‘নো ডিভিডেন্ট’ গুজবে হতাশ!

0
1523

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পাসের পর থেকেই পুঁজিবাজারে টানা পতন প্রবণতা বিরাজ করছে। তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানি নগদ লভ্যাংশ দেয়ার পরিবর্তে আগামীতে ‘নো ডিভিডেন্ট’ ঘোষণা করবে ছড়িয়ে পড়েছে এমন গুজব। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের দুরাবস্থায় নতুন করে গুজবে বিনিয়োগকারীদের মাঝে হতাশার জন্ম নিয়েছে।

এছাড়াও গ্রামীণফোনের দেনা-পাওনা নিয়ে বিটিআরসির সঙ্গে দ্বন্ধ এবং পিপলস লিজিং কোম্পানির অবসায়ন ঘোষণায় নতুন করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। টানা পতনে পুঁজিবাজারে এরই মধ্যে পৌনে ২৮ লাখ বিনিয়োগকারী সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ফলে নতুন করে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

বাজেটে বলা হয়, নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে বোনাস শেয়ার বিতরণের প্রবণতা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রত্যাশিত লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ জন্য বাজেটে বোনাস লভ্যাংশের ওপর কোম্পানিগুলোর জন্য ১০ শতাংশ কর ধার্য করা হয়েছে। এতে বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ প্রদানে নিরুৎসাহিত হবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিলে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। এমন নিয়ম করায় নগদ লভ্যাংশ দেবে না কোম্পানিগুলো বরং ‘নো ডিভিডেন্ট’ লভ্যাংশ ঘোষণা করার আশঙ্কা রয়েছে।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, পুঁজিবাজারের উত্থান-পতনে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো অবদান ৪০ শতাংশ। সম্প্রতি খেলাপি ও মন্দ ঋণের পাহাড়ের খবরে এ খাতে শেয়ার উত্থানের বিপরীতের দরপতন হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা এবং তারল্য সংকটও বাড়ছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট ও তারল্য সংকটের কারণে বাজারে দরপতন হচ্ছে। বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য বেশ কিছু প্রণোদনা দেয়া হলেও তারল্য বাড়েনি। বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট কেটে শেয়ারবাজার ভালো হতে সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, বাজেটে রিজার্ভের কর সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা যুগান্তকারী।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের জন্য যেসব সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। আর এগুলো বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে বাজার অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here