঘবিধিতে উল্লেখ করা মূলধনের সঙ্গে আইপিওর প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত মূলধনের মিল নেই। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আইডিআরএর পক্ষ থেকে বিএসইসির কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

এরপর বিএসইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোম্পানি ও এর ইস্যু ম্যানেজার তাদের কাছে যে নথিপত্র জমা দিয়েছিল, তার ভিত্তিতেই আইপিওর অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে বিএসইসির কিছু করণীয় নেই। বীমা আইন লঙ্ঘন করে থাকলে কোম্পানির বিরুদ্ধে আইডিআরএ ব্যবস্থা নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় আইডিআরএ। এর পর বিএসইসিতে আইপিওর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করে কোম্পানিটি, যার পরিপ্রেক্ষিতে একপর্যায়ে আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিত করে বিএসইসি।

পেছনের খবর : আইপিওতে আসছে সেই বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স

আরো খবর : বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্সের ‘আমলনামা’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here